সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটকেও হাস্যকর জায়গায় নিয়ে যাবেন না : ইয়াহইয়া ফজল

বিকেলে বাসা থেকে অফিসে যাচ্ছি। চৌহাট্টা পার হওয়ার সময় দেখি একদল লোক ব্যানার-ট্যানার নিয়ে মিছিল করছে। স্লোগান তুলেছে, ‘সিক্সার্সের ওভারে এক বল বেশি কেন বিসিবি জবাব দে’। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেটের ম্যাচের ১৬তম ওভারে এক বল বেশি করা হয়ে গেছে এই নিয়ে রাজপথ ‘গরম’ করে ফেলেছেন তারা।
কি অদ্ভুত? কি বিচিত্র এই দেশের মানুষ, তাদের কর্মকাণ্ড! টেলিভিশন নাটকের চরিত্র বাকের ভাইয়ের ফাঁসি ঠেকাতে ঢাকার রাজপথে নেমে পড়ে তারা! বিপিএলের একটি ওভারে এক বল বেশি হয়ে যাওয়ায় ব্যানার তৈরি করে রাস্তায় মিছিল!

মানছি এক বল বেশি হওয়া কোন অর্থেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তার জন্য তো বিসিবি আছে, আইন আছে, মনিটরিং করার কমিটি আছে। অভিযোগ উঠেছে যখন তারা বিষয়টি তদন্ত করবে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তারচেয়েও বড় কথা- রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আলোচিত সেই ১৬তম ওভারে এক বল বেশি হয়ে যাওয়ার তেমন কোন প্রভাব কি পড়েছে ম্যাচের ফলাফলে। ম্যাচের যে অবস্থা ছিল, যদি আরো দুটি বল বেশি করা হতো তাহলেও কি ফলাফলে এমন আহামরি কোন পরিবর্তন ঘটত? কিন্তু এই এক বল বেশি করা নিয়ে রীতিমতো লোকজন জড়ো হয়ে মিছিল করছেন। অথচ এই দেশে কত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, কত অন্যায় হচ্ছে, স্বেচ্ছাচারীতা হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে হু হু করে, গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। অথচ এসব বিষয়ে কোন অর্থবহ আন্দোলন নাই, প্রতিবাদ নাই। নিরবে চোখ বুজে মেনে নেওয়া যাচ্ছে দিব্যি। কিন্তু বিপিএলের একটি ম্যাচের একটি ওভারে ভুলে এক বল বেশি করে ফেলায় বিসিবির পদক্ষেপ পর্যন্ত ধৈর্য্য না ধরেই রাস্তায় নেমে পড়তে হচ্ছে! কি হাস্যকর? কি বেদনাদায়ক। কি বিচিত্র চিত্র!!!

সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কই? এই বিষয়ে তো কাউকে কিছু বলতে শুনি না। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি হলে তার জন্য ভুগতে হয় কোটি কোটি মানুষকে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের মানুষের হিসেবের খাতায় বড় ধরণের গোলমাল বেঁধে যায়। এই দুই শ্রেণীর মানুষের সংখ্যাই তো বেশি এদেশে। কিন্তু এসব বিষয়ে কেউ কিছু বলে না। শুধু দেখা যায় বাম রাজনৈতিক দলগুলোই তোড়জোড় করতে। কিন্তু তাদের পাশে দাড়ানো কিংবা সমর্থন জানানোরও সময় থাকে না কারও। যে সাধারণ মানুষের জন্য তারা আন্দোলনে নামে সেই মানুষগুলোর যেন কোন বিকার নেই তাতে।

ধরে নিলাম, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি কোন বিষয় নয়। তাদের আয়-রোজগার মাশাল্লাহ বেড়েছে নিশ্চয়, সেজন্য এসব বিষয় নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু আরেকটি বিষয় আছে যা নিয়ে শুধু এই দুই শ্রেণী নয় দেশের বিত্তবান শ্রেণী, লুটেরা শ্রেণীরও মাথা ব্যথা শুরু হওয়া উচিত ছিল অনেক আগেই। কিন্তু সেই বিষয়টি নিয়ে এখনও কারও ভাবনা নেই। বিষয়টি হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রথমপর্যায় থেকে শুরু করে ভোক্তাদের হাতে পৌঁছা পর্যন্ত পদে পদে ফরমালিন, কিটনাশক থেকে শুরু করে না পদের বিষ মেশানোর ফলে দেশে যে ক্যানসারের প্রকোপ আশংকাজনক হারে বেড়ে গেছে সে বিষয়টি কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না এখনও। একটু ভাবুন, চোখ বন্ধ করে ভাবুন, গুণে দেখুন আপনার চারপাশে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী কিংবা চেনা জানা গন্ডির ভেতরে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কত? একেবারেই কম? সংখ্যাটা কি আপনাকে ভাবায় না? ভয় ধরিয়ে দেয় না? যদি বিষয়টি ভাবায়, মনোজগতে আলোড়ন তুলে তাহলে দয়া করে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন। বিদ্যুত কিংবা গ্যাসের দাম দুইদিন পরপর বাড়ানোর প্রতিবাদ করুন। তাহলে এই আন্দোলন আপনার নিজের এবং যারা কঠোর পরিশ্রম করে সৎভাবে আয় করেন তাদের কাজে লাগবে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট সিক্সার্সের ম্যাচে ওভারে এক বল বেশি হয়ে গেলে আখেরে খুব বেশি ক্ষতি কেউর হবে না। না এই এক ম্যাচের ফলাফলে কোন প্রভাব রেখেছে না পয়েন্ট টেবিলে সিক্সার্সের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। হয়তো আঙ্গুল তুলবেন আয়োজক কিংবা ম্যানেজমেন্টের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতার দিকে। তুলতেই পারেন। কিন্তু আপনার নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা- বিপিএলের আগের আসরগুলোতে এর চেয়েও বড় বড় কা-কারখানা হয়েছে। যে দেশে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে আশরাফুলের মতো সুপার ন্যাচারাল ট্যালেন্ড নিজেকে খুইয়ে দিতে পারেন সেই দেশে এক বল বেশি হয়ে গেলেও কিচ্ছু হবে না ভাই। তাই দয়া করে এই স্থুল ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলনে নেমে নিজেকে হাস্যকর করে তুলবেন না এবং আপনার এই ‘গুণ’ এর জন্য সিলেটকেও হাস্যকর জায়গায় নিয়ে যাবেন না। বরং জন সম্পৃক্ত বিষয়গুলোতে সোচ্চার হোন। তাতে দিন শেষে নাগরিক হিসেবে লাভটা কিন্তু আপনারই।

লেখক : স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক কালের কণ্ঠ সিলেট অফিস। (লেখকের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহীত)

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: