সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এতকিছু থাকতে শতবর্ষী গাছগুলোর উপর চোখ পড়ল স্কুল প্রশাসনের?

সাদিক তাজিন ::
শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ আমাদের অস্তিত্বের শেকড়। আমরা আজ যে যাই হয়েছি তার মুলে এই বিদ্যাপীঠের অবদান। তাই মা বাবার পরেই আমাদের হৃদয়ে শাহবাজপুর হাই স্কুলের নাম! এই প্রতিষ্ঠানের ঘাসগুলোও আমাদের পরম আপন। আমাদের স্মৃতির পুরো অংশ জুড়ে রয়েছে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়, তার সুউচ্চ ভবনগুলো, পরম শান্তিছায়া নিয়ে দাড়িয়ে থাকা গাছগুলো।

হঠাৎ করে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের মহিরুহ বৃক্ষগুলো তথাকথিত অবকাঠামো উন্নয়নের নাম করে কেটে ফেলার স্বিদ্ধান্তের কথা শুনে হৃদয়ে চোট লাগলো! এ কেমন কথা? বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে শেষ পর্যন্ত শতবছরের স্মৃতিগাথা নিরীহ গাছগুলো কাটার দরকার পড়লো? বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দেউলিয়া হয়ে থাকলে সেটা এলাকাবাসীকে জানালেও পারতেন! এই স্কুলের যখন কোন কিছুই ছিলনা(চতুর্পাশে নিজস্ব মার্কেট), তখনও শ্রদ্ধেয় হেডস্যার আছদ্দর আলীর বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে, মৌসুমী ধান সংগ্রহ করে বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন, তবু ঘুণাক্ষরেও বিদ্যালয়ের প্রাণ গাছগুলো কাটার কথা চিন্তাও করেননি।
আজ যখন সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বর্তমান রয়েছে, এলাকার মানুষের জীবনমানও আগের চেয়ে ঢের উন্নত, তখন বিদ্যালয়ের গাছগুলো বিক্রয় করতে হবে কেন?

প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করতে গাছগুলো না কেটেও যে করা যায়, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছিলেন আছদ্দর আলী স্যার ও পরবর্তীকালে খলিলুর রহমান স্যার। সুতরাং উন্নয়নের নামে পরিবেশবান্ধব এই গাছগুলো কেটে ফেলার আষাড়ে গল্প শাহবাজপুরবাসী প্রাক্তন ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, শুভানুধ্যায়ীরা কেউই মানবে না।
শতবর্ষী গাছগুলো কেটে ছায়া সুনিবিড় এই বিদ্যালয়কে কি জেলখানা বানাতে চায় স্কুল প্রশাসন? -এটাই এখন জনমনে মুখ্য প্রশ্ন!
গাছগুলো কেটে হয়তো ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করা যাবে কিন্তু স্কুলের ঐতিহ্যের স্মারক এই গাছগুলোকে ফিরে পাওয়া যাবেনা। এরকম গাছ পূনরায় পেতে শতবছর অপেক্ষা করতে হবে।
পরিবেশগত সমস্যায় জর্জরীত আমাদের দেশ। নানামুখী প্রাকৃতিক দূর্যোগ বছরজুড়ে ভূগায় দেশের ষোলকোটি মানুষকে। খোদ পাঠ্য বইয়ে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় যখন বৃক্ষরোপনের কথা পড়ানো হয়, সরকারী বেসরকারি উদ্যোগে যখন সারাদেশে গাছ না কেটে মাত্রাতিরিক্ত গাছ লাগানোর কথা বলা হয়, ঠিক তখন কি করে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুলের প্রবীন এই গাছগুলো কাটার আত্মজ্ঞাতী স্বিদ্ধান্ত নেয় এটা ভেবে পাইনা।

প্রকৃতি-পরিবেশ সম্পর্কে ছাত্রদের কি পড়ান তাঁরা? নাকি বইয়ের কথা বইয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে বলেন বাচ্ছাদের? এশিয়ার বিখ্যাত নিসর্গবিদ দ্বিজেন শার্মা বেঁচে থাকলে লজ্জায় খাবি খেতেন। কারণ শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ তার জন্ম উপজেলার অন্তর্গত! যেখানে তিনি জীবনভর গাছ লাগানো ও রক্ষার গুরুত্ব বলে বেড়িয়েছেন বিশ্বময়, সেখানে তাঁর এলাকায় একটি সবুজাভ স্কুলের গাছ কেটে মরুভুমি বানানোর নিষ্টুর পায়তারা চলছে। এটা নিঃসন্দেহ অতিব দুঃখজনক!
আমরা আশা করবো- বিদ্যালয়ের পরিবেশের কথা, বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের কথা, এমনকি সহস্র ছাত্রদের স্মৃতির কথা মাথায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ টেন্ডার করে থাকলে তা বাতিল করে নিরীহ গাছগুলো না কেটে বহাল রাখবেন। এবং এটাই হবে বিদ্যালয়, কর্তৃপক্ষ, ছাত্রছাত্রী, পরিবেশ সবার জন্য কল্যাণকর। কেননা ইতিমধ্যে এই বিদ্যালয়ের সন্তান, প্রাক্তন ছাত্ররা অনলাইনজুড়ে তাদের ক্ষোভ ও আপত্তির কথা প্রকাশ করে চলেছেন। এ ক্ষোভ অনলাইনেই থাকুক আমরা চাই। অফলাইনে এলে যে বিপত্তি ঘটার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে তা অনুমেয়।

সুতরাং বিদ্যালয়ের গাছগুলো বহাল রেখে কর্তৃপক্ষ সুস্থ ও স্বাভাবিক চিন্তার প্রকাশ ঘটাবেন এটুকু আশা করবো।

লেখক : কবি, গীতিকার

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: