সর্বশেষ আপডেট : ৩০ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রাইভেট ও কোচিং বন্ধে কঠিন আইন হচ্ছে

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক::

শিক্ষকদের কোচিং করানো বন্ধ করতে কঠোর বিধান রেখে প্রণয়ন করা হচ্ছে শিক্ষা আইন। এ আইন অমান্য করে কেউ কোচিং ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে তার এক বছরের জেল ও জরিমানা হবে। পাশাপাশি তিনি চাকরিও হারাবেন। কোচিং ব্যবসা, প্রাইভেট পড়ানো ও গাইড বই নিষিদ্ধ করে শিক্ষা আইনের এই খসড়া ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভর্তিও টিউশনসহ অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারবে না বলেও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য খসড়াটি শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

এছাড়া শিক্ষাস্তরের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বেতন ও ফি সরকার বা সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের থেকে অনুমোদন করে নির্ধারণ করতে হবে বলেও খসড়া আইনে উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি সরকার প্রণীত আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারণ হবে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও পাঠদানের অনুমতি বাতিল হবে। একইসঙ্গে দায়ীদের অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা এক বছর কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা আইন প্রণয়ন না করায় আইন ছাড়া শিক্ষানীতির এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষাসচিব (অতিরিক্ত শিক্ষাসচিব) মহিউদ্দিন খান বলেন, শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। খসড়ার বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা মতামত জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ও সচিব দেশে ফিরলে খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলার জন্য পাঠানো হবে।

অন্যদিকে ঢাকার ২৪টি সরকারি বিদ্যালয়ের আলোচিত ও সমালোচিত ৫২২ জন শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্যও খতিয়ে দেখছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। অভিযুক্ত শিক্ষকরা বছরের পর বছর একই প্রতিষ্ঠানে থেকে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ উপাজন করছেন বলে তাদের অন্যত্র বদলির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে সম্প্রতি সুপারিশ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উচ্চপর্যায়ের দল দীর্ঘ নয় মাস অনুসন্ধান শেষে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে শিক্ষকদের বদলিসহ পাঁচ দফা সুপারিশ রয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিয়ে কারো ছিনিমিনি করার অধিকার নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। কেন শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কোচিং সেন্টারে চলে যাচ্ছে—আমরা এ দিকটা ভালোভাবে খতিয়ে দেখছি। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারকে সুপারিশ করব।’

সূত্র জানায়, জাতিসংঘের ইউনেসকোর সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ফ্রান্সে অবস্থানরত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আগামী ১১ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে ৫২২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে শিক্ষা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরআগে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। তবে সে মতামতের কতটুকু গ্রহণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর সুপারিশের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ‘শিক্ষা আইন’ করছে। আইনের খসড়া চুড়ান্ত করতে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনেকগুলো সভা করেছে মন্ত্রণালয়। খসড়া চূড়ান্ত করতে পেরিয়ে গেছে ছয় বছর। সর্বশেষ জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে ‘শিক্ষা আইন ২০১৭’ পাস করতে চাইছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরআগে গত বছরের মে মাসে সরকার শিক্ষা আইনের একটি খসড়া প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়। দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত আহ্বান করা হয়। সেখানে তিন শতাধিক মতামত জমা পড়ে। বেশির ভাগ মতামতই আসে প্রাইভেট টিউশনি, কোচিং, নোট বই, গাইড বই ইত্যাদি নিষিদ্ধ করার পক্ষে। এর পর সে বছরের ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। তখন কোচিং-প্রাইভেট ও নোট-গাইড বৈধতা দেয়ার মতো বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন আপত্তি উঠলে সেটি ফেরত আনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর বিভিন্ন শ্রেনি ও পেশার মানুষের মতামত নিতে খসড়াটি আর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়নি। কেবল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত নিয়েই খসড়া প্রস্তুত করা হয়।

এদিকে কোন কারণে নতুন শিক্ষা আইন প্রনয়ণে বিলম্ব হলে এর বিকল্প হিেেসব শিক্ষা আইন প্রণয়নের আগেই সারা দেশের বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুবিধার্থে একটি নীতিমালা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন ও ফি নতুন আইনে নির্ধারণ করা হবে। তবে সেটি না হওয়া পর্যন্ত যেন ভর্তি ফি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোন ভোগান্তির মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য এ নীতিমালা করা হচ্ছে। ভর্তি নীতিমালার মধ্য দিয়ে ভর্তির নামে মনগড়া ফি আদায় বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় মহানগর, জেলা ও উপজেলা এলাকার বিদ্যালয়ে ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দেবে মন্ত্রণালয়। এ নীতিমালা অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠান বাড়তি ফি নিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ নীতিমালার ব্যাপারে আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আগামী সপ্তাহে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, তৈরি হতে যাওয়া নতুন ভর্তি নীতিমালায় বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ফি ধরা হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটনে তিন হাজার টাকা, জেলা শহরের বিদ্যালয়ের জন্য দুই হাজার টাকা, উপজেলা পর্যায়ে এক হাজার টাকা ও মফস্বলে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। এবার ভর্তি ফরমের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে যেসব শিশুর বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর, কেবল ওরাই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।

ভর্তির ফি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকরা অভিযোগ করে আসছেন। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ে ভর্তির ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দিলেও বেশির ভাগ বিদ্যালয় তা মানছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খেয়াল খুশিমতো ফি আদায় করছে। নীতিমালা থাকলেও তা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতি বছর এ নৈরাজ্যেও সৃষ্টি হয়। ভর্তির ফি নির্ধারণে নীতিমালা থাকলেও মাসিক ফি নির্ধারণের নীতিমালা নেই। এ সুযোগে ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো অভিভাবকদের না জানিয়ে শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন বাড়াচ্ছে। শিক্ষার বাড়তি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা। নিরুপায় হয়ে এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেও কোনো ফল হয়নি।

তথ্যমতে, ঢাকার নামকরা বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ভর্তিপ্রক্রিয়া। আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। লটারি নিয়েও বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার লটারি ও অন্যান্য কার্যক্রমের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দল মাঠে থাকবে বলে জানায় সূত্র।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: