সর্বশেষ আপডেট : ১৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পুরুষকে বন্ধ্যাকরণের অভিযোগে নারী আটক!

নিউজ ডেস্ক::

বানারীপাড়ায় পরিবার-পরিকল্পনা অফিসে সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে মতামত না নিয়েই পুরুষদের বন্ধ্যা করার অভিযোগে এক নারী দালালকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বানারীপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেকসোনা বেগম (৪০) নামে ওই নারীকে আটক করে পুলিশ।

জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সেবা সপ্তাহ চলছে। এ সময় টার্গেট ফিলাপ করতে মরিয়া বানারীপাড়া উপজেলার একটি পৌরসভাসহ আটটি ইউনিয়নের এফডব্লিউএ সংশ্লিষ্টরা। টার্গেট ফিলাপের ক্ষেত্রে তারা টাকার বিনিময়ে এলাকাভিত্তিক পুরুষ ও মহিলা দালাল নিয়োগ করেছেন। দালালদের টার্গেট দেন একজন পুরুষ ও মহিলাকে বন্ধ্যাকরণের জন্য আনতে পারলে নগদ ৫০০ টাকা দেয়া হবে। সে অনুযায়ী হাবাগোবা পুরুষ ও মহিলার সন্ধানে দিনরাত কাজ করতে থাকেন উপজেলার উয়দকাঠী গ্রামের মৃত শহিদ হাওলাদারের স্ত্রী রেকসোনা বেগম। তিনি যখন যেখানে সহজ সরল লোক পাচ্ছেন তাকেই ওই বিষয়ে সঠিক তথ্য না দিয়ে ভুল বুঝিয়ে এফডব্লিউএর মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ চালাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানা গেছে, গত সোমবার সকালে উপজেলার সৈয়দকাঠী গ্রামের জেলে সুশীল নাটুয়া (৩২) বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে বাসযোগে এসে বানারীপাড়া স্ট্যান্ডে নামেন। এ সময় উদয়কাঠী এলাকার রেকসোনা নামের ওই নারী দালাল তার পিছু নিয়ে তাকে স্বাস্থ্য ভাল করার জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ভিটামিন ইনজেকশন, একটি লুঙ্গি ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে দেয়া হয় বলে জানান। দরিদ্র মৎস্য শিকারই সুশীল নাটুয়া ওই নারী দালালের কথা বিশ্বাস করে তার সাথে হাসপাতালে যান। সেখানে যাওয়ার পর ওইদিন বিকেল চারটায় ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ সম্পর্কে কোনো ধরনের কাউন্সিলিং বা তার ব্যক্তিগত মতামত না নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটিতে নিয়ে অপারেশন করেন। অপারেশন শেষে তাকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও শুধু ১৩০০ টাকা ও একটি লুঙ্গি দিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন তাকে ভিটামিন ইনজেকশন দেয়ার কথা বলে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে নারী দালাল রেকসোনাকে আসামি করে গতকাল সকাল ১০টায় বানারীপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওসি (তদন্ত) মো. ফারুক খান ওই অভিযোগ তদন্ত করার জন্য এসআই মোশারেফ হোসেনকে নির্দেশ দেন। এসআই মোশারেফ ওইদিন বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তদন্ত করতে যান। এ সময় তার তদন্তে বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল। তিনি জানতে পারেন, মাছ শিকারি সুশীলকে বন্ধ্যাকরণ করার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেয়া রেকসোনা সৈয়দকাঠী এলাকার এফ.ডব্লিউ.এ শারমিন আক্তারের দালাল এবং সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই রয়েছেন। রেকসোনা বেগম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাথরুমে পালিয়ে থাকেন। পুলিশ ওই বাথরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সে বাথরুম থেকে বাইরে বেড়িয়ে আসলে পুলিশ আটক করে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: