সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৫ বছর ধরে গৃহবন্দি স্ত্রী-কন্যাকে উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::
গত পাঁচ বছর ধরে কয়েদিদের মত কন্যা ও স্ত্রীকে গৃহবন্দি ছিলেন রেখেছিলেন এক স্বামী। গত বুধবার ১১ বছরের মেয়ে এবং তার মাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার ঘটনা।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জালানগি এলাকার এক বাড়িতে তাদেরকে বন্দি করে রাখা হয়েছিলো। ঘরে যাতে কোনোরকম সূর্যের আলো প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য জানালার ফাঁকগুলো পর্যন্ত কালো প্লাস্টিক পেপার দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়েছিলো।

পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত নারীর নাম মঞ্জু মণ্ডল, বয়স ৩৬। তিনি নদীয়া জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মানবেন্দ্র মণ্ডল পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে তিনি ছোপড়ায় আসেন। মেয়ে তোতার জন্ম ১১ বছর আগে। মঞ্জু একজন শিক্ষিত নারী, ডিগ্রি পাস। তবে উদ্ধার হওয়ার পরও স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের করতে রাজি হননি ওই নারী। এমনকি প্রথমে থানায় আসতেও রাজি ছিলেন না তিনি।

এ সম্পর্কে জালানগি থানার ওসি দেবাশীষ সরকার জানিয়েছেন, ‘মানবেন্দ্রর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মঞ্জুর ভাই নিখিল সরকার। এরপরই মা ও মেয়েকে উদ্ধারে নামে পুলিশ। তবে স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই মঞ্জুর।’তিনি আরো জানান, পুলিশ এখন অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। তবে তারা মানবেন্দ্রকে এখনো খুঁজে পায়নি।

মঞ্জুর ভাই নিখিল জানান, ‘মঞ্জু গ্রাজুয়েট করেছেন। তার কোনো মানসিক সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা ভেবে পাচ্ছি না ও কেন মানবেন্দ্রর বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না।

বুধবার বিকেলে জানালা ভেঙে ময়লা আবর্জনা ভরা ঘরে ঢুকে মঞ্জু ও তার মেয়ে তোতাকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু তারা প্রথমে থানায় আসতে চায়নি। তারা পুলিশকে বলে,‘আমরা এখানেই ভালো আছি।’পরে তাদের বুছিয়ে শুনিয়ে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তবে এতদিন বন্দি থাকার কারণে হঠাৎ করে চারপাশে এত মানুষ দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। তাই নিজেদের মুখ ঢেকে রাখে।

মঞ্জুর ভাইয়ের অভিযোগ, আরেকটা বিয়ে করেছেন মানবেন্দ্র এবং সম্ভবত ওই বৌকেও এই বাড়িতেই রেখেছে।

আসগর আলী নামে একজন স্থানীয় জানান, মানবেন্দ্র খুব বদরাগী। আর এ কারণেই তার সঙ্গে পারতপক্ষে কেউ কথা বলে না। গত কয়েক বছর ধরেই আমরা তার বৌ আর মেয়েকে দেখছিলাম না। তাদের কি হয়েছে তাও বুঝতে পারছিলাম না।

স্থানীয়রা আরো দাবি করেছেন, মেয়ের ছয় বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ছিলো সুখি দম্পতি। কিন্তু হঠাৎ করেই আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেয় পরিবারটি। ঘরবন্দি হওয়ার আগে গ্রামের স্কুলে প্রথম শেণিতে পড়তো তোতা। প্রতিদিন সকালে বাইরে থেকে ঘরের তালা দিয়ে কাজে বেরুতেন মানবেন্দ্র। ফিরতেন রাতে। তালা খুলে ঘরে ঢুকতেন। ভিতরে কেউ আছে কিনা তা বোঝার কোনো উপায় ছিলো না।

বোনের সঙ্গে দেখা করার জন্য কতবার ছুটে এসেছেন মঞ্জুর ভাই নিখিল। কিন্তু তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি মানবেন্দ্র। বাড়ির ভিতর থেকে এক নারী নিজেকে মঞ্জু দাবি করে চিৎকার করে তাদের চলে যেতে বলতেন। তিনি বাড়িতে ঢুকলে আত্মহত্যা করারও হুমকি দিতেন মঞ্জুরূপী ওই নারী।

‘গত চার বছর আগে ফোনে মঞ্জুর সঙ্গে শেষ কথা বলেছি। এরপর আর ফোন করেনি সে। বাড়ির মধ্যে কি হচ্ছে সে সম্পর্কেও আমাদের কোনো ধারণা ছিলো না। তার প্রতিবেশীরাও আমাদের কিছু জানাতে পারছিলো না।’ বলছিলেন মঞ্জুর ভাই।

দিন কয়েক আগে মঞ্জুর বোনের ছেলে বিকাশ মণ্ডল আসেন খালার সঙ্গে দেখা করতে। তাকেও ঘরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। একইভাবে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। মঞ্জুর ভাইয়ের দাবি, মানবেন্দ্রর অপর স্ত্রী ঘরের ভিতর থেকে মঞ্জু সেজে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন।

গত বুধবার নিখিল সরকার ও বিকাশ মণ্ডল সহ আরো কয়েকজন আত্মীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ লেখান। তার মঞ্জু ও তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সাহায্য চান। এরপর পুলিশ মা মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে অবশ্য তাদের ফের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। ঘটনাটি গোটা ভারতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: