সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাওরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমেই শুরু হয় নদী,খাল আর ভাঙ্গা সড়ক পথে ইজারাদারদের দৌড়াত্ব

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমেই শুরুর সাথে সাথেই নদী,খাল আর ভাঙ্গা সড়ক পথে শুরু হয়েছে ইজারাদারদের দৌড়াত্ব। প্রতি বছরের মত এবারও তারা ছোট ছোট নদী,খাল ও ভাংঙ্গা ছুড়া সড়ক মেরামত করে ও নদীতে নৌকা দিয়ে খেয়া পারাপাড়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। জেলার জামালগঞ্জ,বিশ্বাম্ভরপুর,ধর্মপাশা,তাহিরপুর,শাল্লা,ছাতক,দোয়ারাবাজার,দিরাই,বিশ্বম্ভরপুর,মধ্যনগর থানাসহ ১১টি উপজেলার হাওর ও সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সড়ক বর্ষায় পানির ঢলে সড়ক পথে ভেঙ্গে যাওয়ায় পথে পথেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভুগান্তির শিকার হয় স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐ সব এলাকার লোকজনদের প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নামে বেনামে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগন বিভিন্ন নদী ও খাল নাম মাত্র লিজ দিচ্ছে। বিশেষ ক্ষেত্রে উপজেলা বা জেলা থেকে লিজ আনছে স্থানীয় ইজারাদারগন। তাও চেয়ারম্যান ও ম্বোরগনের সহযোগীতায়। আর সামান্য বাঁশের চাঁটাই বিছিয়ে মসজিদ,মাদ্রাসা ও মন্দিরের নাম দিয়ে টোল আদায় করছে। সরকারী নিয়মনীতি তুয়াক্ষা না করেই। আর সরকারী ভাবে সঠিক তদারকির না করার কারনে ইজারাদারদের দৌরাত্ব বেড়েই চলছে দিন দিন।

জানাযায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমে সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে মটর সাইকেল। মটর সাইকেল দিয়ে তাহিরপুর-মধ্যনগড়-ধর্মপাশা ৪০কিলোমিটার সড়কে চলাচল করতে গিয়ে ৪টি ছোট ছোট নদী নৌকা ও বাঁশের সাকো দিয়ে পাড়ি দিতে চালক ও যাত্রীদের আর দিতে হচ্ছে ১৬০টাকা। খেয়াঘাটের পারাপাড়ের মূল্য তালিকার বড় বড় অক্ষরে সাইনবোর্ডে লিখে ঝুলানোর নিয়ম থাকলেও তা এখানে তা কেউ মানছে না,ইচ্ছে মত টোল আদায় করছে। ফলে প্রতিদিনেই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই আছে। এ নিয়ে সবার মাঝে চরম ক্ষোবের সঞ্চার হচ্ছে। আরো জানাযায়,জেলার তাহিরপুর উপজেলায় নদী ও সড়ক পথে ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ও নদী পথে সময় বেশি লাগার কারনে শুষ্ক মৌসুমে তাহিরপুর-মধ্যনগড়-র্ধমপাশা ভাঙ্গা চুড়া সড়ক দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের লোকজন পায়ে হেঠে ও অর্ধশতাধিক ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল দিয়ে চলাচল করে। এই সড়কের দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের সেলাইমানপুর,পাটাবুকা-লামাগাঁও বাজার দিয়ে মধ্যনগড় থানা,ধর্মপাশা উপজেলা,ময়মনসিংহ বিভাগের মহনগঞ্জ উপজেলায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অর্ধশতাধিক মটর সাইকেল। উপজেলা সদর থেকে দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা-লামাগাঁও মটর সাইকেল ভাড়া-২০০টাকা,তাহিরপুর-মধ্যনগড়-৪৫০-৫০০টাকা ও ধর্মপাশা-৬-৭শত টাকা। এই সড়কে সুলেমানপুর বাজারের পূর্ব দিকে ১টি বাঁশের চাটাই ও বাজার পাড়ি দিয়ে পশ্চিমে দিকে পাঠলাই নদীতে খেয়া নৌকা,কাইত কান্দা,২৮শা মাছিমপুর খেয়া ঘাট। এই ৪টি খেয়া ঘাটে প্রতিটি খেয়ায় পাড় হতে মটর সাইকেল ডাইভার ও ২জন যাত্রীকে ২০টাকা করে ৮০টাকা ও আসতে ২০টাকা করে ৮০টাকা মোট ১৬০টাকা টোল দিতে হয়। কিন্তু জেলা ও উপজেলা নির্ধারিত ভাড়া জন প্রতি ১টাকা,মোটর সাইকেল ৫টাকা,গরু-ঘোড়া ১০টাকা,২০কেজির মালামালের উপড়ে ভাড়া আদায়ের নিয়ম থাকলে ও তা কেউ মানছে না। জন প্রতি ১টাকার স্থলে ৫টাকা,৫টাকার স্থলে ২০টাকা,১০টাকার স্থলে ২৫-৩০টাকা আদার করছে যেন দেখার কেউ নেই।

এছাড়াও প্রতিটি খেয়া ঘাটে ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে টাকা দিতে বাধ্য করে ইজারাদারদের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত লোকজন। অনেকে নিজেদের সর্ম্মান রক্ষার্থে কোন কথা না বলে টাকা দিয়ে চলে যান। তাহিরপুর-মধ্যনগর-ধর্মপাশা সড়কে চলা চলকারী ডাইভার ও যাত্রীগন সহ অনেকেই ক্ষোবের সাথে জানান-বেশী লাভের আশায় বর্তমানে এই ইজারা প্রথা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও এলাকার প্রভাবশালী লোকজন এতে যোগ হচ্ছে। এতে করে তারা প্রতিযোগীতার মাধ্যমে কম মূল্যের খেয়াঘাট বেশি মুল্যে ইজারা নিচ্ছে।

এদিকে সরকার লাভবান হলেও আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। পূর্বে দেখা যেত যারা নদীর খেয়া পারাপারের ইজারা নিত তারা মেতর বা মুছি শ্রেনীর লোক ছিল। তারা ৫-১০হাজার টাকা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান ও মেম্বার কে দিয়ে ম্যানেজ করে নৌকা দিয়ে পারাপার করত তখন সর্বস্থরের জনসাধারনের এমন দূর্ভোগ পোহাতে হয় নি। খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় কারীদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব জানান-প্রতিটি খেয়াঘাটে নির্ধারীত পরিবহনের টোল সাইন বোর্ডে লিখে টানানো হলে খেয়াঘাটে দায়িত্বে থাকা লোকজন ভাড়া বেশী নিতে পারবে না। সরজমিন পরিদর্শন করে সকল খেয়াঘাটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: