সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ডিআইজি মিজানের নারী কেলেঙ্কারী : তদন্ত কমিটি হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক::

প্রথম বিয়ের খবর গোপন করে অস্ত্রের মুখে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ভাড়া ফ্ল্যাটে ৪ মাস সংসার করার পর পুলিশ কর্মকর্তার সাজানো মামলায় জেলও খাটতে হয় ওই তরুণীকে। এমনকি জোর করে বিয়ে আর নির্যাতনের খবর প্রকাশ করায় হত্যার হুমকিও দেন ডিআইজি মিজানুর। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ব্যাংকে চাকরির জন্য পরিচিত এক বান্ধবীর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে কথার মাধ্যমে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের সাথে প্রথম পরিচয় হয় মরিয়ম আক্তার ইকোর। এরপর থেকে প্রায়ই ফোন দিয়ে মরিয়মের খোঁজ খবর নিতেন মিজান। কথা বলার কিছু দিনের মধ্যেই মিজান অশোভন ইঙ্গিতপূর্ন কথা এবং অশোভন আচরণ শুরু করে। এ অবস্থা দেখে পুলিশ কর্মকর্তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন মরিয়ম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরণের প্রতারণা ও জবরদস্তির আশ্রয় নেন মিজান।

ভুক্তভোগী মরিয়মের অভিযোগ, গত ১৪ জুলাই মিজান তাকে ফোন দিয়ে বলেন নিজের পূর্বের আচরণের জন্য তিনি খুবই দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী। একথা শুনে মরিয়ম মিজানকে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা করে দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিজান দাবি করে, তিনি একবার সাক্ষাত করে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করতে চান। এতে মরিয়ম রাজি না হওয়ায় হুমকি দেয়া শুরু করেন পুলিশ কর্মকর্তা।

কিছুদিন পর বাধ্য হয়ে মরিয়ম পান্থপথের বাসা থেকে বের হয়ে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশ কর্মকর্তা মিজানের সাথে দেখা করতে যান। তখন কৌশলে তাকে প্রাইভেট কারে উঠিয়ে পূর্বাঞ্চলে নিয়ে যান মিজান। সেখানে সড়কের পাশে নামিয়ে সবার সামনে মারধর করা হয় মরিয়মকে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিজানের বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে।

মরিয়মের ভাষ্য, ‘আমি খুব রাফলি তার সঙ্গে কথা বলি। আমি তাকে বলি আপনি বাইফোর্স কেন আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন? তখন সে নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলে ও আমাকে মারপিট করা শুরু করে। তার কাছে আর্মস ছিলো, সেই আর্মস আমার মাথাতেই সে ঠেকায়।’

তিনি আরো জানান, ‘আমাকে টেনে-হিঁচড়ে তুলেছে লিফটে। এরপর বাসায় নিয়ে যে পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে, মারপিট করা হয়েছে, আমি তাতে সেন্স হারিয়ে ফেলি।’

স্ত্রীর সাথে ডিআইজি মিজানুর রহমান

বিয়ের পর সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মরিয়ম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন। আর সে ছবি দেখেই ক্ষেপে যান পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। এরপরই মরিয়মের উপর চলতে থাকে অকথ্য নির্যাতন। এ সময় তার নামে দেওয়া হয় মিথ্যা মামলা। মাত্র ১ মাসের মধ্যে মরিয়মকে অভিযুক্ত করে দেয়া হয় চার্জশিটও। সে মামলায় জেল খেটে বের হওয়ার পর দেয়া হয়েছে আরেকটি মামলা।

শুধু মরিয়ম আক্তার ইকোই নয়, সমাজের বেশ কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত হাইপ্রোফাইল মেয়ের জীবন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার ফাঁদে পড়ে একাধিক মেয়ের সাজানো সংসারও ভেঙে গেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। পাওয়া যায় বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের একজন সংবাদপাঠিকার সঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানের উত্ত্যক্ত বাক্যবিনিময়ের ফোনালাপের রেকর্ড। জানা যায়, অন্যান্য সেক্টর ছাড়াও তিনি গণমাধ্যমে কর্মরত বেশ কয়েকজন মেয়ের জীবনকেও কিভাবে বিষিয়ে তুলেছিলেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওই মামলার বাদী কিন্তু আমি না। একটা বাদীও আমি না। এগুলো করার পরে, তার একটা মামলা হয়েছে, জামিন হয়েছে। এরপর আবার মামলা হয়েছে, আবার জামিন পেয়েছে। এর পরবর্তীতে তার বাবা ও তার মায়ের পক্ষ থেকে কমিশনার মহোদয় ও আইজির কাছে লিখিত দেয়া হয়েছে যে অন্যের প্ররোচনায় ও রাগের বশবর্তী হয়ে এটা করেছে সে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যদি কিছু অন্যায় করে থাকেন, অনৈতিক কিছু করে থাকেন, তাহলে তো অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনের উর্ধ্বে নাকি কেউ? কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। তার অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: