সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পদ্মার ওপারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে সংশয়

নিউজ ডেস্ক::

পদ্মার ওপারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিমানবন্দর নির্মাণে ইতোমধ্যে সমীক্ষায় চিহ্নিত স্থানগুলো ‘যথাযথ উপযোগী’ না হওয়ায় এ সংশয় দেখা দেয়। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আরও সমীক্ষা করতে বলা হয়েছে। একটু ফাঁকা ও বিমান ওঠানামার মতো মজবুত জায়গা পেলে বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে।

বর্তমান সরকার আগের মেয়াদে ২০১১ সালে মুন্সীগঞ্জের আড়িয়ল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয়দের সহিংস প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করে সরকার। পরে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনে গঠিত সেল তিনটি স্থানে বিমানবন্দর তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে। জনবসতি ও কৃষিজমি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেসব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। পরে জাপানি প্রতিষ্ঠান নিপ্পন কোই লিমিটেড বিমানবন্দর স্থাপনে সমীক্ষা যাচাই শেষে মাদারীপুরের শিবগঞ্জের চরাজানাযাত, মুন্সীগঞ্জের সিরজাদিখানের কিয়াইন ও ঢাকার দোহারের চর বিলাশপুরকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করে। সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মধ্যে চিহ্নিত জায়গাগুলো দেখানো হয়।

জানা গেছে, পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার সময় চিহ্নিত এই জায়গাগুলোর মধ্যে চর এলাকা কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া অন্য একটি জায়গা ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখানেও বিমানবন্দর স্থাপনে প্রধানমন্ত্রী সায় দেননি।

বুধবার সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিমানবন্দর স্থাপনের প্রসঙ্গ এলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও ওই সংশয়ের বিষয়টি উঠে আসে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘পদ্মার সেতুর ওপারে চর জানাজাতসহ ওই এলাকায় একটা বিমানবন্দর করবার জন্য সমীক্ষা চালাচ্ছি। তবে, এখানে আমাদের অসুবিধাটা হলো যেহেতু চর জানাজাত হচ্ছে একটি চর। এই চরে বিমানবন্দরটা নিতে পারবে কিনা সেখানকার মাটির সেই শক্তি আছে কিনা তার ওপর সমীক্ষা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন,‘বাংলাদেশ এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।এখানে নতুন একটা কিছু করতে গেলেই সমস্যা হয়ে যায়। যে জায়গাগুলো সমীক্ষা করে বের করা হয়েছে সেখানে প্রচুর মানুষের বসবাস। সেখানে এতগুলি মানুষ ওখান থেকে সরিয়ে বিমানবন্দর করা সমীচীন হবে বলে আমি মনে করি না। এজন্য আমরা আরও সমীক্ষা চালাচ্ছি―যেখানে একটু ফাঁকা ও বিমানবন্দর হওয়ার মতো মজবুত জায়গা পাবো,যেখানে বিমান ওঠানামা করলে ক্ষতি হবে না তা দেখছি। এই সমীক্ষা যদি সফল হয় তাহলে নিশ্চয়ই ওপারে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আমরা করবো।

ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছিল। ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে আমরা সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে উন্নত করে আন্তর্জাতিক করে দেই। এখন লন্ডন থেকে সিলেটে সরাসরি বিমান আসে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকেও সরাসরি বিদেশে বিমান যেতে পারে।

তিনি বলেন, বেশি যাত্রী ও বিমান আসার বিষয়টি চিন্তা করে আমরা ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দরে ৩য় টার্মিনাল নির্মাণ করার পদক্ষেপ নিয়েছি। কক্সবাজার বিমানবন্দর আমরা ‍উন্নত করছি। এর রানওয়ে আরও বড় করে দিচ্ছি। যাতে আরও বড় বিমান নামতে পারে। এটাও একসময় আন্তজার্তিকভাবে প্রাচ্য ও পাশ্চত্যের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারবে।

পদ্মার ওপারে বিমানবন্দর নির্মাণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক বিমান মন্ত্রী (বর্তমানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী) রাশেদ খান মেনন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে সমীক্ষায় চিহ্নিত স্থানগুলো দেখিয়েছি। তিনি সংসদে যেটা বলেছেন আমাদের কাছেও সেই ধরনের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমানবন্দর নির্মাণের অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। আর চর এলাকা টেকসই হবে কিনা তার জন্য আরও সমীক্ষা করতে বলেছেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: