সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কন্যা, নারী, মা এই পরিচয় হারিয়ে এখন তিনি শুধুই অসহায় বৃদ্ধা

মারুফ হাসান ::

আছিয়া বেগম, বয়স সত্তোররের কাছাকাছি। বয়সের ভারে যতটানা কাতর, তার চেয়ে বেশি কাতর অভাব-অযত্ন আর অবহেলায়। কন্যা, নারী, মা এই পরিচয় অনেকদিন বহন করেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর পরিচয় অসহায় বৃদ্ধা।
হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলাধীন ১নং গাজিপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী টেকেরঘাটের বাসিন্দা আছিয়া বেগম আজ বঞ্চিত মানবতার প্রতীক। চলাফেরা তো দূরের কথা, কারো সহযোগিতা ছাড়া দাঁড়াতে পর্যন্ত পারেন না। দুবেলার খাবার যার স্বপ্নে ঘুরেবেড়ায়।
২৭ নভেম্বর বিকেলে অসহায় এই বৃদ্ধার দুটি ছবি নিজের টাইম লাইনে পোস্ট করেন চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (সিপিএস) সদস্য সংবাদকর্মী মোহাম্মদ রুবেল তালুকদার। সেখানে তিনি ” গরীবের ভাতা নেই” শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন।

গরীবের ভাতা নেই………!!!!!
আঁকাবাঁকা মেঠোপথ দিয়ে চলছে আমাদের মোটরবাইক।গ্রামের নাম টেকেরঘাট। একটি বাড়ি গিয়ে থামল। সবাই নেমে পড়লেন। যার যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। হটাৎ এক সহকর্মী ডাক দিলেন। বলেলেন, “এই যে ভাই! দেখে যান ” কি হয়েছে। আরে ভাই দেখে যান।” তারপর দেখা গেলো, ষাটোর্ধ একজন মহিলা বাড়ির উঠানের রোদেলার রোদ্র শুয়ে আছেন। নাম আছিয়া খাতুন। দুজন মহিলার সহায়তায় কোনো রকমে মাটিতে বসেন পড়েন। তারপর এদিকে-সেদিক তাকান। কাপরচোপরগুরো নোংরা। চুলগুলো এলোমেলো। দেখে বুঝুায় যায়, মাথায় তৈল পড়ে না। অযত্ন অবহেলা চলছে দিন। ঠিকভাবে সেবা যত্ন হচ্ছে না। কথা বলতে পারছেন না। ২/৩ জনের সহায়তায় হাঁটাচলা করেন। জীবন-যাপনে বৃদ্ধার খুব কষ্ট হচ্ছে। হবিগঞ্জে চুনারুঘাট উপজেলাধীন ১ গাজিপুর ইউপির ৬ নং ওয়ার্ডে ভারত সীমান্তবর্তীর টেকেরঘাট নামক স্থানে করুণ চিত্র দেখা গেছে ।

রুবেলের এই স্ট্যাটাসে হয়তো অনেকেরই অন্তরাত্মা কেঁদে উঠেছে। তেমনই একজন কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী, চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আছিয়া বেগমকে দেখতে যান ফারাবী। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি হুইলচেয়ার ও ভাতার ব্যবস্থাও করে দেন তিনি। দেরিতে হলেও ধন্যবাদ জানাতে হয় সরকারের এই কর্মচারীকে।
হুইলচেয়ার হস্তান্তর সময় উপস্থিত ছিলেন কারিতাসের মাঠ কর্মকর্তা মো মশিউর রহমান, প্রীতম ব্রিকসের কর্ণধার রুবেল আহমদ, ইউপির মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো নুরুন্নবী, চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি সৌরাইজাম উৎপল সিংহ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আল মোছাফ্ফা নিপু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অপুর্ব কুমার সিংহ, সোসাইটি সদস্য পি ডি আর পিয়াস, রজব আলীসহ স্থানীয়রা।

সহযোগিতা শেষে কাইজার মোহাম্মদ ফারাবী Uno Chunarughat ফেসবুক আইডিতে লিখেন

”সরকারি সুবিধার আওতায় এখন আছিয়া বেগম”
এক ঝাঁক উদ্যমী তরুণ, সুস্হ সুন্দর চুনারুঘাট গঠনে সদা নিবেদিত, যারা চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (সিপিএস) হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সমগ্র উপজেলার সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আলোকচিত্র ও ভিডিওচিত্র ধারণ করছে সংরক্ষণ ও আসন্ন বিজয় দিবসে প্রদর্শনীর জন্য। এসময়ে সন্ধান মিলে গাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী টেকেরঘাট গ্রামের বিধবা ও দরিদ্র আছিয়া বেগমের। অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে থাকা অসুস্হ ও চলাচলে অক্ষম আছিয়া বেগমকে নিয়ে সিপিএস এর সদস্য রুবেল তালুকদার ফেসবুকে ‘গরীবের ভাতা নাই….’ শিরোনামে একটি পোস্ট দিলে তা উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।
ধন্যবাদ সিপিএস এর সকল সদস্যকে। আছিয়া বেগমকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হয়েছে, চলাচলের জন্য দেয়া হয়েছে হুইল চেয়ার, সাথে শীতবস্ত্র ও ঔষধ কেনার আর্থিক সাহায্য।

আছিয়া বেগমের স্বামী মারা গেছেন অনেকদিন আগে। একমাত্র ছেলে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন যাপন করেন। মায়ের এমন অবস্থার জন্য নিজের দরিদ্র মানসিকতা আর আর্থিক অক্ষমতাকেই দায়ী করেন তিনি।

‘মা’ শুধু একটি শব্দ নয়, ‘মা’ একটি মমতা, ‘মা’ একটি নির্ভরতার নাম, সর্বপরি ‘মা’ একজন সন্তানের সমস্ত পৃথিবী। এমন মায়েদের মুখে হসি দেখতে চুনারুঘাট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (সিপিএস) সদস্যরা কাজ করছে। সারা বাংলাদেশের সক্ষম সন্তানদের একটু সহযোগিতায় আছিয়া বেগমের মতো অসহায় মায়েরা জীবনের বাকীদিনগুলো কাটাতে পারেন নিশ্চিন্তে হাসি মুখে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: