সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে ইসির ‘না’

নিউজ ডেস্ক::

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন চাইছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজনৈতিক দলসহ সুশীল সমাজ ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সংলাপে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব এলেও খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) আস্থা কমিশনের। এতে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির আইন সংস্কারে ১৮ দফা প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য দুটি উপেক্ষিত থাকছে, যা আগামী নির্বাচনের আগে বর্তমান কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিতে পারে। কারণ, বিএনপির মত ছিল সেনা মোতায়েনে আর ইভিএমের বিপক্ষে। কিন্তু সেনা মোতায়েন না চেয়ে ইভিএমে সায় ছিল আওয়ামী লীগের, যা প্রাধান্য দিয়েছে ইসি।

আইন সংস্কার কমিটির প্রধান ও নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সেনাবাহিনীর হাতে কখনই বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এটা বাস্তবসম্মত নয়। যার হাতে বন্দুক তার হাতেই বিচারের ভার দেওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচনী আইনে ব্যালট পেপারের পাশাপাশি ইভিএমে ভোট গ্রহণের বিধান রয়েছে। এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই সুযোগ রাখার জন্য আরপিওতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রস্তাব থাকবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার ইসির গঠন করা আইন সংস্কার কমিটি সম্প্রতি সংলাপে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকে বসে। এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ ১০টি দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখা শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ দলের প্রস্তাবগুলো পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নেবে কমিশন। সব প্রস্তাব বাছাই করে কমিশন সভায় উত্থাপন করবে। তার আগে কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরো এক দফা আলোচনা করা হবে। এরপর আরপিও সংশোধন এবং সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে মন্ত্রিসভা হয়ে সংসদে উঠবে। সংসদ এসব প্রস্তাব পাস করলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এসব আইন প্রয়োগের সুযোগ থাকবে। অন্যথায় বিদ্যমান আইনই নির্বাচনে অনুসরণ করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, সংলাপে দলগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংলাপে বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ এবং সব উপজেলায় অভিযোগকেন্দ্র খোলার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইসির আইন সংস্কার কমিটি।

এদিকে ইসির সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ১১টি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও ২৫টি দল কোনো না কোনো পদ্ধতিতে ভোটের মাঠে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিল। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ অন্য অংশীজনের অনেকেই সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব দিলেও তারা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার কথা বলেননি। ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সব সংসদ নির্বাচনের আগেই সেনা মোতায়েন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের দৃষ্টান্ত রয়েছে। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। এবারও বিএনপির পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর হাতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, কোনোভাবেই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। তবে নির্বাচন কমিশন সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ মতামত উপেক্ষা করেছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে দশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সংসদ, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম সংসদ ও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। অর্থাৎ এই সময় সেনাসদস্যরা পুলিশের মতোই পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করে থানায় সোপর্দ করার সুযোগ পেয়েছেন।

এদিকে বিতর্কিত ইভিএম গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত করে কমিশন নিজেদেরকে নতুন করে বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অথচ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দুয়েকটি দল বাদে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং এনজিওসহ সবাই ইভিএমের বিপক্ষে প্রস্তাব দিয়েছিল। কারণ বিদায়ী কাজী রকিব উদ্দীন কমিশন পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচনে এই ইভিএম ব্যবহার হয়েছিল কোনো না কোনো কেন্দ্রে এর ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তবে কোন যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এই বিতর্কিত বিষয়টি আরপিওতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিয়ে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। এমনকি আগামী ২২ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডের কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া খান মো নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: