সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে এইচএসসি’র ফরম পূরণে অবৈধ বাণিজ্য

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি :: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কলেজ প্রধানদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ড নির্ধারিত ফি ছাড়াও কোচিং ফি, বেতন ও আনুষঙ্গি বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ফি ধার্য করে কয়েক গুণ পরিমাণ অর্থ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছে কলেজ প্রধানরা।

শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ এসব খাত দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি ফি আদায় করছে। এই টাকা যোগান দিতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত হারে টাকা পরিশোধে ধার, দেনা করে ও ঋনগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি এর সাথে অন্য কোন ফি যুক্ত না করার কথা থাকলেও উপজেলার সবক’টি কলেজে ৬ মাসের বেতন, কোচিং ফি সহ অন্যান্য খাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে। বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পুরনের শেষ সময় ২৮ ডিসেম্বর হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই তাদের নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করে নিচ্ছেন। বোর্ডের নির্দেশনা মোতাবেক নির্ধারিত পরীক্ষা ফি প্রতি পত্র বা বিষয়ের জন্য ৯৫ টাকা (মোট বিষয় ১৩টি), প্রতি পত্রের ব্যবহারিক পরীক্ষা ফি ৪০ টাকা (যাদের আছে), কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা ও ব্যবহারিক প্রতি পত্রে ২৫ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫৫ টাকা, সনদ ফি ১০০ টাকা, রোভার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ২০ টাকা, বিএনসিসি ৫ টাকা, অনলাইন ৫ টাকা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা, আইসিটি পরীক্ষার ব্যবহারিক ফি ২০ টাকা হিসাবে নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মানবিকে ১৯৫৫ টাকা বিজ্ঞান বিভাগে ২০৯৫ টাকা।

শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজ ৬ মাসের বেতন, কোচিং ফিসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাত দেখিয়ে ৪৮০০ টাকা এবং এক ও দুই বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা হারে আদায় করছে। তবে কমলগঞ্জ গণমহা বিদ্যালয় ২৭০০ টাকা, আব্দুল গফুর মফিলা কলেজ মানবিকে ২৪০০ ও বিজ্ঞানে ২৮০০ টাকা হারে আদায় করছেন। শমশেরনগর বিএএফ শাহীন কলেজ বেতন, কোচিং সহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫ ও ১৬ হাজার টাকা হারে আদায় করছে।

সুজা মেমোরিয়াল কলেজের পাঁচ শিক্ষার্থী দুই অভিভাবক বলেন, ফি এর বাইরেও জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের বেতন ও কোচিং ফি মিলিয়ে ৪৭৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। রশিদ দেয়া হলেও কোন খাতে কি পরিমাণ টাকা নেয়া হচ্ছে তার কোন উল্লেখ নেই। শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজে পরিকল্পিতভাবে একটি বিষয়ে আটকিয়ে রেখে কোচিং এর নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ফরম পুরণে ছাড় দেয়ার অনুরোধ করলেও তিনি কোন ছাড় দিতে রাজি হননি।

কমলগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান মিঞা বলেন, আমরা বোর্ড নির্ধারিত হারে ফি নিচ্ছি। এর বাইরে যাদের বেতন বকেয়া রয়েছে তারা শুধুমাত্র সেই বেতন পরিশোধ করছে। আব্দুল গফুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান এমপিভূক্তি না হলেও আমরা শিক্ষার্থীদের বেতনসহ মানবিকে ২৪০০ ও বিজ্ঞানে ২৮০০ টাকা হারে নিচ্ছি। সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মোর্শেদুর রহমানের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রভাষক বলেন, কোচিং ৬০০ টাকা ও ৬ মাসের বেতন সহ এই টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এ ধরণের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: