সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আওয়ামী লীগের দৃষ্টি এখন ছয় সিটি নির্বাচনে

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দৃষ্টি এখন সিটি নির্বাচনে। ২০১৮ সালে মার্চ-এপ্রিল মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের ছয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এসব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করতে ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দলবেধে ভোটারের কাছে যাবেন ভোট চাইতে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের ছয় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জয়-বিজয় নির্ভর করবে তৃণমুলে দলের জনপ্রিয়তা।

আর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়েই কার্যত শুরু হয়ে যাবে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের উত্তাপ। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর দিয়েই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও গাজীপুর সিটির ভোট হবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী এক’শ ৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

তাই বিধিমালা অনুযায়ী রাজশাহী সিটিতে আগামী বছরের ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবর, খুলনায় ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর,সিলেটে ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর, বরিশালে ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবর এবং গাজীপুরে ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনগুলোতে জয় পাওয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দলীয় প্রার্থীদের জয় পাওয়ার জন্য সর্বাত্বক চেষ্টা নিয়ে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের বিপরীতে লড়াইয়ের জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটও প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ত্র জানায়, নগরপিতার চেয়ারগুলো পুনরুদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টায় আওয়ামী লীগ। আর জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বিএনপি। এ অবস্থায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে মাঠ গরমের রাজনীতি শুরু হবে ২০১৮ সালে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংগঠনিক শক্তির মহড়া ও নিজেদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ করতে চায় আওয়ামী লীগ। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে তৃণমূল নেতাকর্মিদের সহযোগীতা করতে হবে।

নেতারা মনে করেন গোলযোগমুক্ত শান্তিপূর্ণ ভোট হলে ছয় সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীই বিজয়ী হবে। নীতিনির্ধারকরা মনে করেন দেশের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ছয় সিটিতে নৌকার প্রার্থীকেই বিজয়ী করবে। জনগণ আর বিএনপির দুঃশাসনে ফিরে যেতে চায় না। ঐকবদ্ধ আওয়ামী লীগকে হারানো সহজ হবে না। আশা করি তৃণমূল ঐকবদ্ধভাবেই কাজ করবে। দলের হাইকমান্ডের দিকনির্দেশনাও যথাসময়েই তুণমুলে পৌছে যাবে।

তবে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে দল। কার্যনির্বাহীর একাধিক সদস্য বলেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক থেকে সিলেটে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও রাজশাহীতে সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। সিটি নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেছেন মানুষ উন্নয়নের জন্য মহানগরগুলোতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে।

কারণ ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধি থাকলে উন্নয়নও সঠিকভাবে হয়। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দলের অপর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক মনে করেন বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগ অগ্রসর হচ্ছে। এজন্য প্রথমে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং একাধিক প্রার্থী যেন না থাকে সেজন্য এখন থেকেই কাজ করছে। তিনি বলেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণের মাধ্যমে আমরা সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই,দেশবাসী উন্নয়নের পক্ষে থাকবে। দলের আরেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা-বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান বলেন,জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি সহিংসতা ও নাশকতা করতে পারে এমন তথ্য আমাদের কাছে আছে।

আমরা উৎসবমুখর নির্বাচন চাই। এজন্য যা যা করা দরকার সরকার তাই করবে। এদিকে আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের জন্য দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা এ দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচন এলাকায় সফরে যাবেন। দলীয় সুএগুলো জানায় ছয়টি সিটি করপোরেশনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন চার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ছয় সাংগঠনিক সম্পাদক। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ সিলেটে,ডা.দীপু মনি গাজীপুরে, জাহাঙ্গীর কবির নানক রাজশাহী ও রংপুরে, আবদুর রহমান বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আহমদ হোসেন সিলেটে,বি এম মোজাম্মেল হক রংপুরে, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বরিশালে, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন খুলনায়, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী রাজশাহীতে ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন। এবং নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীসকল সদস্য ও নির্বাহী সদস্যরা অংশ নেবেন। তাদের সাথে দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকরা থাকবেন।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: