সর্বশেষ আপডেট : ২১ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাহাড়ী ছড়ার পানি প্রবাহ নিশ্চিত করুন

নোমান আহমদ ::

কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরায় রয়েছে অনেক পাহাড়ী ঝর্না বা ছড়া। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা এসব পাহাড়ী ছড়ার প্রবাহমান পানি গিয়ে পড়ছে হাকালুকী হাওরে । পাহাড় থেকে নেমে আসা এসব ছড়ার নামও খুব চমৎকার। ভাটেরায় আছে এমন কয়েকটি ছড়ার মাঝে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল, গাগরা, বোবাছড়া, ফুলছড়া, হাতি ছড়া, কাঞ্চনছড়া ও কোমানালা। বাহারীনামের ছড়াগুলোর পানি দিয়ে শুকনো মৌসুমে হাকালুকি হাওরে ব্যুরো ধানের আবাদ হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য পানি প্রবাহপদে পদে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

বাবুরগুল ও রাউৎগাওঁ চক মৌজার অন্তর্গত রয়েছে কয়েকশ কৃষকের আবাদী জমি। বোবা ছড়ার পানি দ্বারা এ জমিগুলো আবাদ হয়ে থাকে। কিন্তু খামাউড়া গ্রামের একটি যায়গা থেকে দীঘিরপাড় পর্যন্ত বোবা ছড়ার উপর মোট ৫ টি বাধঁ দিয়ে ব্যক্তিগত রাস্তা নির্মাণ করে পানির প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। এতে শুধু ছড়ার পানি প্রবাহ বন্ধ থাকেনি বরং অন্য দিকে প্রবাহিত হয়ে চলমান ছড়াটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এই অবস্থা চলমান থাকলে ছড়ার পানির উপর সম্পুর্ণ রুপে নির্ভরশীল কয়েক হাজার একর ভূমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। আবার এই সুযোগে ছড়ার পার্শ¦বর্তী অনেকেই চাইবে ছড়ার পাশ দখল করে ভোগ করতে। বোবা ছড়ার প্রবাহিত হয়েছে ভাটেরা রাবার বাগান, কলিমাবাদ, দক্ষিণভাগ, তুলাপুর ও শরিফপুরের মধ্য দিয়ে। এর পানি স্বচ্ছ ও শীতল। এর আশপাশের প্রায় অধিকাংশ মানুষ বোবাছড়ার পানিতে গোসল ও গৃহস্থালীর কাজ সারেন। একসময় এর পানি খুব সুপেয় ছিল বলেও জানা যায়। কিন্তু এখন ভাটেরা গ্যাসক্ষত্র ও রাবার বাগানের দূষিত বর্জ্য বোবাছড়ার পানিতে ফেলায় তা ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদাসীন।

একই দশা ফুলছড়ার কপালেও। পাহাড় থেকে নেমে আসা এ ছড়া প্রবাহিত হয়েছে ভাটেরা রাবার বাগান, খারপাড়া ও বড়গাঁওয়ের বুক চিরে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে এর গতিপথ রোধ করা হয়েছে, করা হয়েছে দখল প্রতিযোগিতামূলক ভাবে। একই অবস্থা গাগরা ছড়ারও। এসব ছড়ার কোথাও কোথাও অবৈধভাবে ভরাটর করে অনেককে গাছ লাগাতেও দেখা গেছে।এ ছড়াদ্বয়ের পানি দিয়ে চাষ হয় বড়গাঁও, রাধানগর, মাইজহগাঁও, নওয়াগাঁও সহ আরও কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের আবাদী জমি। যদি এভাবে পাহাড়ী ছড়ার গতিপথ রোধ ও পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ করা হয় তাহলে হাকালুকী হাওরের কয়েক হাজার একর জমি হয়ে পড়বে বোরো চাষের অনুপোযোগী। তাই এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পাহাড়ী ছড়া দখলের বিরুদ্ধে সোচ্ছার হোন। হাকালুকি হাওর ও কৃষকদের বাঁচাতে এখনই সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এতে হাকালুকি হাওর শুকনো মৌসুমে থাকবেনা পানিশূন্য। বাঁচবে হাওর, বাঁচবে কৃষক।

 




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: