সর্বশেষ আপডেট : ৫৫ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে শনিবার মহারাসোৎসব ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্টানের উদ্বোধন

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান, কমলগঞ্জ:: “দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ” বৃহত্তর সিলেটের ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশ্বনন্দিত সাংস্কৃতিক ধারক মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব “রাসলীলা” আগামী কাল ৪ নভেম্বর শনিবার । এবার মনিপুরী মহারাস লীলা উৎসব ১৭৫তম। ১৭৫তম বর্ষপুর্তিতে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিন ২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাযালয় সম্মুখ থেকে মণিপুরীদের নিজস্ব পোশাকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহর প্রদক্ষিন করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে তিন দিনের রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক, মণিপুরী রাসলীলা সেবা সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্যাম সিংহ ও মণিপুরী সম্প্রায়ের নেতৃবৃন্দ।। বিকাল ৪টায় কমলগঞ্জের মাধবপুর শিববাজারে উন্মুক্ত মঞ্চে হোলি উৎসব অনুষ্টিত হয়। মুল অনুষ্টান মহারাসলীলা কাল অনুষ্টিত হবে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে মণিপুরীদের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। অপর দিকে আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গনে মনিপুরী মৈ-তৈ সম্প্রদায়ের আয়োজনে ৩২ তম রাসোৎসব পালিত হবে। উৎসব উপলক্ষ্যে উভয় স্থানে বসবে বিরাট মেলা। নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মনিপুরী সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে একদিনের সাথে আরো দুইদিনের এই আনন্দে। শেষ দিন শনিবার ৪ নভেম্বর মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশী-বিদেশী পর্যটক, বরেণ্য জ্ঞাণী-গুণী লোকজনসহ প্রশাসনিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে মনিপুরী পল্লী। রাসোৎসবের জন্য তৈরী সাদা কাগজের নকশায় সজ্জিত মন্ডপগুলো একটি রাত্রির জন্য হয়ে উঠে মানুষের মিলনতীর্থ। মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। রাত ভর চাঁদের আলোয় মায়াবী জোৎনায় নূপুরের সিঞ্চনে মুদ্রা তুলবে সুবর্ণ কঙ্কন পরিহীতা রাধা ও গোপিনী রূপের মণিপুরী তরুনীরা। সুরের আবেশে মাতাল হয়ে উঠবে কমলগঞ্জের প্রকৃতি ও মানুষ। দিন দিন রাসোৎসবের আকর্ষণ বাড়ছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎসবে দর্শনার্থীর সমাগম। তুমুল হৈচৈ, আনন্দ উৎসাহ ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল আর শঙ্খ ধ্বনীর মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মের অবতার পুরুষ শ্রী কৃষ্ণ ও তার সখি রাধার লীলাকে ঘিরে এই এক দিন বছরের আর সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জবাসীর জন জীবনে।

রাসলীলা দুই ভাগে বিভক্ত :
গোষ্ঠলীলা ও রাসলীলা। গোষ্ঠলীলায় কৃষ্ণের বাল্যকালে মাঠে মাঠে বাঁশি বাজিয়ে ধেনু চড়াবার মুহূর্তগুলো অনুকরণ করা হয়। গোষ্ঠলীলাকে ‘রাখালনৃত্য’ বা ‘রাখোয়াল’ বলা হয়ে থাকে। রাসলীলায় অভিনীত হয় ‘গোপীনৃত্য’। গোপীদের নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলাকেই এই পর্বে অভিনয় করে দেখানো হয়। রাসলীলাকে ‘পূর্ণিমারাস’ও বলা হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে এখানে বেলা সাড়ে ১১টায় একযোগে ৩টি গোষ্ঠলীলা অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১টায় থেকে শুরু হয় জোড়ামন্ডপের তিনটি রাস।
মহারাসলীলানুকরণ জোড়ামন্ডপের বাইরের মাঠে কলাগাছে সুসজ্জিত তিনটি মঞ্চে তিনটি গোষ্ঠলীলা অনুষ্ঠিত হয়। বালকেরা রাখাল সেজে নৃত্য ভঙিমায় শ্রীকৃষ্ণের বাল্যজীবনের বহু ঘটনাই এই নৃত্যানুষ্ঠানে ফুটিয়ে তোলে। গোষ্ঠলীলায় অংশগ্রহণকারী বালক রাখালদের মাথায় বেশভূষা থাকে অপূর্ব সুন্দর। মাথায় কারুখচিত ময়ূরপুচ্ছে সুশোভিত কৃষ্ণচূড়া, হাতে কারুকার্য্যময় বাঁশি থাকে। রাসলীলায় পোশাক থাকে শ্রীকৃষ্ণের মতোই। খোল-মৃদঙ্গের তাল আর রাখাল বালকদের ললিত নৃত্যে সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠে ভরা দুপুরের টকটকে সূর্য। রাসলীলায় তিনটি মন্ডপ তৈরি করা হয়, বাঁশ এবং বিভিন্ন রঙের কাটা কাগজের নকশা দিয়ে। এই নকশাখচিত মন্ডপে যুবতী গোপীনীদের নৃত্যে প্রাণময় হয়ে ওঠে সারা রাত। ভক্ত-পুণ্যার্থীরা গোষ্ঠলীলা ও রাসলীলা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে বাতাসা, টাকা-পয়সা ‘পুষ্পবৃষ্টি’ বা হরিলুট করতে থাকেন নৃত্যরত রাখাল ও শ্রীকৃষ্ণ-শ্রীরাধা এবং গোপিনীদের ওপর। ৪ নভেম্বর রাস অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি, বিশেষ অতিথিমৌলবীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, মৌলভীবাজারের জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার শাহজালাল,কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমান প্রমুখ।
তিন দিন ব্যাপী অনুষ্টান মালাঃ
১৭৫তম বর্ষপুর্তিতে আয়োজক মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘ প্রথমবারের মতো তিন দিন ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহন করেছে। প্রথম দিন ২ নভেম্বও ছিল মৌলভীব্জাার শহীদ মিনারে সকাল ১০টায় আনন্দ র‌্যালী। বিকাল ৪টায় কমলগঞ্জের মাধবপুর শিববাজারে উন্মুক্ত মঞ্চে হোলি উৎসব, আজ ৩ নভেম্বর দুপুর ১টায় বেনিরাস, সন্ধ্যা ৬টায় কৃর্তি মনিপুরী সন্তান সম্মাননা অনুষ্টান ও কাল শনিবার ৪ নভেম্বর শেষ দিন সকাল সাড়ে ১১টায় গোষ্টলীলা(রাখালনৃত্য), সন্ধ্যা ৭টায় ১৭৫তম শ্রী শ্রীকৃঞ্চের মহারাসলীলা স্মারক শুভ উদ্বোধন, রাত সাড়ে ৭ টায় আলোচনাসভা ও রাত সাড়ে ১১টায় মহারাস নৃত্য অনুষ্টান। মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের সাধারন সম্পাদক শ্যাম সিংহ বলেন, এবারো অনুষ্টান মালা আমরা তিনদিন ব্যাপী করেছি। অনুষ্টানে এবারো হাজারো দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে। অনুষ্টানে নিরাপত্তায় পুলিশের তিন স্তরের ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।
যে ভাবে যাওয়া যাবেঃ
এই মহারাসলীলাকে কেন্দ্র করে গোটা কমলগঞ্জ উপজেলা উৎসবে পরিনত হয়। বিভিন্ন শ্রেনি ও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হন। তাদের পদচারণায় দিনরাত অপূর্ব এক মিলনমেলায় পরিণত হয় মাধবপুরের জোড়ামন্ডপ প্রাঙ্গণ এবং গোটা শিববাজার এলাকা। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর জোড়ামন্ডপে যেতে হলে কমলগঞ্জ সদর থানার সম্মুখ থেকে ভানুগাছ/পাত্রখোলা সড়ক ধরে ৩/৪ কিলোমিটার অগ্রসর হলেই হাতের বামে দেখা যাবে ললিতকলা একাডেমী। একাডেমীর পাশেই শিববাজার নামে একটি বাজার রয়েছে। রাসলীলার ভক্ত পুণ্যার্থীদের সাথে একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পর পর তিনটি মন্ডপ। এই তিনটি মন্ডপের নামই জোড়ামন্ডপ। রাসলীলা দেখে মাধবপুর চা বাগানে যেতে পারেন। মাত্র দু কিলোমিটার পথ এবং চা বাগানের ভেতর দিয়ে এঁকেবেকে যাওয়া এক সুদীর্ঘ লেকও দেখতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: