সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অটোরিকশা চালকের সততা

নিউজ ডেস্ক:: এটিএম বুথের মাধ্যমে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৫ হাজার টাকা জমা দেওয়ার জন্য গত শনিবার বিকেলে বের হন মারলিন। সিলেট শহরে খুব সহজেই পেয়ে গেলেন অটোরিকশা। তাড়া থাকায় গন্তব্যে পৌঁছে ঝটপট নেমে গেলেন তিনি। ভাড়া বুঝে পেয়ে অটোরিকশা চালক ছুটলেন তার পরের গন্তব্যে। টাকা জমা দেওয়ার সময় মারলিন বুঝলেন কিছু একটা ভুল হয়েছে। সঙ্গে থাকা ব্যাগ অটোরিকশায় ফেলে এসেছেন তিনি। তার মাথা যেন আর কাজ করছিল না!

মারলিন বলেন, ‘প্যান্টের পকেট হাতড়ালাম মুঠোফোনটি আছে আর কিছু নেই। ব্যাগে ৩৫ হাজার টাকা, যা ব্যাংকে রাখতে এসেছিলাম। ভীষণ জরুরি কিছু কাগজপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, দুই ব্যাংকের দুটি ডেবিট কার্ড, চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক আরো যে কত কি! ব্যাগ তো না, ওটা যেন আমার সংসার।’

মারলিন এখানে-সেখানে ফোন করলেন, ব্যাগ হারানোর খবর এখানে-সেখানে দিলেন। কিছুই কূলকিনারা করতে পারলেন না। মারলিন বলেন, ‘আমার সিলেটের বন্ধুরা সিএনজি মালিক সমিতিকে জানাল, সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোতেও জানানো হলো, কিছু হলো না। রাতে মন খারাপ করে হোটেল ফিরলাম। ঘুম আসছিল না। শুয়ে শুয়ে ল্যাপটপ ঘাঁটছি, এমন সময় একটি ফোন এলো রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে। আমার এক বন্ধু ফোন করেছেন। বন্ধু জিজ্ঞেস করলেন, মারলিন, আপনার কী ব্যাগ হারিয়েছে? মারলিন অবাক হলেন। তার ব্যাগ হারানোর কথা ওই বন্ধুর জানার কথা নয়। মারলিন বললেন, আপনি জানলেন কীভাবে? বন্ধুটি বললেন, চালক তাকে ফোন করেছে। ওই ব্যাগে মারলিনের ওই বন্ধুর কার্ড ছিল। কার্ডে নম্বর পেয়েই অটোরিকশা চালক বাদশা সেলিম ফোন করেছেন।’

মারলিন বলেন, বন্ধুর কাছে চালকের নম্বরটি নিয়ে আমি ফোন করলাম নম্বরটিতে। অপর প্রান্ত থেকে চালক বললেন, ‘আফা আফনের ব্যাগ আমার কাছ, আসিয়া নিবা তুমি? আমি সেলিম।’ কিছুটা বিস্মিত আমি নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললাম, ‘না এখন তো অনেক রাত। আপনি কাল বেলা ১১টার দিকে আসেন। ঠিকানাটা বললাম।’

পরদিন সেলিম এলেন। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তিনিই বিরাট অপরাধী। তাকে ডেকে নিয়ে চা-মিষ্টি খাওয়ালেন মারলিন। ব্যাগ মারলিনের হাতে তুলে দিয়ে বারবার সেলিম জানতে চাইলেন সব ঠিক আছে কি না, ‘আফা, সব ঠিক আছে তো? নাম-ঠিকানা বাইর করণ লাগি হামার বউ আমি ব্যাগও হাতাইছি। যেমন যা ছিল সব তেমনই আছে।’ পরে মারলিন জোর করে ৫০০ টাকা দিতে চাইলেন সেলিমকে। কিন্তু তিনি কিছুতেই টাকা নেবেন না। একটু পর বের হয়ে গেলেন সেলিম। মারলিনের মনে হলো, হ্যাঁ, সেলিমের মতো মানুষদের চরিত্র তো এমনই হওয়ার কথা! তাকে টাকা দিলে নেবেন না, এটাই তো স্বাভাবিক।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: