সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের মুখ থুবড়ে পড়েছে স্বাস্থ্য সেবা ,দেখার নেই কেউ

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া,তাহিরপুর:: সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর,জামালগঞ্জ,দিরাই,শাল্লা,ধর্মপাশা,তাহিরপুর,ছাতক,দোয়রা বাজার সহ ১১টি উপজেলার হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল,ঔষধ ও যন্ত্রপাতি সংকট থাকায় স্বাস্থ্য সেবা চরম বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নতুন মূল্যবান যন্ত্রপাতি দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট জনবল না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার জেলার ২৫লক্ষাধিক জনসাধারন। জেলা ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কমিউনিটি ক্লিনিক,উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে মা,শিশু ও গর্ভবতি মহিলা সহ চিকিৎসা সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার হাজার হাজার জনসাধারন চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। জানাযায়,সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কায্যালয়ে ৪৩টি পদের মধ্যে ২১পদ র্দীঘ দিন ধরেই শূন্য রয়েছে। জনবল সংকট থাকায় জেলার ১১টি উপজেলা হাসপাতালে কার্যক্রম সঠিক ভাবে তদারকি ও করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। দিন দিন এই জনবল সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ফলে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল গুলো নিজেই রোগী হয়ে লাইফ সার্পোটে আছে যেন দেখার কেই নেই।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে আরো জানাযায়,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে যে পরিমান চিকিৎসক থাকা প্রয়োজন সেখানে ৪ভাগের এক ভাগ রযেছে। জনসাধারনের প্রাপ্য চিকিৎসা সেবার অর্ধেকও পূরন করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি ৫০শর্য্যা ৫টি ৩১শর্য্যার। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ১হাজার ৯০২টি বিভিন্ন পদে জনবল থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে ৭৬৭জন কর্মরত। খালি আছে ১হাজার ৭টি পদের অধিক। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার ২৫০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ৮৭জন। পদ শুন্য রয়েছে ১২৩জনের। ৯টি উপজেলায় ৯জন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ও ৯টি এনেস্থলজিষ্ট পদ রয়েছে। কিন্তু এই ১৮টি পদেই শূন্য রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরেই। প্রথম শ্রেনীর নন-মেডিকেল অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ২জন। শুন্য রয়েছে ৪জনের। ডেন্টাল সার্জন ১১টি পদের মধ্যে ৭জন কর্মরত আছে। ৪টি পদ শুন্য রয়েছে। ৪০৯টি নাসিং পদের মধ্যে কর্মরত আছে ২৪৮জন। ১৬১জনের পদেই শুন্য রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেনীর ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ১জন। ৫জনের পদেই শুন্য রয়েছে। প্যারামেডিক্স ২২৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ৮১জন। ১৪৩টি পদেই শুন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারী পদের সংখ্যা ৪৩৫জন। এর মধ্যে ৩২৭জন কর্মরত আছে। শুন্য রয়েছে ১০৮জন। তৃতীয় শ্রেনীর ২৮৭জনের ১৬৯জন কর্মরত রয়েছে। শূন্য রয়েছে ১১৮জন। চর্তুথ শ্রেনী কর্মচারী ২৮৫জনের মধ্যে ১৩১জন কর্মরত আছে। শূন্য রয়েছে ১৫৪জনের। জেলা সদর হাসপাতালে ২২৮নাসিংয়ের মধ্যে ২৯জন কর্মরত আছে। ১০জন সিনিয়র কনসালটেন্টের মধ্যে কর্মরত আছে ৬জন। ৪জনের পদ শুন্য রয়েছে। জুনিয়র কনসালটেন্টের ১১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছে ৪জন। মেডিকেল বা সহকারী সার্জন ৩৮টি পদের মধ্যে ৮জন কর্মরত আছে। ৩০টি পদেই শুন্য রয়েছে। এদিকে তাহিরপুর উপজেলার ৩০শর্য্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেন্টাল,ল্যাব টেকনোলজিষ্ট,রেডিওগ্রাফার পদ র্দীঘ শূন্য রয়েছে ফলে কোন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য যেতে হচ্ছে বাহিরে। ৩টি জেনারেটার ১১বছর যাবৎ নষ্ট হয়ে পরে আছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীরা গরমে ছটফট করে। হাসপাতালের জন্য একটি নৌ এ্যাম্বোল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় কোন কাজে আসছে না। এক্সরে মেশিন ঘরে ভিতরে থেকে ও নৌ এম্বোল্যান্স নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালের পুকুরের পানিতে ডুবে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকার সম্পদ।

অন্য দিকে তাহিরপুর উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ১২বছর যাবৎ এমবিবিএস ডাক্তার নেই। জোরাতালি দিয়ে কোন রখমে ফার্মাসিষ্ট দিয়েই দিয়ে চলছে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো। যার ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রতন্ত্য এলাকার অসহায় জনসাধারন। শ্রীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে,বাদাঘাট এফ,ডাবলিউ,সি স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতেও চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ঔষধ না থাকায় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর। জেলার সদর ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে দেখায় দূরদুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কাংখিত চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ঐসব লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান,ডাক্তার নাই সব হাসপাতালেই জোড়া তালি দিয়ে চিকিৎসা দেয়। সরকার হাসপাতাল বানাইছে কি এইতার লাগি? হাসপাতাল না থাকলেই ত ভালা অইত।
তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,বিশ্বম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লা সহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তাগন জানান-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদ গুলোর বিষয়ে উর্ধবতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। চিকিৎসা সেবার স্বার্থে শুন্য পদ গুলো পূরনের জন্য কার্যকর প্রদক্ষেপ নেওয়া খুবেই প্রয়োজন। জনবল সংকট থাকার কারনে আমরা চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন,জেলার ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে জনবল শুন্যতার এই অসহায় অবস্থা র্দীঘ দিন ধরেই চলছে বার বার সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কে বলেও কোন কাজ হচ্ছে না। জেলার প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার উন্নতির জন্য চিকিৎসক,নার্স সহ শুন্য প্রতিটি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ বার বার অবহিত করার পরও তারা কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না এভাবে আর চিকিৎসা সেবা চলতে পারে না। সুনামগঞ্জ জেলা সির্ভিল সার্জন আশুতোষ দাশ জানান-জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন পদে জনবল শূন্যতা বিরাজ করছে। জেলার সার্বিক সমস্যা গুলোর বিষয়ে আমার উপরের উচ্চ পর্দস্থ কর্মকর্তাগন কে বলেছি। জনবল শুন্যতার কারনে স্বাভাবিক স্বাস্থ্য সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এরপরও আমরা আমাদের সীমিত জনবল দিয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

 




এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: