সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে ‘বিদ্যমান কর ও মূসক সংক্রান্ত বিভাগীয় সংলাপ’

৭ নভেম্বর  ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট এফেয়ার্স (আইডিয়া)’র উদ্যোগে এবং সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র’র সহযোগিতায় ‘বিদ্যমান কর ও মূসক সংক্রান্ত বিভাগীয় সংলাপ’ হোটেল সুপ্রিমে অনুষ্ঠিত হয়। জনাব মোহাম্মদ মতিউর রহমান, পরিচালক, স্থানীয় সরকার, সিলেট বিভাগ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সুপ্র সিলেট জেলার সভাপতি, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ড. ফয়সল আহমদ এর সভাপতিত্বে সংলাপে মূল আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন জনাব নজমুল হক, নির্বাহী পরিচালক আইডিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মতিউর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে কাজ করলে জনবান্ধব কর ব্যবস্থা প্রচলন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি সুপ্র কর্তৃক উপস্থাপিত কর ও মূসক সংক্রান্ত দাবীগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। উক্ত সংলাপে সুপ্র’র হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জের জেলা প্রতিনিধি, সরকারী সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, এনজিও কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমী, হাওর বিশেষজ্ঞগণ,ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ বক্তব্য রাখেন। 

দাবীসমূহ হল-
১. রাষ্ট্রের নাগরিক হিসাবে একজন ব্যক্তিকে যেমন কর দিতে হবে। তেমনি করের বিপরীতে নাগরিক সুবিধাগুলোও নিশ্চিৎ হওয়া দরকার।২. বিদ্যমান কর ব্যবস্থাটা অনেক জটিল। একটা সহজ কর ব্যবস্থা প্রবর্তন হওয়া দরকার যাতে করে মানুষ সহজে কর প্রদান করতে পারে এবং তাদের করভীতি দূরীভূত হয়।৩. স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিৎ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন যা কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক।৪. কর একজন ব্যক্তিকে তার আয় অনুযায়ী দিতে হলেও মূসক প্রত্যেককেই দিতে হয়। কোন কিছু ক্রয় করতে হলে একজন ভিক্ষুককে ও মূসক দিতে হয়। ধনী এবং দরিদ্র ব্যক্তি একই দাম দিয়ে দ্রব্য ক্রয় করে এবং একই পরিমান মূসক তাদেরকে প্রদান করতে হয়। এটা রাষ্ট্রীয় করনীতি সৃষ্ঠ একটা বড় ধরনের অবিচার।৫. নিন্ম আয়ের ব্যক্তিদের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের উপর থেকে মূসক (ভ্যাট) অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে দরিদ্র প্রবণ এলাকাকে মূসকের (ভ্যাটের) আওতামুক্ত রাখা যেতে পারে। সর্বোপরি কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নি¤œ আয়ের ব্যক্তিদের কথা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে মূসক (ভ্যাট) আইন নীতি প্রণয়ন করতে হবে।৬. প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ কর বিষয়ে আইন, নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারন জনগনের সাথে কোন আলোচনা করা হয়না। ফলে নীতি প্রণয়নে জনগনের মতামতের প্রতিফলন থাকেনা। যদিও এ ধরনের আইন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং শিল্পপতিদের সাথে আলোচনা করা হয়। জনগনের ইচ্ছা, আশা-আকাঙ্খা ও মতামত গ্রহণ করে ন্যায্যতা ভিত্তিক কর আইন ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে।৭. একজন নাগরিক হিসাবে একজন ব্যক্তিকে যেমন বাধ্যতামূল ভাবে কর দিতে হয় তেমনি সরকারকে ও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন যাতে করে মানুষ করের অর্থ ব্যবহার করার খাতগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে অবগত হতে পারে।৮. মানুষ অনেক কষ্ট করে ব্যাংকে টাকা ডিপিএস (সঞ্চয়) করে। ডিপিএসটা যখন ক্লোজ হয় তখন দেখা গেল ১৫% মূসক (ভ্যাট) বা একটা বড় অংশ কেটে নেয়া হয়েছে। অথচ ব্যাংক কর্তৃক এই তথ্য মানুষকে পূর্বে জানানো হয়নি। এভাবে মানুষের তথ্য জানার অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে। কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিষয়গুলো পরিস্কারভাবে জনগনকে জানাতে হবে।
৯. এডভোকেসি কর্মসূচি থেকে জানা যায় সারা দেশে ৮০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী আছে। তাদের মধ্য থেকে ৫০/৬০ লাখ লোকের ট্যাক্স প্রদান করার সামর্থ আছে। সরকার উদ্যোগ নিলে ১ কোটি লোকের কাছ থেকে ট্যাক্স সংগ্রহ করা সম্ভব বলে সকলেই মতামত প্রদান করে। কিন্তু সরকার ট্যাক্স সংগ্রহের পরিবর্তে সকলের উপর ভ্যাট চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে করে দরিদ্র ও অতি দরিদ্রদের জীবনে ভ্যাটের বোঝাটা ভীষণভাবে পড়ছে।১০. রাষ্ট্রীয় ব্যায় পরীবিক্ষন করার জন্য সংসদে যে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলো আছে সেই কমিটিগুলোর μিয়াশীলতা ততটা দৃশ্যমান নয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোকে সμিয় করা জরুরী।১১. বিদেশী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এদেশে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। তারা বিদ্যমান ১৮টি ট্রিটির ফাঁক-ফোকরগুলো ব্যবহার করে কোন রয়ালিটি প্রদান না করেই এদেশ থেকে টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু দেশীয় ব্যবসায়ীদের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা কর সংগ্রহে একটা রাষ্ট্রীয় অন্যায্যতা। সরকারের পক্ষ থেকে আইন সংস্কার-এর মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে রয়ালিটি সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এদেশ থেকে পাচার হওয়া সকল অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সরকারকে শক্তিশালী লবি শুরু করা আশু প্রয়োজন। – বিজ্ঞপ্তি

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: