সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জে দুম্বার মাংস লুটেপুটে নিয়েছে প্রভাবশালীরা

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা :: 
নবীগঞ্জে দুম্বার মাংস বিতরণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার অনেকটা গোপনে এসব মাংস চলে গেছে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক কিছু নেতাদের পেটে। হতদরিদ্ররা এ মাংস পাননি এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সঠিকভাবে দুম্বার মাংস বিতরণ না হওয়াতে সচেতন মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব থেকে দুস্থদের জন্য আসা দুম্বার মাংস হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। পরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমার নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসান সেগুলো দুম্বার মাংসগুলো বিতরণ করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে আসা দুম্বার মাংসের মধ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য এবারের বরাদ্দ ছিল মোট কত প্যাকেট তার সংখ্যা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মোট ১২৭ প্যাকেট মাংস এসেছে। এই বরাদ্দের মধ্যে বেশ কয়েক প্যাকেট দুম্বার মাংস বিভিন্ন নেতা এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে বিতরণ করা হয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তার মধ্যে বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গতকাল শুক্রবার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমার নির্দেশে দুঃস্থ, অসহায় দারিদ্রদের মধ্যে বিতরণের কথা থাকলেও দুম্বার মাংসের প্যাকেট গুলো নিয়ে গেছেন কতিপয় নেতা।

অনেকে অভিযোগ করেন, কিছু নেতাদেরও জনপ্রতিনিধিদের বাড়ি থেকে পাঠানো হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নের ২ প্যাকেট করে চেয়ারম্যানদের কাছে মাংস পাঠানো হয়। কিন্তু এ মাংস জনপ্রতিনিধিরা হত দরিদ্রদের কাছে বিতরণ করেননি। তারা নিজেরাই এ মাংস ভক্ষণ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ১৩টি ইউনিয়নে ৪ প্যাকেট করে মোট ৫২ প্যাকেট মাংস। নবীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৮ প্যাকেট ও ৮টি মাদ্রাসায় ৮ প্যাকেট মাংস বিতরণ করা হয়েছে। কিন্ত ১২৭ প্যাকেট মাংসের মধ্যে বাকী মাংস ৫৯ প্যাকেট মাংসের কোন হদিস মিলেনি। একটি সূত্র জানায়, প্রত্যেক ইউনিয়নে ২ প্যাকেট করে মাংস দিয়ে দালাল চক্র ও রাজনৈতিক নেতারা সে মাংস ভক্ষন করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জনপ্রতিনিধি জানান ‘ভোরে পিআই্ও (প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা) অফিস থেকে ফোন দিয়ে দুম্বার মাংস আনার জন্য বলেছিলেন। তার ইউনিয়নের জন্য মাত্র ২ প্যাকেট মাংস বরাদ্ধ করায় তিনি আনেননি। আমি তাদের এগুলো মিসকিনদের মধ্যে বিতরণের জন্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছি। পরে তারা এগুলো কাদের দিয়েছে আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে ১০ নং দেবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাবেদ আলী বলেন, আমি ৩ প্যাকেট দুম্বার মাংস পেয়েছি। এ মাংস আমি বিতরণ করে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ বিন হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, ১২৭ প্যাকেট দুম্বার মাংস বিতরণের জন্য নবীগঞ্জ থানাকে হস্তান্তর করেছি। তারা এ মাংস প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে বিতরণ করার কথা রয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা সেটা বিতরণ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মনিষ চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: