সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ১৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কর ফাঁকি দিতে অফশোর কোম্পানিতে বিনিয়োগ প্রিন্স চার্লসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য অফশোর কোম্পানিকে বেছে নিয়েছিলেন। অফশোর কোম্পানিতে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন’ পাউন্ড বিনিয়োগের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে মুনাফা করেছেন চার্লাস। সম্প্রতি ফাঁস হয়ে যাওয়া প্যারাডাইস পেপারসের নথিতে এ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রিন্স চার্লসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হজ ভ্যান কাটসেমের মালিকানাধীন অফশোর কোম্পানিকে ব্যবহার করে গোপনে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। কর দেওয়া লাগে না বা করের পরিমাণ খুব কম, এ ধরনের স্থানগুলোয় এসব বিনিয়োগ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যক্তি মালিকানাধীন ডাচি অব কর্নওয়ালকে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগ থেকে মুনাফা করে সম্পদ বাড়িয়েছে ডাচি অব কর্নওয়াল।

উল্লেখ্য, ১৩৩৭ সালে ডাচি অব কর্নওয়াল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তৃতীয় এডওয়ার্ড। তার উত্তরসূরি প্রিন্স এডওয়ার্ডকে স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল কাজ, রাজতন্ত্রের যে সন্তানকে (বড় সন্তান) পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে ধরা হবে, তার ও তার পরিবারের জনসংযোগ ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য অর্থায়ন করা। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ৫৩ হাজার হেক্টর জমি আছে ২৩টি দেশে। এপ্রিলের সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, এর সম্পদের পরিমাণ ৯১৩ মিলিয়ন পাউন্ড।

তবে ডাচি অব কর্নওয়ালের অর্থে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে ট্যাক্স-হ্যাভেন অঞ্চলে বিভিন্ন ব্যবসার শেয়ার কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত ও কোম্পানির বোর্ড মেম্বারদের মধ্যকার আলোচনার ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে। এরপর বৃক্ষ নিধনের হাত থেকে বনকে রক্ষা করার জন্য কিছু ভূমি ক্রয় করা হয়। নথিতে দেখা যায়, নরফোক এলাকার দেড় এক হাজার ছয়শ হেক্টর জমির মালিক ও কোটিপতি ঘোড়ার খামারি হিসেবে পরিচিত হজ ভ্যান কাটসেম ব্রিটিশ যুবরাজকে একটি অফশোর কোম্পানিটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। যেখানে তিনি নিজে সে কোম্পানির পরিচালক ছিলেন।

জানা যায়, ১৯৬০ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে হজ ভ্যান কাটসেমের পরিচয় হয়। এরপর ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হন তারা।

নিজেদের রাজ্যে কর সুবিধা না থাকায়, ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লসের পুরনো ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিনিয়োগ করা হয় এক লাখ পাউন্ড। ২০০৮ সালে শেয়ার কেনার পর নিজের প্রকাশিত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বৃষ্টিবন (রেন ফরেস্ট) সৃষ্টির জন্য নতুন নতুন পরামর্শ চেয়েছিলেন প্রিন্স চার্লস।

প্যারাডাইস পেপারসের নথি থেকে আরও জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বারমুডার রাজধানী হ্যামিলটনে এসএমএফ নামে একটি কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন করে। ভ্যান কাটসেম নামের এক ব্যক্তি এর পরিচালক ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে মারা যান। কোম্পানিটির লক্ষ্য ছিল, বিশ্বের ক্রান্তীয় অঞ্চলগুলোর বনাঞ্চলে বিনিয়োগ করে দ্রুত ও বেশি মুনাফাসহ মূলধন ফিরিয়ে আনা। কোম্পানিটির বৈঠকের ২০০৭ সালের নথি থেকে দেখা যায়, ডাচি ওই সময় কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করে এবং ৫০টি শেয়ার কিনে নেয়।

তবে এ ব্যাপারে লেবার দলের এমপি ও কর বিষয়ক প্রচারণাকারী মার্গারেট হজ বলেছেন, ‘এসব ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজন আছে বলে নিশ্চিত করেছেন নথি প্রকাশকারীরা। তবে সব দেখে মনে হচ্ছে যে, প্রিন্স চার্লস তার বন্ধুর কোম্পানিতে বিনিয়োগের ধরন সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না। আর নিজে সরাসরি বিনিয়োগও করেননি তিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, ডাচি অব কর্নওয়ালের সব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা থাকা দরকার। কোনও বিনিয়োগের সঙ্গেই প্রিন্সের সম্পৃক্ততা থাকা উচিত নয়। অর্থ সংক্রান্ত দফতর থেকেই এসব দেখা উচিত।’

জানা যায়, প্যারাজাইস পেপারস ফাঁস হওয়ার আগে প্রিন্সের সম্পদ থেকে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্পর্কে কোনও নথি প্রকাশ করা হয়নি কখনো। এমনকি রাজপরিবারের বার্ষিক বিনিয়োগ, খরচ ও লেনদেনের বিস্তারিত হিসাবও প্রকাশ করা হয় না।

উল্লেখ্য, প্যারাডাইস পেপারস হলো বিশ্বের ১৮০টি দেশের রাজনীতিক, সেলিব্রিটি ও বিত্তশালী মানুষের অর্থনৈতিক লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের এক বিশাল ডাটাবেস। সম্প্রতি কর ফাঁকি দেওয়া বিষয়ে এক কোটি ৩৪ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ নথিই প্রকাশ হয়েছে বারমুডার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাপালবি থেকে। এসব নথি তদন্ত করে দেখছে বিশ্বের ৬৭টি দেশের ৩৮১জন সাংবাদিক। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট (আইসিআইজে) নামক সাংবাদিকদের সংগঠনটি একাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: