সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে ‘উদ্ভট’ শর্ত সু চির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

নীতিগতভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে আপত্তি নেই মিয়ানমারের। তবে কারা দেশটিতে ফিরতে পারবে সে বিষয়ে কড়া শর্ত চাপাচ্ছে সু চি সরকার।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি ইউ কিইয়াও জেয়া শুক্রবার জানান, দেশের স্টেট কাউন্সিলার অং সান সু চি গত ১২ অক্টোবর এ নিয়ে তার দেশের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পুনর্বাসন এবং উন্নয়নের কাজও শুরু হচ্ছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা হবে চারটি শর্ত সাপেক্ষে। যাঁরা সেই শর্ত পূরণ করতে পারবেন, শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

শর্তগুলো হচ্ছে:

ক. রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। খ. যারা স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন। গ. পরিবারের কেউ মিয়ানমারে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে হবে এবং ঘ. বাংলাদেশে কোনও বাচ্চা জন্মালে তার বাবা-মা দুজনকেই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং এর প্রমাণ দিতে হবে।

এই চার শর্ত যেসব রোহিঙ্গা পূরণ করতে পারবে কেবল তারাই মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার সুযোগ পাবে।

কিন্তু সু চির এই শর্তগুলো যতটা অবাস্তব ততটাই অগ্রহণযোগ্য।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কাছে কী করে এই সব তথ্য-প্রমাণ থাকবে? এর জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি বলেন, ‘স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেওয়াটা মুশকিল। এবং এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।’

গত শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ‘ভারত-মায়ানমার সম্পর্কের আগামী দিন’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন মায়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই শীর্ষ কূটনীতিক। কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরাও যোগ দিয়েছেন এই সম্মেলনে।

কিন্তু শরণার্থী সমস্যার মতো মানবিক বিষয়ে মিয়ানমার সরকার কেন এত কড়া শর্ত চাপাচ্ছে? জানতে চাইলে ওই কূটনীতিক বলেন, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা কেবলমাত্র মানবিক বিষয় নয়। নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ। মানবিকতার খাতিরে ক্ষমতায় এসেই সু চি কফি আনান কমিশন তৈরি করেছেন। রাখাইনে পুর্নবাসন-উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছেন। এ সবও তো সরকারই করেছে।

সম্মেলনে অংশ নেয়া ভারতীয় প্রতিনিধিরাও মিয়ানমার এই কূটনীতিকের সুরে সুর মেলান। ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং)-এর সদ্য প্রাক্তন প্রধান রাজেন্দ্র খান্না মনে করেন, রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু মানবাধিকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে চলবে না।

খান্না জানান, ২০০৪ সাল থেকে আইএসআই রাখাইনে সক্রিয়। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানি মদতেই মোহাম্মদ ইউনুস ‘রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজে‌শন’তৈরি করেন। পরে মুজাম্মিল এবং রাহিল নামে দুই লস্কর কমান্ডারকে আইএসআই বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে পাঠিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের তারাই জঙ্গিপনার প্রশিক্ষণ দেয়। আইএসআই-এর মদতেই পরবর্তী কালে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ বা আরসা-র জন্ম হয়। এই অঞ্চলে উগ্রপন্থা বাড়লে ভারত-মায়ানমার উভয়েরই সমস্যা হবে বলে মনে করেন প্রাক্তন ‘র’-প্রধান।

একই মত ইয়াঙ্গুনে ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্রির। তিনি বলেন, উন্নয়ন ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে দিল্লি বিপুল টাকা ঢালছে। কিন্তু সীমান্তে শান্তি না-থাকলে সেই উন্নয়ন অর্থহীন। দুই ভারতীয় কর্মকর্তার সূত্র ধরে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ বলেন, ‘মোরে-তামু সড়ক পথে বাণিজ্যের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু তার জন্য শান্তিই হল প্রথম শর্ত।’

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশে অবস্থানকারী ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের কি হবে, কে নেবে তাদের দায়িত্ব? এ নিয়ে অবশ্য কোনো বক্তব্য নেই ভারত ও মিয়ানমারের। রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যা নিয়েও তাই বুঝি নীরব নয়াদিল্লি।

সূত্র: আনন্দবাজার

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: