সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২২ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফেলানীর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী রোববার

নিউজ ডেস্ক:: ৭ জানুয়ারি ২০১১ সালের এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দা কিশোরী ফেলানী।

দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহ। এই হত্যাকাণ্ডে গণমাধ্যমসহ বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ভারত।

ফেলানীর বাবা নুর ইসলাম জানান, দিনটি ছিল শুক্রবার। ভোর সোয়া ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে আহত ফেলানী আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এরপর সকাল পৌনে ৭টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত মৃতদেহ কাঁটাতারের উপর দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা ঝুলে থাকে। পরে বিএসএফ সদস্যরা লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর ৮ জানুয়ারি শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।

 

বাংলাদেশে আর এক দফা ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন হয় ৭৩ ঘণ্টা পর। মানাধিকার সংস্থাগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন কুড়িগ্রামে এসে ফেলানীর মা ও ভাই-বোনদের ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে বিকেলে নিহত ফেলানীর মা ও ভাই-বোনদের বাংলাদেশে ফেরত দেয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম জানান, হাতে মেহেদী রাঙাতে যে কিশোরী মেয়েকে দেশে পাঠিয়েছিলাম, সেই ফেলানী বিএসএফ’র গুলিতে চির বিদায় নিয়ে শুয়ে আছে ৭ বছর ধরে। কবরের পাশে বসে হাহাকার করা ছাড়া আর আমাদের কিছুই করার নেই।

রামখানা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফেলানীর হত্যার ন্যায় বিচার না পেয়ে ফেলানীর পরিবার ও গ্রামবাসীরাও হতাশা হয়ে পড়েছে। ফেলানী হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধের জন্য ও এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ফেলানী হত্যার দায় স্বীকার করার পরেও বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বিএসএফের বিশেষ আদালত ২ বছর ৮মাস পরে বেকসুর খালাস দেয়। তবে সেই রায় যথার্থ মনে করেনি বিএসএফের মহাপরিচালক। তিনি রায় পূণর্বিবেচনার জন্য আদেশ দেন। এরপর ২ জুলাই ২০১৫ সালে বিএসএফ বিশেষ আদালত আবারও নির্দোষ ঘোষণা করেন অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে।

মেয়ে হত্যার ন্যায় বিচার পেতে ভারতের মানবাধিকার সংস্থা (মাসুম) এর মাধ্যমে ফেলানীর পরিবার একই বছরের ১৩ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ২০১ এবং ২৪৫ নং দুটি রিট করেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে শুনানি রিট আবেদন গ্রহণ করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। গত ২৫ অক্টোবর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৮ জানুয়ারি দুটি রিটের শুনানির দিন ধার্য করে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: