সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস : রিভিউ চেয়ে আবেদন

নিউজ ডেস্ক:: যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) করাবাস’আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হয়েছে। রোববার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
সাভারের এক হত্যা মামলার আপিলের রায়ের সময় ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু কারাবাস’ (ন্যাচারাল লাইফ) বলে আপিল বিভাগের মন্তব্য করে ২৪ এপ্রিল ঘোষণা করা রায়ের পুর্নবিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে আজ।

রোববার আবেদনকারী আতাউর রহমান মৃধার আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

 

গত ২৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশ পায়। ২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ২০০৩ সালে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। আপিলের পর বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল থাকে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন সর্বোচ্চ আদালত। রায় ঘোষণার সময় আপিল বিভাগ ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু কারাবাস’এমন মন্তব্য করেন বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তবে ওই দিন অন্যান্য মামলার আসামির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে কিনা সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, সকলের ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য হবে কিনা, সেটি পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।

একই দিন খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস। তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি।

‘আমি বলেছি, দণ্ডবিধির ৫৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ ৩০ বছর। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে রেয়াত পেয়ে দণ্ড আরও কমে আসে। যদি আমৃত্যুই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের রেয়াতের কি হবে? আমি আরও বলেছি, প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য যেন মূল রায়ে না থাকে। তবে যদি থাকে, তাহলে সব আসামির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে।’

ওই দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘সাভারের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ। তবে আদেশে বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাদণ্ড। তখন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর।’

এদিকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে এটাই বিধান। এ ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডটা হচ্ছে ব্যতিক্রম। যখন এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাউকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দেয়া হয়, তখন এর কারণ অবশ্যই উল্লেখ করতে হয়। দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ ৪৫ ধারার সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

আদালত আরও বলেন, যদি হাইকোর্ট বিভাগ বা এ আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন এবং নির্দেশ দেন যে, তার স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত এ দণ্ড ভোগ করবে, তখন এ ধরনের মামলায় সাজা কমানোর আবেদন গ্রহনযোগ্য হবে না। আদালতের এ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপরাপর আসামির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে বলা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: