সর্বশেষ আপডেট : ৫১ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিসিএস কর্মকর্তাদের যা বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক:: শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে সরকারি কর্মীদেরকে যে বেশি খাটতে হবে সেটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর জনগণের স্বার্থে এই বাড়তি খাটুনি যে সুখের সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর একটি উক্তিও তুলে ধরেছেন কর্মকর্তাদের কাছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে ১০২ ও ১০৩তম আইন ও প্রশাসক কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান আমল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দেশ কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার বর্ণনা দেন। বলেন, দেশকে আরও উন্নত করতে হলে নবীন কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ সময় বিসিএসসহ চাকুরেদের নানা সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তোলেন ১৯৯৬ সালে প্রবর্তন করা বিনোদন ছুটির কথাও।

তিন বছর অন্তর অন্তর এক মাসের বাড়তি বেতন এবং ১৫ দিনের ছুটি পান সরকারি কর্মকর্তারা। এটি বিনোদন ছুটি হিসেবে পরিচিত। বিনোদন ছুটি প্রবর্তনের কারণ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি থাকলে তো আবার খাটনিটাও বেশি হয়, আমি জানি। আমি একটু বেশি খাটাই। তাই ভাবলাম, একটু তো বিনোদনটা দরকার।

বিসিএসের নবীন কর্মকর্তাদের মানুষের সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, মানুষের কল্যাণ করাটাই আমাদের দায়িত্ব। এই মানুষের কল্যাণ করাটাই আমাদের লক্ষ্য। এটা মনে রেখেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের রক্ত ঘাম ঝরা অর্থ দিয়েই দেশ চলে সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। বলেন, কাজেই তাদের সেবা করা, তাদের জীবনটাকে সুন্দর করা আমাদের সকলের কর্তব্য। আমি মনে করি সেদিকেই বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

আমিও আজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবসময় চিন্তা করি যে, আমি জনগণের সেবক। তাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাদের টাকা দিয়েই চলছি, তাদের কতটুকু দিতে পারলাম, সেই হিসাবটাই আমি সবসময় করি, সে চেষ্টাই করি। বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করতে প্রশাসনের নবীন কর্মীদের তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, তাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন কীভাবে হবে, আমাদের সেই দিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে।

আপনারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে যাবেন, তখন এই বিষয়টাতেই লক্ষ্য রাখতে হবে, আমাদের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হলেই কিন্তু দেশে সত্যিকারভাবে উন্নতি হবে। গ্রামের মানুষেরও সকল নাগরিক সুবিধা পেতে হবে এবং তার জীবনটাও উন্নতমানের হতে হবে। শুধু শহরের কিছু মানুষ ধনী থেকে আরও ধনী হোক সেটা আমরা চাই না। নবীন কর্মকর্তাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চারও তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, চরিত্র গঠনে, মনোবল সৃষ্টিতে এবং কর্মউদ্যোগ সৃষ্টিতে এই ইতিহাস অনেক অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবেই, এমন আত্মবিশ্বাসী হতেও বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করে দেশ স্বাধীন করতে পারি, ৯৬ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য সারেন্ডার করেছিল আমাদের কাছে, সে কথা ভুললে চলবে না। আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সব করা যায় এটা বলতে গিয়ে পদ্মাসেতুর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছিল ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। সে চ্যালেঞ্জ আমি গ্রহণ করেছিলাম। বলেছিলাম, ওদের টাকা না, নিজেদের টাকায় আমরা পদ্মাসেতু নির্মাণ করব এবং নির্মাণ করছি।

এই একটা সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে উজ্জ্বল করেছে। আমাদের অনেকেই বলেছিলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ছাড়া করা যাবে না। বহু বাধা, বাধার কারণে দুটি বছর পিছিয়েও গিয়েছিল, এটা বাস্তবতা। …আমি জেদ করে বসেছিলাম যে, না করলে নিজেই করব, নইলে করব না। আজকে আমরা করতে পারি, এটাই প্রমাণিত সত্য।

কাজ করলে প্রণোদনা পাওয়া যাবে বলেও নিশ্চয়তা দেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, কাজের স্বীকৃতির জন্য জনপ্রশাসন পদক দেয়া শুরু হয়েছে। পদোন্নতিও মিলছে আগের চেয়ে বেশি। আমাদের সময় এত বেশি প্রমোশন আর কখনও হয়নি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সচিব পর্যায়ে ১৪৪ জন প্রমোশন পেয়েছে, অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে ৮৪৩ জন, যুগ্ম সচিব পদে এক হাজার ৬৭৩ জন, উপসচিব পদে ১৯৮১ জনের প্রমোশনই হয়েছে। এই প্রমোশনের অনেক ক্ষেত্র আমরা তৈরি করে দিয়েছি। আগে অনেক সীমিত ছিল। এখন অনেক পদ আমরা আপগ্রেড করে দিয়েছি।

কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ পাঁচ মাসের বদলে আরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বিদেশ থেকেও প্রশিক্ষণ দিয়ে আনা হচ্ছে কর্মীদের। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে সরকারের সাফল্যও তুলে ধরেন। দেশে আয় বৈষম্য অনেক কমেছে। প্রবৃদ্ধি ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থাকলেও এটা এখন ২২ শতাংশ। এই সময়ের মধ্যে ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালে যেখানে ছিল ৫৪৩ ডলার, আজকে সেটা ১৬১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমাদের রিজার্ভ ২০০৫ সালে ছিল মাত্র তিন বিলিয়ন ডলার, আজকে তা ৩২ বিলিয় ডলারে উন্নীত হয়েছে। কখনও কখনও সেটা ৩৩ বিলিয়নে যায়। দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যাপক একটি অভিযান চালানোর কথাও বলেন তিনি।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: