সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজ সিপিএ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক::

নভেম্বরের ১ তারিখ থেকে ছোট আকারে শুরু হলেও আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো ঢাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (সিপিএ) ৬৩তম সম্মেলন। সংস্থাটির ভাইস প্যাট্রন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষণা করবেন। এসময় তিনি সিপিএ’র প্যাট্রন ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথের পাঠানো শুভেচ্ছা বাণীও পড়ে শোনাবেন।

সম্মেলনকে ঘিরে এরইমধ্যে বর্ণিল রঙে রাঙানো হয়েছে জাতীয় সংসদ ও এর আশেপাশের এলাকা। লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন। আগত অতিথিদের নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। এর আগে ১ নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে সিপিএ’র স্মল ব্রাঞ্চের বিভিন্ন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাশ্বত একখণ্ড বাংলাদেশ তুলে ধরা হবে আগত ছয় শতাধিক বিদেশি অতিথিদের সামনে। এতে তুলে ধরা হবে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে।
সিপিএ চেয়ারপার্সন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, কাল আনুষ্ঠানিক শুরুর দিনই বিকেল সাড়ে ৩ টা থেকে ৪ টা ১৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেইমে অনুষ্ঠেয় সিপিএ’র নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও সমাধানের উপায়’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা উত্থাপন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচএম মাহমুদ আলী। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও সিপিএ’র নির্বাহী কমিটির ৮টি সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে কেউ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলেও জানান তিনি।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সিপিএ’র ঢাকা সম্মেলনে দুটি প্লেনারি সেশন ও আটটি ওয়ার্কশপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞগণ ও সংসদ সদস্যগণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, স্বাগতিক বাংলাদেশ শাখার উত্থাপিত লিঙ্গবৈষম্য, দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, সংসদীয় কাজ সম্পর্কে যুবকদের অবহিত করা ছাড়াও কমনওয়েলথের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সংসদ সদস্যদের ভূমিকার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুটি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত না হলেও সিপিএ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বিষয়টি আলোচনা করবেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যগণ যে সব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন এবং এ থেকে তারা যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন সেসব বিষয়ে মত বিনিময়ের একটা সুযোগ করে দেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলন। আমরা আশা করবো স্বাগতিক বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন সম্মেলন সংসদীয় গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সমুন্নত রাখতে অবদান রাখবে।

সিপিএ’র অন্তর্ভুক্ত ৫৪টি দেশের ১৮০টি জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৬৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এ পর্যন্ত ৪৪টি দেশের ১১০টি ব্রাঞ্চের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন। বাকীরাও আসার পথে রয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সিপিএ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচিত করেছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া।

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্টের সমন্বয়ে সিপিএ গঠিত হয়। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সময়ে ১৯২২ সালে এসোসিয়েশন গঠিত হওয়ার সময় এর নাম ছিল ইম্পেরিয়াল পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (ইপিএ)। তখন এর সদস্য ছিল অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউফাউন্ডল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্য। পরবর্তী কালে ১৯৪৮ সালে ইপিএ’র নতুন নামকরণ করা হয় সিপিএ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবসান হয় এবং ঔপনিবেশিক দেশগুলো স্বাধীনতা লাভ করে। এক সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীন রাষ্ট্রগুলো স্বাধীন হলে, স্বাধীন এ রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয় কমনওয়েলথ এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (সিপিএ)। বর্তমানে বিশ্বের ৫২টি দেশ কমনওয়েলথের সদস্য।

কমনওয়েলথের কোন সনদ বা গঠনতান্ত্রিক কাঠামো নেই। জাতিগত বৈষম্যহীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনসহ বেশ কিছু সাধারণ মূল্যবোধ ও উন্নয়নে কমনওয়েলথ কাজ করে। সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী আলাপ আলোচনার জন্য প্রতি দু’বছর অন্তর কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন থেকে যেসব ঘোষণা বা বিবৃতি দেয়া হয় সব দেশ তা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। ১৯৭১ সালে সিঙ্গাপুরে এবং ১৯৯১ সালে হারারে রাষ্ট্রপ্রধানদের ঘোষণায় রাষ্ট্রগুলো অবশ্যই আন্তর্জাতিক শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় জাতিসংঘকে সহায়তা প্রদান, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সম-অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস রাখা, সুশাসন ও মৌলিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার বিকাশের উপর জোর দেয়।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথে যোগ দেয়। কমনওয়েলথের অধিকাংশ সদস্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়। কমনওয়েলথে যোগ দেয়ার পর থেকে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে কানাডার অটোয়ায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে প্রথমবারের মত যোগ দেয় বাংলাদেশ। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: