সর্বশেষ আপডেট : ২৬ মিনিট ৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা : আপিল আবেদন তালিকা থেকে বাদ

নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীর পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে খালাস করে দেয়া চার আসামির দণ্ড বাড়ানোর আপিলে সাড়া দেয়নি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।

সোমবার হাইকোর্টে রায়ের স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক তিন আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বার জজ আদালত।

এতে চার আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন তা বহাল থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়েছে।

আদালতে আজ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মধুমালতি।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজন ও যাবজ্জীবন পাওয়া দুজনকে হাইকোর্ট খালাস দিয়েছিলেন। এই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি আবেদন করে। আজ চেম্বার বিচারপতি আবেদন তিনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছেন।

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে খালাস করে দেয়া চার আসামির দণ্ড বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।

যাদের সাজা বাড়াতে আবেদন করা হয় তারা হলেন, সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া টিপু এবং এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা।

গত ৩১ অক্টোবর বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়।

গত ৬ আগস্ট দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং অপর দু’জনকে খালাস দেয়া হয়।

এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেছিলেন তারা খালাস পান। অপর ১১ জনের যাবজ্জীবন দণ্ড বহাল রাখা হয়।

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ২১ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে ছাত্রলীগের একদল কর্মী বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ আটজনকে ফাঁসি ও ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

তখন মৃতুদণ্ডাদেশ দেয়া হয় রফিকুল ইসলাম শাকিল, মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন, সাইফুল ইসলাম, কাইয়ুম মিঞা টিপু, রাজন তালুকদার এবং মীর মো. নূরে আলম লিমনকে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় এএইচএম কিবরিয়া, ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, গোলাম মোস্তফা, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়।

রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথরেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।

ওই ডেথ রেফারেন্স ও আসামিপক্ষের করা আপিলের রায়ে রফিকুল ইসলাম ওরফে শাকিল ও রাজন তালুকদারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি মাহফুজুর রহমান ওরফে নাহিদ, ইমদাদুল হক ওরফে এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান ওরফে শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া টিপু এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে খালাস দেন আদালত।




নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: