সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ফিরোজা বেগমের ঠোট দেখে দেখে গান শিখতাম’

বিনোদন ডেস্ক:: গান ভালবাসেন হৃদয় থেকে, চর্চাটা নিত্যদিনের অভ্যাস, কাজ করেন নিভৃতে, তবে মানের বিষয়ে চুলচির পরিমাণ ছাড় দিতে নারাজ। রক্তে বইছে পারিবারিক ঐহিত্যের সঙ্গীত ধারা, কণ্ঠে মায়া আর দৃষ্টিতে বাংলা গান সমৃদ্ধের আহবান-মানুষটি সুস্মিতা আনিস। একজন নজরুল সঙ্গীত শিল্পী, আধুনিক গানেও রয়েছে তার অসামান্য ভালবাসা, জড়িয়ে আছেন ব্যবসায়।
জন্মের পর কথা বলতে শেখার আগেই সান্নিধ্য পান নজরুল সঙ্গীতের কিংবদন্তী ফিরোজা বেগমের। সঙ্গীতচর্চা, একান্ত ভাবনা আর সমকালীন ব্যস্ততা নিয়ে এই জনপ্রিয় সঙ্গীত তারকা গল্প করলেন।
সব মিলিয়ে এখনকার ব্যস্ততা-
যেহেতু ছোটবেলা থেকে গান নিয়ে পড়ে থাকা, এজন্য এখনো এর চর্চা ছাড়তে পারিনি। আমার কাছে এটা অক্সিজেনের মতো।  সবকিছুর পরও আমাকে এটি রেগুলারই করতে হয়। অনেক কষ্ট করে নিজেকে ম্যানেজ করছি, মূলত বেটার টাইম ম্যানেজ করে নিজের জন্য সময় বের করে প্রাকটিস করছি। এখন এই ইন্টারনাল গাইডটা এসেছে মাইন্ড সেটআপ থেকে, আর সেটা পেয়েছি ফুফুর কাছ থেকে।
আপনার গানে হাতেখড়ি ৫ বছর বয়সে। ‘নতুনকুঁড়ি’-তে ১৯৭৬ সালে নজরুল সংগীতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ বছর ধরেই নজরুল সংগীত চর্চা ও সাধনার মধ্যে আছেন। আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া নজরুল সঙ্গীতের লিজেন্ড ফিরোজা বেগম, উনার কাছে সঙ্গীতে তালিম নেন। ফিরোজা বেগমের সঙ্গে আপনার শৈশব স্মৃতি যদি একটু বলেন-
আমার বয়স যখন মাত্র ৩ বছর, অনেক ছোট, ফুফু তখন কোলকাতা থেকে একেবারে চলে আসেন, আমি তো উনার ছোটভাইয়ের মেয়ে। উনারা আমাদের বাসায় উঠেছিলেন। এতো ছোটকাল থেকে, যখন আমি কথা বলতে পারতাম না তখন থেকেই আমার সঙ্গে ফুফুর বন্ডিং হয়েছিল।উনার কোন মেয়ে ছিল না যে জন্য আমাকে অনেক আদর করতেন। আমার মনে নেই, ফুফুর থেকে গল্প শুনেছি, উনি যখন গান করতেন আমি তখন ঘরের কোনা দিয়ে উকি মেরে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম। উনি যখন গলা সাধতেন আমি তখন উনার ঠোটের দিকে হা করে চেয়ে থাকতাম, তখন কিন্তু আমি কথা বলতে পারতাম না। তারপরে উনার ঠোট দেখে দেখে আমি গান করা শিখি। আরো বড় হলে একটা গানের খাতা নিয়ে নিজেই লিখে দিতেন, তখনও কিন্তু আমি পড়তে পারিনা। ৫ বছর বয়সে গানে হাতেখড়ি বলা হয় ফরমালি, আসলে কত বছর বয়সে আগে সেটা বলতে পারবো না। আমার বাবা-মা আমাকে উনার(ফিরোজা বেগম) বাসায় নামিয়ে দিয়ে বাইরে চলে যেতেন। এরপর আমার সামনে বসে গান করতেন ফুফু, আমি তখন ঠোট দেখে দেখে গান শিখতাম। এভাবেই আমার শেখার শুরু। এভাবেই চলেছে, নিজের সাথে উনাকে আলাদা করতে পারিনা, উনি আমার ভিতরে ঢুকে গিয়েছেন।
গ্রাফিক ডিজাইনে পড়াশোনা করেছেন। ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং ব্যবসাকে ক্যারিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেন। ভাললাগার সঙ্গীত এবং অফিস, দুটোই কিভাবে নিজেকে তাল মেলাচ্ছেন?
২০০৯ সালে যখন চলে আসি তখন আমার ফুফু বেঁচে ছিলেন, বাইরে থাকলেও পারফর্ম করতাম, চর্চা করে গেছি। প্রতি বছর যখন দেশে আসতাম, টানা তিনমাস উনার কাছে ট্রেনিং করতাম। দেশে এসে টানা ৬ বছর পেয়েছি, উনি তখন বললেন তোমাকে আমি ফিনিশিং টাস্ক দিব। তখন আমার গোল ছিল, আমি কাজ করবো এবং অফিস শেষ করে উনার বাসায় চলে যেতাম। ঐ ৬ বছর অনেক কষ্ট করে, কাজের বাইরে নিজেকে টেনে নিয়ে গেছি। যেটা এখনো করছি, এভাবেই চলছে।
কলকাতার রাগা মিউজিক ১৯৯৮ সালে আপনার আধুনিক বাংলা গানের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে। নজরুলের গান নিয়ে সুস্মিতার প্রথম অ্যালবাম ‘চাঁদ হেরিছে চাঁদ মুখ তার’ কলকাতা থেকে বের হয় ২০০২ সালে। ২০০৬ সালে পুরনো দিনের গান দিয়ে করেন ‘সেই সুর সেই গান’। ২০০৭ সালে আসে মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘ইচ্ছে নূপুর’। এই যে দীর্ঘবছরের সঙ্গীত চর্চা আপনার। দেশে অনেক তরুণ এখন মিউজিক করছেন, আসছেন, এগুলো দেখে কী মনে হচ্ছে, গানই বা কতটুকু হচ্ছে বলে মনে করছেন-
অনেক সুন্দর সুন্দর গান হচ্ছে। সঙ্গীত অনেক বড় একটি বিষয়। আমি যেহেতু ট্র্যাডিশনাল মিউজিকের জায়গা থেকে এসেছি, পুরনো আধুনিক গান আমার অনেক পছন্দের, কমল দাসগুপ্তের গান আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। আমি নজরুল সঙ্গীত এবং তার পাশাপাশি আধুনিক বাংলা গান এবং বাংলা গানের বর্তমান সংস্করণ সব গান কিন্তু শুনি। বিশ্বের সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম তাল মেলাক, সেইসঙ্গে আমি চাইবো বাংলা গানটার প্রসার বাড়ুক। গ্লোবাল এক্সপেরিমেন্ট করুক, তবে চর্চা করতে হবে। আমার মনে হয় এই একটা জায়গায় কিছুটা অভাব রয়েছে। চর্চার কোন শর্টকাট উপায় কিন্তু নেই, এটা মাথায় রাখতে হবে।
২০১৫ সালে প্রকাশ করেন নজরুল সঙ্গীতের মিউজিক ভিডিও অ্যালবাম ‘এসো হে সজল শ্যাম ঘন দেয়া’। এরমাঝে আরো কিছু গান নিয়ে হাজির হয়েছেন। কিন্তু সবশেষ সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে প্রকাশিত ‘কেউ জানুক আর না জানুক’ গানটি। গানটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যতদূর জানি ৫ মিলিয়ন প্লাস মানে ৫২ লাখের বেশি সংখ্যক মানুষ এটা ইউটিউব থেকে দেখেছে। এই ব্যাপক সাড়া প্রাপ্তির পিছনে কারণ কী বলে মনে হয়?
দর্শক-শ্রোতারা পছন্দ করেছে বলে আমার মনে হয়। এটা তো আধুনিক গান, গানটার পুরো কনসেপ্টের শুরু থেকে আমি ছিলাম, কারণ এটি হচ্ছে একটি সত্যি ঘটনা, মনে হয় এজন্য মানুষকে টাচ করেছে। আমি যখন অদিত ভাইয়ের সঙ্গে গানটি তৈরি করি তার আগেই বলেছিলাম কনটেন্টটা যাতে ফিলিংয়ের ক্ষেত্রে বাস্তব হয়। চেয়েছিলাম একটু গূঢ় ভাবনা থেকে এটি নিয়ে ভাবুক এটি চেয়েছিলাম, এভাবেই গানটির গল্প। ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম, মানুষকে স্পর্শ করবে, শেষপর্যন্ত তা পেয়েছি। অদিত ভাই সুন্দর করে সুরটা দিয়েছেন, একটু হালকা ক্লাসিক্যাল চেয়েছিলাম, ওটাও কিন্তু উনি দিয়েছেন।এরসঙ্গে শোয়েব ভাইকে অ্যাটাচ করলেন। আর অংশু ভাই এটাকে এতো সুন্দরভাবে ধারণ করলেন। এটা আমার জন্য অবশ্যই ভালকিছু।
দর্শনের জায়গা থেকে মিউজিককে কিভাবে দেখেন?
মূলত মিউজিক হলো শিল্প, শ্রবণ শিল্প। গান এমনই একটি শিল্প যেটি আসলে হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। এই শিল্প আপনার ভাষা বলে দিচ্ছে। ফুফু বলতেন এক একটা গান হচ্ছে একেকটি শিল্পের অংশ। আমি যদি নিজে নিজের ভেতরে অনুভব না করতে পারি যাকে শোনাচ্ছি সে কিভাবে এটাকে অনুভব করবে! আমি সেই গানই ভালবাসি, যেটি আমার ভেতরকে টানে। এজন্য আমি সব গান করিনা। নিজস্ব আইডিওলজি হলো, যে গান আমাকে টানে কেবলই সেটিই আমি করি। আল্লাহ আমাকে যতটুকু দিয়েছেন তাতেই আমি সন্তুষ্ট। আমার সার্থকতা সেখানেই যদি একটি মানুষকে আমার গান অনুভব করাতে পারি।
বিজয় দিবসে ‘এ প্রাণ আমার বাংলাদেশ’ শিরোনামে দেশাত্মবোধক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গেল ডিসেম্বরে ‘তোমার আকাশ’ শিরোনামের নতুন গান নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিউজিক ভিডিওতে তানজিন তিশার সঙ্গে এখানে নিয়ে আসছেন একজন নেপালি অভিনেতাকে। সোহেল আরমানের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অদিত রহমান। মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন আগের মতোই তানিম রহমান অংশু। জানতে চাই এবারের প্রত্যাশা কতটুকু কী-
দারুণ কথায় সাজানো গল্প। একটি ভালবাসার গান, অদিত রহমানের করা সুরটাও পছন্দ হয়েছে। তরুণী মনের স্বপ্ন-ভাবনা-ভালোলাগাই গানটির বিষয়বস্তু। সেই ভাবনাকে দৃশ্যায়ন করা হয়েছে, কাজটি বেশ ভালমতোই করেছেন তানিম রহমান অংশু। মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যায়ন দারুণ লোকেশনে হয়েছে, গানটির শুট করতে করতে আমরা নিজেরাই হারিয়ে গেছিলাম যেন। খুব শিগগিরই গানটি রিলিজ করবো, তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সবকাজ মূলত শেষ-পর্যায়ে। একটুকু বলবো, দর্শক-শ্রোতারা এখানে ভাল কিছু খুঁজে পাবেন।
ইত্তেফাক/এমএআর
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: