সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দশ ভেলায় এলো ৫০০ রোহিঙ্গা

নিউজ ডেস্ক::

নাফ নদী পেরিয়ে ১০টি ভেলা নিয়ে আরো পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফে প্রবেশ করেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে তারা। টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল থেকে রোহিঙ্গাদের ১০টি ভেলা মিয়ানমার থেকে এসে টেকনাফের তিনটি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে। প্রতিটি ভেলায় নারী-পুরুষ শিশুসহ ৪০ থেকে ৬০ জন করে রোহিঙ্গা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বুধবার একটি ভেলায় ৫২ জন, গত বৃহস্পতিবার তিনটি ভেলায় করে ১৮০ জন বাংলাদেশে এসেছে। এদিকে, কক্সবাজারের উখিয়ায় সাগর থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে বহনকারী একটি নৌকাসহ তার মাঝিকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইমামের ডেইল পয়েন্ট থেকে ওই নৌকা আটক করা হয় বলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল জানান। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে নৌকাসহ এক মাঝিকে আটক করে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। মানবিক সহায়তা দিয়ে তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হবে। আটক মাঝির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লোভে পড়ে রোহিঙ্গাদের এপারে আনছে মাঝিরা :

‘এপারের কিছু লোক ব্যক্তিগত লাভের জন্য নৌকা নিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে। নাফ নদীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এখন ওপারে কোনো সহিংসতা নেই। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ হিসেবে প্রচুর অর্থকড়ি দেওয়া হচ্ছে, এমন লোভ দেখিয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের এপারে আসতে উৎসাহিত করছে কিছু লোক। এটা বন্ধ করতে নাফ নদী ও সাগরের মোহনায় কোস্টগার্ড, বিজিবির টহল বাড়ানো প্রয়োজন।’

গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে হিলটাউন সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত ওই জরুরি সভায় অংশ নেন বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা, জনপ্রতিনিধি, উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের ট্রলার মালিক ও মাঝিমাল্লারা।

টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকার ট্রলার মালিক বেলাল উদ্দিন বলেন, গুটি কয়েক ট্রলারের কারণে সবার দুর্নাম হচ্ছে। তাই এসব ট্রলারের যাতায়াত বন্ধ করতে শামলাপুর ঘাটে প্রশাসনের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।

টেকনাফ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রফিক উদ্দিন বলেন, প্রতিটি মোহনায় ব্যাপক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিটি ঘাটে গিয়ে সচেতনতামূলক সভা করতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোনা আলী বলেন, একটি নৌকা প্রতি ট্রিপে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পায়। এজন্য কড়াকড়ি আরো বাড়াতে হবে। যাতে কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গা নিয়ে নৌকা ঢুকতে না পারে।

টেকনাফ পৌরসভার মেয়র আলহাজ মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, হোয়াইক্যং থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত এলাকায় নজরদারি রয়েছে। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে নৌবাহিনী টহল বাড়াতে হবে। তিনি ট্রলারগুলোর তালিকা করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানান। সভায় কোস্টগার্ডের টহল জোরদার রয়েছে বলে জানান কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার রুকুনুজ্জামান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, রোহিঙ্গা আনা-নেওয়ার ব্যবসা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। যারা ওপারে গিয়ে রোহিঙ্গা নিয়ে আসছে তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, সর্বোপরি স্থানীয় মানুষের শত্রু। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

৩৪ বিজিবির সিইও মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, স্থলপথ দিয়ে এখন রোহিঙ্গা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আসা অব্যাহত রয়েছে নৌপথ দিয়ে। এটা যেকোনো উপায়ে বন্ধ করতে হবে। কেউ বিজিবির হাতে ধরা পড়লে তার অবস্থা ভয়াবহ হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, কোন এলাকায় কে কী করে না করে সব তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। যদি কেউ আর রোহিঙ্গা নিয়ে আসার দুঃসাহস দেখায় তাহলে তার পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। তিনি মনে করেন জনপ্রতিনিধিরা আন্তরিক হলে রোহিঙ্গা আনার কাজ বন্ধ করা সম্ভব।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, এখন রোহিঙ্গাদের এপারে চলে আসতে উৎসাহিত করা গুরুতর অপরাধ। কেউ যদি ওই দেশের লোকজন নিয়ে আসার কাজে জড়িত থাকে, তার কঠোর শাস্তি হবে। তিনি উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ইউএনও, থানার ওসি এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে সচেতনতামূলক সভা করার নির্দেশ দেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: