সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জে নামফলক ভেঙ্গে দিয়ে থানা পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় তোলপাড়

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা:: পাউবো ও কাবিখা পিআইসির দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারীদের হয়রানীর উদ্দেশ্যে নামফলক ভেঙ্গে দিয়ে থানা পুলিশে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের রঙ্গারচর ইউনিয়নের ইউপি সদস্যা জাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে।

জানা যায়,২০১৬-২০১৭ ইং অর্থ বছরে সুনামগঞ্জ পাউবোর অধীনস্থ বনগাঁও পটাং খালের বামতীরে বাঁধ নির্মাণ হাওর প্রকল্প-১ এর নাম ব্যবহার করে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের ৭-৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা জাহানারা বেগম পিআইসি সভাপতি হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করেন। এতে সরকার বরাদ্দ দেয় ১১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পাউবো অফিস থেকে আগাম উত্তোলন করে পাউবো কর্মকর্তা ও পিআইসির লোকজন মিলে পরস্পরের যোগসাজসে কাজ না করেই আত্মসাৎ করেছেন জাহানারা বেগম। উল্লেখ্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কানলার হাওরের পটাং খালের ১.৩৩০ কিলোমিটার হইতে ২.২০০ কিলোমিটার মোট ৮৭০ মিটার ডুবন্ত বাঁধের ভাঙ্গা ও মেরামত কাজে ২৪৫ নং পিআইসির সভাপতি হচ্ছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে সভাপতি জাহানারার নেতৃত্বাধীন এই পিআইসি আদৌ কোন বাঁধে ঠিকমতো কাজ করেনি। এই কমিটির সেক্রেটারী হচ্ছেন ইউনিয়নের কান্দি ছমেদনগর গ্রামের মৃত রুসমত আলীর পুত্র আব্দুছ ছোবহান,সদস্য আবু তাহের মিয়ার স্ত্রী হাজেরা বেগম,মৃত খুর্শেদ আলীর পুত্র ওয়াজেদ আলী এবং মৃত আব্দুল কদ্দুছ এর পুত্র মোঃ ফজলু মিয়া। মোট ৫ জনের পিআইসির অন্যতম সদস্য ফজলু মিয়া প্রকল্পের কোন কাজ হয়েছে বলে ঘুণাক্ষরেও কিছু জানেননা। জাহানারা বেগম তার কাছ থেকে ভূল বুঝিয়ে দুদফায় সাদা কাগজে আগাম স্বাক্ষর নিয়েছেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। অনুরুপভাবে একই অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা ১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলা পিআইও অফিসের মাধ্যমে উক্ত জাহানারা বেগমকে স্থানীয় “ কান্দি ছমেদনগর এলজিইডির রাস্তা হতে অরুনের বাড়ী হয়ে বুলবুলের বাড়ী পর্যন্তÍ রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মনোনিত করে অর্থ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অনুমোদিত প্রকল্পের শতভাগ কাজ না করেই জাহানারা বেগম তার নেতৃত্বাধীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি পিআইসির সরকারী বরাদ্দের টাকা পকেটস্থ করেন।

গত ২৭/৪/২০১৭ইং ও ১৪/১০/২০১৭ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে পাউবো ও কাবিখা প্রকল্পে এহেন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ এনে একই গ্রামের হামদু মিয়া,রফিক মিয়া,আবুল কাশেম,কান্দু মিয়া,মোস্তফা মিয়া,রুস্তম আলী ও ওমর আলীগং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৯ ডিসেম্বর শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেট শোভন রাংসা সরজমিনে এলাকাবাসীর দায়েরকৃত সরকারী ভিপি সম্পত্তি দখল ও পিআইসির দুর্নীতির বিষয়ে আনীত অভিযোগের তদন্তে যান। তদন্তাধীন বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে ইউপি সদস্যা জাহানারা খাতুন অভিযোগকারীদেরকে এলাকার একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগীতায় অসদুদ্দেশ্যে হয়রানীর লক্ষ্যে গত ১২ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মিথ্যে বানোয়াট ভিত্তিহীন চাঁদাবাজীর অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কথিত মিথ্যা মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২৫ নভেম্বর তার কাছে অভিযোগকারীরা এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেছে। এবং গত ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহর নামে নির্মিত একটি নামফলক ভেঙ্গে দেয়া হয়। বাস্তবে কোন অভিযোগকারীরাই তাদের অভিযোগের বিবাদিনী জাহানারা বেগমের কাছে চাঁদা দাবী করেননি। এছাড়া এলাকার লোকজন বলাবলি করছেন পিআইসি সভাপতি জাহানারা বেগমের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সেক্রেটারী আব্দুছ ছোবহানের সন্ত্রাসী মাতাল পুত্র একাধিক মাদক মামলার আসামী আব্দুল আলী এমপির নামে স্থাপিত নামফলক ভেঙ্গে দিয়েছে। অভিযোগের দায় থেকে পিআইসি সভাপতি জাহানারা বেগম ও পিআইসির সাধারন সম্পাদক পিতা আব্দুছ ছোবহানকে রক্ষার লক্ষ্যে আব্দুল আলী নামফলক ভেঙ্গে দেয়ার পাশাপাশি জাহানারা বেগমের মিথ্যা অভিযোগে ১নং সাক্ষী সেজেছে।অভিযোগকারীরা বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে ও সরকারের সম্পদ রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষ বরাবরে পিআইসির দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ দাখিল করেছি। সরজমিন তদন্তে দুর্নীতিবাজদের মুখোস উন্মোচন হওয়ার আশঙ্কায় দুটি প্রকল্পের দুর্নীতিবাজ সভাপতি জাহানারা বেগম বাদিনী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন এর লক্ষ্যে কথিত মিথ্যা অভিযোগ দায়েরকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, পুলিশ অভিযোগটির তদন্ত করছে মাত্র। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: