সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিপিএলের টিকিট বিক্রি : এখানে ছাত্রলীগের কারা সামনে আসো —আওয়ামী লীগ নেতা বিজিত চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার ::
গতকাল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের টিকিট কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এসময় জানলার সামনে একজন দায়িত্ব পালনকারীকে টিকিট বিক্রি করতে দেখা যায়। ২টা পাঁচ মিনিটের সময় ওই কাউন্টারে দেখা যায় সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরীকে। তিনি এসেই বলেন, ‘এখানে ছাত্রলীগের কারা সামনে আসো।’ ওই সময় শতশত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে টিকিট দেন তিনি। অবশ্য প্রতিটি টিকিটেরই নির্ধারিত মূল্য রাখা হয়। তবে ছাত্রলীগের প্রতি বিজিৎ চৌধুরী উদারতা দেখে ক্ষুব্ধ হন টিকিট কিনতে আসা ক্রিকেটপ্রেমীরা। এটি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনা হলেও আগের দিন বুধবারও বিজিৎ চৌধুরী ছিলেন আলোচিত।
কারণ প্রসঙ্গে অনেকেই জানান, সিলেটে বিপিএল ঘিরে যতোটা না উন্মাদনা তার চেয়ে বেশি এখন হতাশা। ক্রিকেট নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের ক্ষোভ থামছে না। গত বুধবার দিনের বেলা সিলেট জেলা ক্রীড়া ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পর উত্তেজিত জনতা রাতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য বিজিত চৌধুরীকে লাঞ্ছিত করেছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করছিলেন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজিত চৌধুরী। এসময় প্রধান ফটকে একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে। তারা তার কাছে বিপিএলের টিকিটের বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে বিজিত চৌধুরীর সাথে তাদের বাগবিতন্ডা হয়। উত্তেজিত যুবকরা তাকে গালিগালাজ ও অপমান করেন। পরে বিজিত চৌধুরী ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবারও সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বিপিএলের টিকিট বিক্রির তৃতীয় দিনেও ঘটেছে লঙ্কাকান্ড। স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন অপেক্ষমান টিকিট প্রত্যাশীরা। এ সময় তারা কাউন্টার লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। দর্শকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে এক নারীসহ ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টার দিকে এ ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
টিকিট কিনতে আসা একাধিক দর্শক জানান, টিকিট দেয়ার কথা ছিল সকাল ১০টা থেকে। তবে সাড়ে ১০টা বাজলেও টিকিট বিক্রি শুরু না করায় স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
টিকিট বিক্রেতাদের একজন জানান, ৩১ তারিখে টিকিট বিক্রির জন্য ঢাকা থেকে ৬ জন আসলেও গতকাল এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০ জন করা হয়েছে।
অপরদিকে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর ৫ম আসর শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে। আর এ আসরের বিভিন্ন খেলার টিকিট বিক্রি হচ্ছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের চারটি বুথে। কয়েক হাজার টিকিট প্রত্যাশীদের ভিড় সামাল দিতেই যেখানে টিকিট বিক্রেতা ও পুলিশ হিমশিম, তখন স্টেডিয়ামের বুথে দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা, আর তা হলো জাল টাকা। দ্রুততার সাথে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে জাল টাকার নোট পাচ্ছেন বিক্রেতারা। জাল নোটের বেশিরভাগই ৫শ টাকার নোট। এক হাজার টাকার নোট দেয়া হলে একটি টিকিট দিয়ে বাকি টাকা আর ফেরত দেয়া হয় না বলে অনেকে অভিযোগ করেন।
পুলিশের ধারণা, কাউন্টার থেকে খুচরা নোট নিয়ে আসতে বলা হওয়ায় অনেকেই আশপাশের দোকান থেকে হাজার টাকার নোট ভাঙিয়ে নিয়ে আসছেন, যার মধ্যে জাল নোট ঢুকিয়ে দিয়ে ফায়দা হাসিল করছে কেউ।
এদিকে, বিপিএল টি-২০-এর টিকিট নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা। গতকাল দুপুরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আসন্ন বিপিএল ক্রিকেট ২০১৭ এর টিকিট বিক্রির ব্যাপারে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা নেই। টিকিট শুধুমাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও স্বত্বাধিকারী কোম্পানির ওপর ন্যস্ত। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা শুধুমাত্র স্থাপনার ব্যবহারে সহযোগিতা করেছে।’
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা বিজিৎ চৌধুরী জানান, ‘বুধবার রাতে উত্তেজিত দর্শকরা টিকিটের জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আমি তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেই। পরে তারা আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। গতকাল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ডেকে টিকিট দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, শৃঙ্খলারক্ষার জন্য আমি কাউন্টারে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের টিকিট দেইনি। তিনি বলেন, ‘যারা টিকিট নিতে আসেন তাদেরকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। কারো গায়ে দল কিংবা পদবি লেখা ছিল না।’
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, ‘দর্শকরা টিকিটের জন্য গতকালও ইটপাটকেল ছুড়েছেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। জাল টাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ২-৩টি জাল টাকার সন্ধান পেয়ে পুলিশ অভিযান দিয়েছে। এ ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বুধবার রাতে কোনো ঘটনা স্টেডিয়ামে ঘটলে তিনি তার খবর পাননি।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: