সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাস উৎসবে নন্দিনী

মানুষের প্রচন্ড ভীড় ঠেলে এদিক ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে নন্দিনী। তাকাচ্ছে এদিক সেদিক। খোঁপায় যে লাল গোলাপটি সুন্দর মানাচ্ছিল তাকে সেই গোলাপ ফুলটি মানুষের পায়ে পৃষ্ট হয়ে তার সব সুন্দর্য হারিয়েছে সেই দিকে লক্ষ নেই নন্দিনীর। সে এই হাজারো মানুষের ভীড়ে খোঁজে বেড়াচ্ছে দিগন্তকে। কেউ রাস উৎসবে মনমুগ্ধ হয়ে মনিপুরীদের নাচ দেখছে, কেউ রাস উৎসবে বসা মেলার জিনিসপত্র কিনতে ব্যস্ত। কেউবা আবার প্রিয়জন নিয়ে নাগরদোলায় চড়ছে। আর নন্দিনী ভীরের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া তার দিগন্তকে খুঁজছে।

বিকেলবেলা যখন দিগন্তের সাথে রাস উৎসবে যাবার জন্য বেড়িয়েছিল তখন খুশিখুশি ভরা মুখ নিয়ে নন্দিনী বলেছিল আজ সারারাত তোমার হাত ধরে ঘুরে বেড়াব। একসাথে ফুসকা খাব, নাগরদোয়ায় চড়বো। পূর্বের কথার সাথে মিল রেখে দুজন বেড়িয়েছিল রাস উৎসবের উদ্যেশ্যে। রাস উৎসবে এসে ত তারা অবাক । এত মানুষ । এত মানুষের ভীড়। ভীড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেল দুজন। তিনটি নাট মন্দিরে এক সাথে চলছে রাসের নৃত্য। মহিলা এবং পুরুষের জন্য সেখানে আলাদা আলাদা লাইন করা। নন্দিনী মহিলাদের লাইনে গেল। দিগন্ত অনিচ্ছা সত্তেও পুরুষদের লাইনের ভিতর গেল।
মানুষের এত ভীড় ঠেলে ঠেলে সামনের দিকে যাচ্ছে নন্দিনী। রাস উৎসব দেখার জন্য আয়োজ করা মাটির উপর কাপড় বসিয়ে রেখেছিল যাতে করে দর্শনার্থীরা বসে বসে দেখতে পারে। নন্দিনী একটি মঞ্চের সামনে বসলো। সামনে মনিপুরি মেয়েরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নৃত্য করার ব্যস্ত। সে কি মনমুগ্ধকর নৃত্য না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না।

নন্দিনী নৃত্য দেখছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছে। দিগন্ত যে বাহিরে তার জন্য অপেক্ষা করছে সেই খেয়াল নেই তার। রাস দেখতে দেখতে হঠাৎ করে নন্দিনী বুঝতে পারলো তার হাতের পাশে থাকা হাত ব্যাগটি আর পাশে নেই । যে ব্যাগে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল।
নন্দিনীর চোখে জল চলে এলো। কিছুক্ষণ আগেও পাশে বসা মানুষদের খুব আপন মনে হয়েছিল,এখন তাদের সবাইকে অপরিচিত মনে হচ্ছে। একটা ভয় কাজ করতে শুরু করলো তার। বসা থেকে উঠে বাইরে চলে এলো। এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো।

মানুষের সমুদ্রের ভিতর দিয়ে একা একা হেটে যাচ্ছে নন্দিনী। প্রায় মধ্যরাত তবুও যেন মানুষের ভীর কমছে না, বেড়েই চলেছে। যখন প্রেমিকা ছিল তখন দিগন্তের নাম্বার টুটস্থ ছিল। বিয়ের পর নন্দিনী সব সময় কাছে পেয়েছে দিগন্তকে। নাম্বারের মনে রাখার প্রয়োজন পরেনি কখনো। এখন অনেক চেষ্টা করেও সেই নাম্বারটি মনে করতে পারছে না। নন্দিনী একা একা খুঁজাখুঁজি করছে। তার কাছে মনে হচ্ছে সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাস উতসবে আসা অনেক মানুষরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নন্দিনী তাদেরকে দেখে প্রচন্ড পরিমানে মিস করছে তার প্রিয় দিগন্তকে। সারা রাত নন্দিনী কেঁদেছে। একটা ফুসকা’র দোকানে বসে বসে দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা একজন আরেকজন কে ফুসকা তুলে খাওয়াচ্ছে। সেই দৃশ্য দেখে তার ভীতরটা হাউমাউ করে কেঁদে উঠছে।এভাবে কাটলো সারাটা রাত।ভোর হয়ে আসছে, চারদিকে আলোর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের ভীড় কমে এসেছে কিছুটা, একটা দেয়ালে পিঠ থেকে বসে রয়েছে নন্দিনী। অনেক ক্লান্ত সে, চোখে রাজ্যের ঘুম। অনেক দুর থেকে দেখতে পেল দিগন্ত। প্রায় দৌড়ে কাছে আসলো। জড়িয়ে ধরলো প্রিয় নন্দিনীকে, অশ্রুশিক্ত নয়নে শক্ত করে ধরে রাখলো নন্দিনী। দুজনের কারো মুখে কথা নেই। আলো বাড়ছে । রাতের সব অন্ধকার সব বেদনা সব এক মুহুত্তে ভুলে গেল নন্দিনী। এখন তার কাছে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। দিগন্ত শক্ত করে নন্দিনীর হাত ধরলো, অনেক শক্ত করে যাতে আর কখনো হারিয়ে না যায় তার প্রিয় নন্দিনী।

লেখক: শিমুল তরফদার, স¤পাদক, নাগরদোলা সাহিত্য পত্রিকা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: