সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের হাওরে পানিই সৃষ্টি করছে নতুন সংকট 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার হাওরে এবার চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই পানিই নতুন সংকট শুরু করেছে। অকাল বন্যার পানিতে এক মাত্র সম্পদ বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার পর অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারনে নদী ও হাওরের পানি ধীর গতিতে নামার ফলে জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,দিরাই,শাল্লা সহ ১১টি উপজেলায় বোরো ধানের চারা রোপনের জন্য বীজতলা তৈরীতে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে কৃষকের। ফলে হাওর পাড়ের কৃষকগন শুরুতেই বীজতলা তৈরী করতে না পারায় বোরো ধান জমিতে চাষাবাদ পিছিয়ে যাওয়ায় অবারও অকাল বন্যায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আংশকায় আতœংকিত হয়ে পড়েছে। তবে হাওরের বাঁধ সঠিক ভাবে সঠিক সময়ে তৈরী হলে ক্ষতির আশংকা থাকবে না বলে জানায় কৃষকরা।

জানাযায়,এই সময়ে গত বোরো মৌসুমে যে সব বীজতলা বোরো ধানের চারা তৈরী করা শুরু করেছিল সেই স্থানের পানি এখনো না কমার কারনে বীজতলা তৈরী করতে পারছেন না হাওর পাড়ের কৃষকরা। এছাড়াও জেলার সুরমা নদী সহ অন্যান্য নদীর পানি ৫মিটারে প্রবাতিহ হচ্ছে। এই বছর হাওরের পানি ২মিটারে থাকলেও নদীর পানি পরিমানে ৫মিটারের বেশী থাকায় হাওরের পানি বের হতে পারছে না। বর্তমানে নদীর পানি প্রতিদিন ১০সেন্টিমিটার করে কমছে। এভাবে নদীর পানি কমলে চলতি মাসের শেষের দিকে হাওরের পানি দ্রুত হ্রাস পাবে। আর জানুয়ারী মাসের মধ্যে সম্পূর্ন পানি হাওর থেকে বের হয়ে যাবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়,গত বছর বোরো জমি চাষাবাদ করা হয়েছিল ২লাখ ২৩হাজার ৮৫হেক্টর। আর বীজতলা তৈরী করা হয়েছিল সাড়ে ১০হাজার হেক্টর। চলতি বছরে বোরো মৌসুমের জেলার বোরো জমির প্রাথমিক লক্ষ্য মাত্র নির্ধারন করা হয়েছে ২লাখ ২৪হাজার হেক্টর। বীজতলা আর বীজতলার পরিমান ১১হাজার ৩শত হেক্টর। এই বছর বীজতলার জন্য বিএডিসি ৫হাজার ৫৬ মেট্রিকটন বীজ ধান ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রির জন্য বরাদ্ধ দিয়েছে। বরাদ্ধ বীজ ধানের মধ্যে ১৮০০মেট্রিকটন বীজ ব্রি-২৯জাতের। অন্য সব ব্রি-২৮জাতের।

এই সব বীজ ধানের মধ্যে সরকারী ভাবে ৩লাখ কৃষককে পূর্নবাসনের জন্য প্রত্যেককে ব্রি-২৮জাতের ৫কেজি করে ১৫০০মেট্রিকটন বীজ বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। হাওর পাড়ের কৃষকরা জানান,হাওরের পানি না কমায় বীজ তলায় এখনো অনেক পানি রয়েছে বীজতলা তৈরী করতে পারছি না। এদিকে সময় চলে যাচ্ছে কি করব বুজতে পারছি না। অথচ গত বছর এই সময় বীজতলা তৈরী করে ছিলাম। বীজ ও সার দিয়ে সরকার যে সহায়তা করছে তা একবারেই কম। আমরা হাওর পাড়ের কৃষকরা এই একমাত্র বোরো ধান চাষাবাদ করেই সংসার চালাই। পানি কমার সাথে সাথেই যেন হাওরের বাঁধগুলোতে পুকুর চুরি না করে সঠিক ভাবে তৈরী করা হয় সেই বিষয়টি সবার মাথায় থাকতে হবে। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান,অসময়ে বৃষ্টির কারনে এই উপজেলায়ও হাওরের পানি কমছে একবারেই ধীর গতিতে। যার জন্য বীজতলা তৈরী করতে পারছে না।

এ উপজেলায় ২৯হাজারের অধিক ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে আমরা বীজ,সার ও নগদ টাকা দিচ্ছি পূর্নবাসনের জন্য। উপজেলায় অন্যান্য জাতের ধানের সাথে ব্রি ২৮জাতের ধান চাষাবাদে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আর আশা করি চলতি মাসের মধ্যেই হাওরের পানি কমে যাবে আর কৃষকরা বীজতলা তৈরী করা শুরু করতে পারবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড(ওয়ান)এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান,এবার জেলায় অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারনে পানি হাওর থেকে বের হতে পারছে না। যার ফলে বীজতলা তৈরীতে দেরী হচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পারিচালক মোহাম্মদ জাহেদুল হক বলেন,বীজতলা তৈরীতে পানি এখন বড় সমস্যা হয়েছে। হাওরের পানি কমছে তবে খুব কম গতিতে।আশা করি দ্রুত হাওরের পানি কমতে শুরু করবে।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: