সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছলিম সৈয়দের ‘বিচিত্র ভাবনা ও টুকরো স্মৃতি’

মুনশী ইকবাল:

সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত আছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্ণাঢ্য পারিবারিক জীবনের অধিকারী ছলিম ভাই একজন শখের লেখক বলা যায়। তার ভাই বোনেরা সবাই দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের এই সোনালী সন্তান পড়ার অভ্যাস রেখেছেন বিরামহীন। প্রচুর পড়েন, পড়া থেকেই লেখার প্রতি আগ্রহ।

মূলত ফেইসবুকের জন্য পোস্ট লিখতে গিয়েই তিনি হয়ে উঠলেন একজন লেখক, তারমতে পেশাদার নয় শখের লেখক। একসময় অনুভব করলেন একটা বইয়ের। আর সেই অনুভব থেকে বেরিয়ে এলো ‘বিচিত্র ভাবনা ও টুকরো স্মৃতি’। সীমাহীন ব্যবস্থতা আর নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও তিনি যে একটা বই লেখবার সাহস করেছেন, সময় বের করেছেন এটা তার বইয়ের প্রতি বড়ো ধরনের যে একটা টান আছে তারই বহিপ্রকাশ। একজন লেখক যখন আন্তরিক টান থেকে কোনো কিছু লিখেন তখন তারমধ্যে অন্যরকম এক স্বাদ থাকে, থাকে আনন্দ। সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের বইটির বেলায়ও তা বলা যায়। বাদবাকি বিবেচনা পাঠক করবেন।

ছলিম ভাইয়ের সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক অন্য আরো কয়েকজনের মতোই কিছুটা আলাদা। আমার কাছে এখন পর্যন্ত তাকে তার অবস্থানের আলোকে যতেষ্ট বিনয়ী, অমায়িক এবং ভদ্র মানুষ বলে মনে হয়েছে। আর তাই যতো সময় গেছে তার সাথে সম্পর্ক আরো গাঢ় হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে এই ধরণের মানুষের সাথে আমি কিছুটা সম্পর্ক আলাদভাবে রক্ষা করে চলি আর এর বিপরীত ধরণের লোকদের সমানভাবে এড়িয়ে চলি। এটা আমার পারিবারিক আভিজাত্য, ব্যক্তিগত চিন্তাধারা বা মেজাজ যাই হোক। একই শহরে বাস কিন্তু দেখা সাক্ষাৎ তেমন নেই। কিন্তু মনের টান বেশ ভালোই। সেই টান থেকেই আমার আজকের এই লেখা।

নভেম্বর ২০১৭ তে বের হওয়া ছলিম ভাইয়ের ‘বিচিত্র ভাবনা ও টুকরো স্মৃতি’ বইটি আমি কয়েকদিন হলো হাতে পেলাম। সাদা অফসেট কাগজে, ঝকঝকে ছাপায় সুন্দর মলাটের বইটি দেখে বেশ ভালো লাগলো। এটা তার প্রথম বই। চৈতন্য প্রকাশ থেকে বের হওয়া প্রায় ১২৮ পৃষ্টার বইটির দাম রাখা হয়েছে ২৫০ টাকা। ০১৭১৮-২৮৪৮৫৯ এই নম্বরে যোগাযোগ করে যে কেউ বইটি চাইলে সংগ্রহ করতে পারেন। বইটি একবাক্যে কোনো বিশেষ শ্রেণীতে ফেলা যাবেনা। তবে সেভাবে বলতে গেলে এটি একটি আত্মজীবনী বা আত্মভাবনা মূলক বই বলা যায়।

লেখকের বিভিন্ন সময় লেখা ৫০ টি লেখার মধ্য থেকে ৩০ টি লেখা আলাদা আলাদা শিরোনামে তিনি এই বইয়ে স্থান দিয়েছেন। যা বেশিরভাগ এর আগে সিলেটের স্থানীয় এবং জাতীয় কোনো না কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এরমাঝে আছে স্মৃতিকথা, সমকালীন ভাবনা, ধর্মীয় আলোচনা এবং লেখকের পর্যবেক্ষন। কিছু কিছু লেখায় লেখক অনেক ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ এবং নানান তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন যা অনেক পাঠকের কাজে আসবে। আর এইসব করতে গিয়ে যে লেখককে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে তা বই দেখলেই বুঝা যাবে।
একটা প্রশ্ন মনে এসে যায় পাঠক কেনো এই বই পড়বে। এটা ঠিক সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির সেই ধরণের কোনো ব্যক্তিত্ব এখনো হয়ে উঠেননি যে লোকে তার আত্মজীবনী কিনে পড়বে বা এমনিতে দিলেও সময় করে পড়বে। ব্যক্তিগত ভাবে হয়তো তার সাথে আমার কিছুটা সম্পর্ক আছে তাই তার প্রতি আমার কিছু টান থেকে বইয়ের প্রতিও টান তৈরী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে। কিন্তু আসলে তা নয়। যারা ‘বিচিত্র ভাবনা ও টুকরো স্মৃতি’ খেয়াল করে পড়বেন তারা সেটা মানতে বাধ্য হবেন। ছলিম ভাই অনেক বড়ো কোনো ব্যক্তিত্ব নয় ঠিক কিন্তু অনেক সময় অনেক ছোট ছোট মানুষের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। এই বইয়ের বেলায় সেটাই ঘটেছে।

শাবিপ্রবির একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হবার কারণে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকবার ফলে দেশের অনেক গুনী শিক্ষাবীদদের খুব কাছ থেকে তার দেখবার সুযোগ হয়েছে। তারা যে কতো বড়ো মানের এবং মনের মানুষ ছিলেন তা তিনি দেখেছেন নিজের মতো করে। এই বইয়ে তিনি তাদের সেইসব কথা এবং স্মৃতি তুলে এনেছেন। ফলে বইটি সাধারণ দৃষ্টিতে যদিও মনে হতে পারে যে এটা সৈয়দ ছলিমের নিজের জীবনের কথা কিন্তু পড়লে পড়ে মনে হবে আসলে সৈয়দ ছলিম নামক ক্যানভাসে উঠে এসেছে এইদেশের খ্যাতনামা কিছু সূর্যসন্তানদের মহতি কিছু অজানা কথা। কেনো তাদের জাতি আজো মনে করে, কেনো তারা এতো বড়ো হতে পেরেছিলেন সেইসব কথা। বইটির মূল আকর্ষণ আসলে এখানেই। পুরো বইয়ের প্রবন্ধে প্রবন্ধে ঘুরে ফিরে এই কথাগুলোই লেখক বারবার বলেছেন। বিশেষকরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের একাধিক উপাচার্যের কথা তিনি তার বইয়ে খুব সাবলীল ভাবে তুলে এনেছেন।

এতে করে দেশেবিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষকদের অনেক কথা জানতে পারবেন যা আগে হয়তো এইভাবে কেউ বলেননি কালির আচড়ে। এরবাইরে বইটিতে লেখক শেয়ারবাজার, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ, হাওর, আত্মহত্যা, অটিজম ইত্যাদি কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছেন, যাতে তিনি নানান জায়গা থেকে তার সংগ্রহ করা এই বিষয়গুলোর উপর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। যা পাঠককে অনেক ক্ষেত্রে এইসব বিষয়ে জানতে সহায়তা করবে।
সবশেষে একেকজনের ভালোলাগা বা অনুভূতি একেক রকম। আমি এখানে আমার মতো বইটি নিয়ে কিছু কথা বললাম। বইটির পেছনে লেখক অনেক সময় দিয়েছেন, তারপরও আমার কাছে বইটিতে কিছুটা তাড়াহুড়ার ছাপ চোখে পড়েছে। এটা আসলে লেখকের না প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের তাড়াহুড়া সেটা তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে একটা বই প্রকাশের বেলায় এটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এমনটা হয়।

লেখক: মুনশী ইকবাল, সাংবাদিক।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: