সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেঘালয় বেষ্টনী ভেঙে ফেলার হুমকি

নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানো নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, সেই বেড়া ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে মেঘালয়ের সাউথ গারো হিলস জেলার একদল গ্রামবাসী। বেড়া বসানোর জন্য তাদের যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তার ক্ষতিপূরণ না পেলে এ সপ্তাহের মধ্যেই বেড়া ভেঙে দেওয়া হবে। এ নিয়ে সরকারকে স্মারকলিপিও দিয়েছে তারা।

‘ইন্দো-বাংলা বর্ডার ফেন্সিং ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ইবফ্লোয়া) নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে সম্প্রতি এই হুমকি দেওয়া হয়। ইবফ্লোয়া’র সদস্যরা প্রায় সবাই মেঘালয়ের সাউথ গারো হিলস জেলার বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকার ডাবরামে রীতিমতো বৈঠক ডেকে সংগঠনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সরকারের কাছ থেকে টাকা না মিললে সীমান্তের বেড়া আর থাকতে দেওয়া হবে না।

ওই অঞ্চলের গ্রামবাসীদের কাছ থেকে ভারত সরকার বেড়া বসানোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করেছিলো প্রায় চব্বিশ বছর আগে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে জিরো পয়েন্ট থেকে অন্তত দেড়শো মিটারের দূরত্ব রাখতে হয়। সে কারণেই ওই এলাকার কৃষকদের বেশ কিছু ধানি জমি বেড়ার ওপারে চলে যায়। কিন্তু সেই জমির জন্য চাষীদের যে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিলো, ভারত সরকার আজও তা পরিশোধ করেনি।

এ নিয়ে ইবফ্লোয়ার এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে। ন্যায্য পাওনার জন্য আর কত বছর আমাদের অপেক্ষা করতে হবে? আমাদের ধৈর্য শেষ, আর সে কারণেই আমরা স্থির করেছি আগামী বুধবারের (৮ নভেম্বর) মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা না পেলে আমরা সীমান্তের বেড়া ভেঙে দেবো।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সদস্য যে কৃষকরা, তাদের কাছে চাষ করার জমি নেই। অনেকে দারিদ্র্য সইতে না পেরে শেষ সম্বল জমিটুকুও বেঁচে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বেড়ার বাইরের পাশে আমাদের উর্বর কৃষিজমি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এ কারণেই আমরা বেড়া ভেঙে ওই জমির দখল নেবো বলে স্থির করেছি।

বাঘমারা এলাকায় বাতলাবন, কানাই, চেংনি, গুলপানি, রোঙ্গারা, ডাম্বুকাপাল, পান্ডাসহ অনেকগুলো গ্রামের কয়েকশ’ কৃষক এই জমি উদ্ধারের অভিযানে শামিল হবেন বলেও জানানো হয়েছে। এই গ্রামগুলোর প্রায় সবই বাঘমারার কাছে গাসুয়াপাড়া সীমান্ত রুট বরাবর অবস্থিত, যার অন্য দিকে রয়েছে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা।

সাউথ গারো হিলসের পুলিশ সুপার গ্রামবাসীর হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এই কারণেই সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যখন কাঁটাতারের বেড়া বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন সেই সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি দিল্লির। ঢাকার তাতে যে খুব একটা সায় ছিলো না। দুই দেশের মধ্যকার চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা সীমান্তের যেসব জায়গায় বেড়া বসানো হয়েছে, তার পুরো খরচ তাই ভারতই বহন করেছে।

কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য বহু জায়গাতেই ভারতীয় কৃষকদের চাষের জমি হারাতে হয়েছে। অনেক জায়গাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। কিন্তু মেঘালয়ে যেভাবে কৃষকরা এবার কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ফেলার কথা ঘোষণা করেছেন, সেই নজিরবিহীন হুমকিতে রীতিমতো দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের কপালে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: