সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অবশেষে নির্মাণাধীন বিশ্বনাথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন থেকে খোলা হচ্ছে নিম্নমানের গ্রিল

বিশ্বনাথ সংবাদাতা ::
বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণাধীন নতুন ভবনে লাগানো নিম্নমানের গ্রিলগুলো অবশেষে খোলা হচ্ছে। সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মাণাধীন নতুন ভবনে পূর্বে লাগানো নিম্নমানের গ্রিল খুলে নতুন গ্রিল লাগানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তদারকিতে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রায় ১১ কোটি ৩০লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের কথা ইতিপূর্বে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম।
অনিক ট্রেডিং কর্পোরেশন নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু হয়। আগামী জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অভিযোগে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের পাথর, পাইলিং ভাঙা ডাস্ট, জানালায় নিম্নমানের এঙেল ব্যবহার ও চালনি না দিয়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজে পাথর বা ইটের খোয়া দিয়ে নির্মাণ কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পুরাতন বিল্ডিংয়ের পাইলিংয়ের ডাস্ট (ব্যবহৃত নি¤œমানের পাথর) দিয়ে কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের ছাদ ঢালাইসহ পিলার নির্মাণের কাজ করছেন। পিলারের রডের সঙ্গে বাঁধা রিংয়ের দূরত্ব প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি পর পর হওয়ার কথা থাকলেও সেই রিংগুলো দেয়া হয়েছে প্রায় ১৪-১৬ ইঞ্চি পর পর। কাচের জানালায় ব্যবহৃত গ্রিলের এঙেল ৩ এমএমের পরিবর্তে দেড় এমএম ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন জানালার মাপেও দেখা গেছে প্রায় ১ ইঞ্চি করে কম।
নির্মাণ কাজে এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। গত ২৬ অক্টোবর তিনি প্রকল্পের চলমান নির্মাণ কাজে অনিয়ম হাতে নাতে ধরেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক মোবাইলফোনে কথা বলেন এবং ২৮ অক্টোবর তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। এসময় এমপি ডাস্ট দিয়ে যেসকল কাজ চলমান তা বন্ধ রেখে অন্যান্য কাজ করার জন্য নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইট ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন মন্ডলকে নির্দেশ দেন। গত ২৮ অক্টোবর সরেজমিন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। ওই দিন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাননি স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বা সংশ্লি¬ষ্ট কাজের ঠিকাদার। এসময় পুরাতন পিলারের ডাস্ট (নিম্নমানের পাথর) ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে সাইট ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন মন্ডল বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি দুটি ভবনের ভিটার পাকায় এগুলো ব্যবহার করেছেন। আর জানালায় ব্যবহৃত স্টিলের এঙেলে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। অন্যদিকে এমপি এহিয়া চৌধুরী বিরুদ্ধে কাজের টিকাদারের কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠে।
গত ৩০ অক্টোবর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এহিয়া চৌধুরীর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় জানালায় ব্যবহৃত নিম্নমানের প্রেইম খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিল্ডিং পাইলিংয়ের পুরাতন ভাঙা ডাস্ট দিয়ে ভবনের যে দুটি ফ্লোরে কাজ করা হয়েছে তা ভেঙে নতুন করে কাজ করার এবং পুরাতন ভাঙা ডাস্ট দিয়ে কাজ না করার নির্দেশও দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: