সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আলোর মুখ দেখছে কোম্পানীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়

কোম্পানীগঞ্জ সংবাদদাতা:: ১৯৮৬ সালে মেয়েদের জন্য স্থাপিত হয় ‘কোম্পানীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়’। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু বিদ্যালয়টি আলোর মুখ দেখেনি। অবশেষে বন্ধ থাকা বিদ্যালয়টি আবারও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালু হবে।

বিদ্যালয়টি চালু করার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল বাছির, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ সামছুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আপ্তাব আলী কালা মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডাক্তার মোঃ আব্দুন নুর, ইসলামপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, পূর্ব ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মিয়া, দক্ষিণ রনিখাই ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান রোকন, ইছাকলস ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ এখলাছুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির মছব্বির, সাংগঠনিক সম্পদক মোঃ ইয়াকুব আলী, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ চাঁন মিয়া, থানা সদর মডেল উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হাজী মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ আবুল বাশার বাদশা, কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবিদুর রহমান, ইউপি সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান, থানা সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ মোশাহিদ আলী প্রমুখ ।

সভায় উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাবনা হয়।

সভায় জানানো হয়, ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ চলছে। বিদ্যালয়ের বেঞ্চ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রীর জন্য এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় আরো ৩ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। সভার পক্ষ থেকে হাজী মোঃ আবুল হোসেনকে এসব কাজের দায়িত্বভার দেওয়া হয়। সভায় বিদ্যালয় পরিচালনার স্বার্থে একটি ফান্ড গঠন করা হয়। উপস্থিত সবাই যার যার সামর্থ অনুযায়ী ফান্ডে অর্থ প্রদানের জন্য নাম লেখান। আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আপ্তাব আলী কালা মিয়া বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়ে আজীবন দাতা সদস্য হতে আগ্রহ দেখান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে উপজেলা সদরে এক একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা পায় কোম্পানীগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয়। ৪ কক্ষ বিশিষ্ট দু’টি ভবনে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত এলাকার মেয়েরা এই স্কুলে পড়াশোনা করত। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মাথায় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০২ সালে বিদ্যালয়ের ভবন ভাড়া গ্রহণ করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে সানরাইজ কিন্ডার গার্টেন স্কুল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল সেখানে আশ্রিত হয়। ২০১০ সালে এম. তৈয়বুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বালিকা বিদ্যালয়টি ফের চালু করা হয়। তখন বিয়ামের পাঠদানের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকার অজুহাতে বালিকা বিদ্যালয়ের পাঠদান চলে উপজেলা অডিটোরিয়ামে। তবে, এভাবে বছর যেতে না যেতেই ফের থেমে যায় বালিকা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। হঠাৎ বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থীরা বেকায়দায় পড়ে।

এদিকে, উপজেলা সদরে দ্বিতল বিশিষ্ট নিজস্ব একটি পাকা ভবন গড়ে তুলে বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুল। এ অবস্থায় ২০১৫ সালের শুরু থেকেই বালিকা বিদ্যালয়টি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চালান এলাকাবাসী। বিদ্যালয়টি চালুর ব্যাপারে আগ্রহ দেখান ইউএনও মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন, মোঃ আলমগীর কবির ও মুহাম্মদ মাছুম বিল্লাহ। এরপর ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় কোনো এক অনুষ্ঠানে সমস্যা সংকুল সেই বিদ্যালয়টি চালুর ব্যাপারে স্থানীয় এমপি ইমরান আহমদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই বছরের ৫ ও ১৩ আগস্ট এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলা সদরে বিদ্যালয় চালু সংক্রান্ত দু’টি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এসব সভায় ২০১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়টি ফের চালুর ব্যাপারে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট একটি বিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়। বিয়াম স্কুল তাদের নিজস্ব ভবনে না যাওয়ায় এলাকাবাসীর সে চেষ্টাও বিফলে যায়। এরপর মুহাম্মদ আবুল লাইছ কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও হিসেবে যোগদানের পর বিষয়টি তার নজরে আনা হলে পুনরায় এটি চালু হওয়ার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত মেলে। তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। অবশেষে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে বিদ্যালয়টি। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এলাকার শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবুল লাইছ জানান, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই বিদ্যালয়টি চালু করার। এখন এটিকে চালু করার জন্য যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। বেঞ্চ তৈরিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। আশা করছি, ২০১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এটি চালু হয়ে যাবে। আর যেহেতু এই এলাকায় কোন বালিকা বিদ্যালয় নেই, তাই এটি চালু হয়ে গেলে ওখানকার স্থানীয় মেয়েরা খুবই উপকৃত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: