সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

গোলাপগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে দৃষ্টিনন্দন ডাকবাংলোটি

গোলাপগঞ্জ সংবাদদতা ::
গোলাপগঞ্জে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ডাকবাংলোটি প্রশাসনের অবহেলা আর অযতনে পতিত হয়ে পড়ে রয়েছে। লোকমুখে ডাকবাংলো শোনা গেলেও বাস্তবে লতাপাতা আর জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। এছাড়া মূল্যবান লোহার জিনিসপত্র অযতনে পড়ে মরিচা ধরেছে। গোলাপগঞ্জ পৌর সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে কদমতলী ও এমসি একাডেমী কলেজের মধ্যবর্তী স্থানে ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে।
এই ডাকবাংলোতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তারা এক সময় অবস্থান করতেন। এখন অবস্থান করা দূরে থাক, দেখার কেউ নেই। লতাপাতায় বাংলোটি জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। এখানে সড়ক ও জনপদের রাস্তার কাজে ব্যবহৃত বিটুমিন (গালা) রাখা হতো। বর্তমানে এ স্থানটি কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকবাংলোর আশপাশের লোকজন জানান দীর্ঘদিন ধরে এখানে রক্ষিত মূল্যবান জিনিসপত্রে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। ডাকবাংলোটি দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত হয়ে থাকায় সরকারি মালামালের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি বেদখলে চলে যাচ্ছে। এছাড়া কয়েক কোটি টাকার ভবন ও স্থানটি সংরক্ষণের অভাবে অরক্ষিত। সিলেট- জকিগঞ্জ সড়কের সুরমা ডাইক সংলগ্ন এ স্থানে জনস্বার্থে ব্যবহৃত হলে এ অঞ্চলের মানুষ যেমন উপকৃত হতেন, তেমনি সরকারও প্রচুর লাভবান হতো।
সচেতন মহলের অভিযোগ ডাকবাংলোটি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে থাকলে এক সময় ডাকবাংলোর কোনো অস্তিত্ব খোঁজে পাওয়া যাবে না। ব্রিটিশ আমলে নদীপথে এখানে নৌকা বোঝাই সরকারি কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ মালামাল আনানেয়া হতো। স্থলপথে যাতায়াতের উন্নতি সাধিত হওয়ায় এখন আর সে দৃশ্য চোখে পড়ে না। কারণ আগের তুলনায় সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়ে গেছে। কালের বির্বতনে অনেক কিছু পরিবর্তন হলেও পরিবর্তন হয়নি ডাকবাংলোটির। সড়ক ও জনপথের শ্রমিক নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরের পাহারাদার আহসান হাবীব জানান, সরকারি এই ভূমি অপদখলে চলে যাচ্ছে।
ডাকবাংলোটির অনেক মূল্যবান সম্পদ জং ধরে অযতনে অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সওজের কোটি টাকা মূল্যের জং ধরা যন্ত্রাংশ। অরক্ষিত হয়ে পড়ে রয়েছে জরাজীর্ণ কয়েকটি ঘর। অতীতে ডাকবাংলোতে কাঁটাতারের বেড়া ছিল, এখন আর নেই। কোনোমতে কালের সাক্ষী হয়ে ডাকবাংলোটির একটি চৌচালা টিনের ঘর দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই বাংলোর চারদিক ঘিরে রয়েছে গভীর জঙ্গল। জঙ্গলে দিন দুপুরে চলে নানা অনৈতিক কর্মকান্ড। বর্তমানে এটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, আসলে এটি জেলা পরিষদের জায়গা। তারপরও এরকম জায়গা সুন্দর করে রাখা দরকার। তবে সময় করে জায়গাটি দেখে আসব এবং পুনর্নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করব।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষ দাস জানান, ডাকবাংলোটি আমাদের তত্ত্ববধানে রয়েছে। সরকারি কাজে ব্যবহৃত নানা ধরনের সরঞ্জামাদি বিটুমিনস, পাথর, খোয়া এখানে রাখা হয়। তবে এটি ব্যহত হওয়ার কোনো খবর পাইনি। বাংলোটি পুনর্নির্মাণে আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে। সরকারি অনুদান পেলে করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: