সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখা ও জুড়ীর দেড় হাজার কমলা চাষীর স্বপ্ন দুলছে গাছে গাছে

আবদুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার প্রায় দেড় হাজার কমলা চাষীর স্বপ্ন দুলছে গাছে গাছে। এসব প্রান্তিক চাষীর ছোট-বড় কমলা বাগান থেকে হেমন্তের বাতাসে ছড়াচ্ছে পাকা, অর্ধ পাকা কমলা লেবুর সুমিষ্ট ঘ্রান। কিছু বাগান মালিক ইতিমধ্যে কমলা বিক্রি শুরু করেছেন। তবে নভেম্বরেই কমলা লেবু পরিপক্ক হওয়ার উপযুক্ত সময়। গত বছরের চেয়ে এবার ফলন কম হলেও কমলার বাজার চড়া থাকায় চাষীরা সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে আশাবাদী। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন কমলা গাছের পরিচর্যায় চাষীরা আরো যত্মশীল হলে কমলা লেবুর উৎপাদনের অতীত রেকর্ড ফিরিয়ে আনা কঠিন কিছু নয়।

 

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার গল্লাসাঙ্গন, বোবারথল, মাইজগ্রাম, উত্তর ডিমাই, ছোটলেখা, মাধবপুঞ্জি ও জুড়ী উপজেলার লালছড়া, শুকনাছড়া, ডুমাবারই, লাঠিটিলা, লাঠিছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল, পুটিছড়া, কালাছড়া গ্রামের ১৫৪ হেক্টর টিলা ভুমিতে কমলার আবাদ রয়েছে। দুই উপজেলায় তালিকাভুক্ত ১৩১৪ জন কমলা চাষী রয়েছেন। ১১১টি বাগানে ফল ধরার উপযোগী কমলা গাছের সংখ্যা ৫৫ হাজার ৭শ’ ২০টি। মোট গাছের ৭০ ভাগেই ফল আসে। একটি ফলন্ত গাছে ২০০ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত কমলা লেবু ধরে থাকে। এ দুই উপজেলায় এ বছরের কমলা লেবুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৭৭ মেট্টিক টন। ৪-৫ বছর পূর্বের কমলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এবারের চেয়ে দেড়/দুই গুন বেশি ছিল। এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

 

সরেজমিনে কমলা বাগান ঘুরে চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নানাবিদ সমস্যার কারণে কমলা চাষীরা দিন দিন কমলা চাষে নিরুৎসাহী হচ্ছেন। বাগান মালিক অভাবের তাড়নায় গাছে ফুল আসার আগেই পাইকারদের নিকট বাগান বিক্রি করে দেন। যার কারণে প্রকৃত মালিক গাছের যতœপাতি-পরিচর্যার প্রয়োজন মনে করেন না। যে আগাম ক্রয় করে সেও গাছের যতœ নেয় না। ফলে বছরে বছরে কমলার উৎপাদন কমতে থাকে। অথচ সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে কমলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকরা আরো আগ্রহী হতো। এতে দেশের চাহিদা পুরণে গুরুত্বপুর্ণ অবদানসহ কমলার আমদানী নির্ভররতা অনেকাংশে কমতো।

জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামের কমলা চাষী মো. মোর্শেদ মিয়া জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি কমলা চাষ করছেন। বন বিভাগের লীজকৃত ভুমিতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কমলার বাগান করেন। চারা রোপনের ৬-৭ বছরের মাথায় ফল পেতে শুরু করেন। কমলা থেকে তিনি পরিবারে সচ্ছলতা এনেছেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েনে, ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। প্রথম বছর ১২ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর ৩০ হাজার করে এবং গত বছর ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। কিন্তু এখন কমলার সেই জৌলস আর নেই। বছরে মাত্র ১ মাস কমলা বিক্রির মৌসুম থাকে। এসময় কৃষকের হাতে টাকা পয়সা আসলেও বাকি ১১ মাস আয় রোজগার থাকে না। আগের মতো কৃষি বিভাগও সাহায্য সহযোগিতা না করায় অনেকেই কমলার প্রতি অনাগ্রহী। এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টি আর ফুল আসার পর ঝড়ঝঞ্ঝার কারণে ফলন কম হয়েছে। তবে কমলার বাজার দর ছড়া থাকায় সে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে। প্রতিকুলতার মধ্যেও কমলা লেবুর মাধ্যমে তিনি এখনও অনেক দুর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

কমলা চাষী মোর্শেদ মিয়া, মানিক মিয়া, অজু মিয়া, মুছব্বির আলী, আবুল কালাম, আব্দুল মন্নান প্রমূখ জানান, শুধু কমলা চাষ করে কোন কৃষকের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকারী সুযোগ সুবিধা পেলে কমলার সাথে আদা লেবু, জাম্মুরা, জারা, মাল্টা, লেবু চাষের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে কৃষকরা মিশ্র ফল লাগাতে পারছেন না। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে দীর্ঘ খরায় পানি সেচ সমস্যার কারণে অনেক বাগানে কমলা গাছ মরে যায়, ফল ঝরে পড়ে। নানা কীট পতঙ্গসহ উই পোকার উপদ্রপে চাষীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তারা জানান, সরকারীভাবে পানি সেচের মেশিন, কীটনাশক, পাকা কমলা সংগ্রহের যন্ত্র সরবরাহ এবং বাগান পরিচর্যা ও সম্প্রসারনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলে বড়লেখা ও জুড়ীতে কমলা উৎপাদনে আবারো বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। বন্ধ হবে ফরমালিনযুক্ত বিদেশী কমলার আগ্রাসন।

জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, কমলা একটি ছায়া পছন্দকারী বৃক্ষ। মিশ্র ফল বাগানে কমলা গাছ ছায়া পাওয়ায় দ্রুত বৃদ্ধি পায়, উন্নত ফল আসে। একক বাগান হলে সান বার্ন হওয়ার আশংকা থাকে। ইতিমধ্যে জুড়ীর ৬৫টি কমলা বাগানে প্রায় ৪ হাজার মাল্টা গাছ লাগানো হয়েছে। টিলার দক্ষিণ পাশে কমলা ভাল হয় না। উত্তর দিকেই ভাল ফলন হয়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ চাষীদের কমলার রোগ ব্যবস্থাপনা ও ফলন বৃদ্ধির উপর প্রশিক্ষন প্রদান করছে। গাছের পরিচর্যায় চাষীরা আরো যতœশীল হলে এ অঞ্চলে কমলার হারানো রেকর্ড ফিরিয়ে আনা অসম্ভব কিছু নয়।

বড়লেখা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন, জানান, সঠিক পরিচর্যা করলে বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সিলেট বিভাগের মোট কমলার চাহিদার অর্ধেক পুরণ করা সম্ভব হবে। অভাবের কারণে অনেক চাষী পরিপক্ক হওয়ার আগেই কমলা বিক্রি করে দেন। এতে তাদেরই ক্ষতি। কৃষি বিভাগ কমলা চাষীদের প্রশিক্ষন প্রদান এবং বাগান সম্প্রসারণে সাধ্যমত সহযোগিতা করছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: