সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একজন প্রতিভাবান আইনজীবী মোস্তফা মহসীন

মাহফুজ শাকিল :

ঢাকার কাওরান বাজারের অভিজাত হোটেল ‘‘লা ভিঞ্চি’’ সেখানে হরেক রকম খাবারের পসরা। বন্ধুদের নিয়ে বসে আছেন সান্ধ্য আড্ডায়। সেখানেই এই প্রতিবেদককে সময় দেন মোস্তফা মহসীন। মামলার নথি নিয়ে সেই সান্ধ্য ভোজে উপস্থিত মোস্তফা মহসীনের ঘনিষ্ঠজন আনোয়ারুল কবীর রাজ। রাজ জানান, উকিল হলেও মহসীন ভাইয়ের মনটা বেশ নরম। অন্যায়ভাবে কোনো গরীব মানুষ হাজতবাস করছে দেখলে মহসীন ভাইয়ের মনটা কেঁদে ওঠে। নিজ টাকায় উকালতনামা, বেইলবন্ড দিয়ে ছাড়িয়ে আনেন হাজত থেকে। তাই আমরা যেকোনো দুর্যোগে তাঁর কাছে ছুটে আসি।

ভ্রমণপিপাসু এক মনে খেলা করে রোমান্টিসিজম। মন খারাপ হলেই ছুটে আসেন প্রিয়ভূমি কুলাউড়াতে। সোজা রিকশায় ছুট দেন গগণটিলায়! গগণটিলায় উঁচু পাহাড় থেকে দেখেন দিগন্তের মানুষগুলো কতোই না ছোট! তখন অপার্থিব আনন্দে মন ভালো হয়ে যায়! এরকম মন ভালো করতেই তিনি ছুটেন সুদূর দিনাজপুরে…রাম সাগরের তীরে। নাটোরের পুরনো রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবনে। পঞ্চগড়ে দেশের শেষ সীমানা বাংলাবান্ধায়। আর কক্সবাজার তো থাকছেই। আইনজীবীর সাথে মিশে যায় কবিসত্তা! আমাদের কুলাউড়ার এক জনপ্রিয় নাম তিনি, মোস্তফা মহসীন। পেশায় একজন আইনজীবী। পাশাপাশি একজন প্রতিভাবান কবি, সমাজকর্মী ও মানবাধিকার কর্মী।
কুলাউড়ার আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা মোস্তফা মহসীন কুলাউড়া রাবেয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ আব্দুল হান্নানের কনিষ্ঠ পুত্র।
পরিবারের ২ভাই এর মধ্যে মহসীন ছোট। অগ্রজ মোস্তফা মামুন দেশের স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক ‘‘কালের কণ্ঠে’’র উপ-সম্পাদক ও একজন জনপ্রিয় টিভি টকশো সেলিব্রেটি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। একমাত্র পুত্রের নাম ফারহান ইশরাক। স্ত্রী সাজেদা শারমিন রাজনগর সরকারী কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন প্রভাষক। এই নিয়ে তাঁর গোছালো সংসার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি এবং পাশাপাশি একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এল.এল.বি অনার্স, এল.এল.এম ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ২০০৮ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী হিসেবে কুলাউড়ার কৃতি সন্তান প্রখ্যাত আইনজীবী এডভোকেট আবেদ রাজার অধীনে ইউসুফ এন্ড রাজা ল ফার্মে কর্মজীবনের সূচনা করেন।
পরবর্তীতে তিনি মানবাধিকার সংস্থার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ লিগ্যাল এন্ড হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ এবং জলবায়ু রক্ষা, অনগ্রসর মানুষের জীবন-মান উন্নয়নের জন্য নিরন্তর ভাবে এই সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে মানুষের কল্যাণে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় এর ২৪টি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক আইনজীবী সমিতির আমন্ত্রণে জাপান (টোকিও) তে আইনজীবীদের বৈশ্বিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও তিনি ভারত. সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, কোরিয়া ভ্রমণ করেন। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি অসংখ্য কোম্পানীর মামলা নিয়ে লড়ছেন। এর মধ্যে দেশের জনপ্রিয় ‘‘ট্যাফে ট্র্যাক্টর’’ এর প্রধান আইন উপদেষ্ঠা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনেকদিন ধরে। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সমাজ বদলের যোদ্ধা। একটি বাম সংগঠনের সাথে একনিষ্ঠ ভাবে জড়িত। জনগণের অধিকার আদায়ে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির এবং সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন সক্রিয়। তিনি এখনও সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদে প্রচন্ড রকম আস্থা রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। শোষণমুক্ত ও সামাজিক মালিকানার এক পৃথিবী নির্মাণে তিনি তার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে ইচ্ছুক। আইন পেশা, মানবাধিকার সংগঠনের পাশাপাশি তিনি একজন প্রতিভাবান কবি। বাংলা সাহিত্যে যাকে শূন্য দশক (২০০১-২০১০) সাল অভিহিত করা হয় তিনি সেই দশকের প্রতিনিধি স্থানীয় কবি।

আহমেদ ফিরোজ সম্পাদিত শূন্য দশকের “লেখক অভিধান” সহ শূন্য দশকের অন্যান্য গ্রন্থে তার পরিচিতি প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমীর অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ “তৃষ্ণার প্রথম পাঠ”। বইটি প্রকাশ করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রকাশনা “বিশাকা”। সাহিত্য পদচারণার মিছিলে দেশের শীর্ষ স্থানীয় প্রায় সবগুলো জাতীয় দৈনিকসহ আঞ্চলিক দৈনিক, সাহিত্য পত্রিকা, সংকলন, লিটল ম্যাগাজিনে তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি একসময় দেশের লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। ২০০১ সালে তার সম্পাদিত লিটল ম্যাগ “সংশপ্তক” পাঠক নন্দিত হয়। ২০১১ সালে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ‘‘হাজী মহসীন’’ পদক পেয়েছেন ‘‘প্রভাতী যুব সংঘ’’ মানিকগঞ্জ থেকে। তিনি কুলাউড়ার জনপ্রিয় সাহিত্য সংগঠন জিয়ন কাঠি সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক শক্তির জোড়ে কুলাউড়ায় ২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় দুই বাংলার (ঢাকা- কলকাতা) মিলনমেলা।

দেশের জনপ্রিয় কবি আসাদ চৌধুরী, আল মুজাহিদী, ফারুক মাহমুদ, নাসির আহমদ, আসলাম সানি, টোকন ঠাকুরসহ কলকাতার দীপ মুখোপাধ্যায়, ইশিতা ভাদুরী, শ্রী জাত বন্দোপাধ্যায় সহ বিখ্যাত কবিদের মিলনমেলা বসেছিলো কুলাউড়াতে। হাজার কাজের ভীড়ে, মনের মাঝে সারাবেলা গুণগুণ করে কড়া নাড়ে প্রিয় কুলাউড়া! সবরকম রাজনৈতিক আকাঙ্খা দূরে রেখে, আগামী দিনগুলোতে শুধু আইন পেশা ও সমাজসেবা দিয়ে নিজ এলাকা কুলাউড়ার সাধারণ মানুষের পাশে কাজ করতে চান। এজন্য তিনি কাজ করার ইচ্ছাশক্তিই জরুরী মনে করেন। রাত ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে আর আমি তাকিয়ে আছি মহসীন ভাইয়ের দিকে। আড্ডা থামছেনা! গল্পও ফুরোচ্ছে না! আমাদের ফিরে যেতে হবে কুলাউড়া। মাঝখানের সময়টায় আড়াল পছন্দ করা, প্রচার বিমুখ একজন মানুষের সাহচর্যে এসে মনটা অন্য আলোয় চনমনে হয়ে ওঠলো। আমাদের দেশে একটি প্রবাদ আছে, “জন্মিলে মরিতে হইবে”। একদিন হয়তো এই গুণী ব্যক্তিত্ব মোস্তফা মহসীন আমাদের মাঝে থাকবেন না। কিন্তু তিনি তাঁর কর্মের মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন জন্ম জন্মান্তর…।

লেখক : সাংবাদিক

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: