সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জাফলংয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান হয়, জব্দ করা হয় না বোমা মেশিন

রেজওয়ান করিম সাব্বির ::
দীর্ঘ প্রায় ৮ বছর ধরে সিলেটের প্রকৃতীকন্যা জাফলংয়ে পরিবেশবিধ্বংসী বোমা মেশিন দিয়ে পাথরখেকো চক্র ভূগর্বের ৭০ থেকে ৮০ ফুট নিচ হতে পাথর সংগ্রহ করে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০০৯ সালে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোমামেশিন নিষিদ্ধ করে উচ্চ আদালত। এসময় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে টাস্কফোর্স গঠেনের নির্দেশও দেওয়া হয়। তার পর হতে গঠিত টাস্কফোর্স প্রতিমাসে অন্তত ২টি করে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু ২০০৯ সাল হতে এখন পর্যন্ত টাস্কফোর্স শতাধিক অভিযান পরিচালনা করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা মামলা দায়ের করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পাথরখেকোকে গ্রেপ্তার এবং একটি বোমা মেশিনও জব্দ করা হয়নি। এতে অভিযানের নামে প্রকৃতীকন্যা জাফলংয়ে কোনোভাবেই বোমা মেশিন চক্রের আগ্রাসন থেমে নেই।

জাফলংয়ে ২০০৯ সালের দিকে ২০-২৫টি বোমা মেশিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ শতাধিকের উপরে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নানা কৌশলে এবং সময়ের সাথে সাথে তাদের খোলস পরিবর্তন করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে বোমা মেশিন চক্র অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলে। মূলত এই চক্রটি জাফলংয়ের প্রকৃতীক সৌন্দর্য বিনষ্ট করে বিরানভূমিতে পরিণত করছে। কিন্তু কোনোভাবেই গঠিত টাস্কফোর্স এই চক্রের সাথে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারছে না। বরং পাথরখেকো বোমা মেশিন চক্রের সদস্যরা একত্রিত হয়ে গঠন করেছে “যৌথ বোমা বাহিনী”।

কথিত রয়েছে, প্রশাসনের লোক থেকে শুরু করে এলাকার পাতিনেতারা হচ্ছেন এ বাহিনীর সদস্য। তারা নিয়মিত চাঁদা পেয়ে থাকেন। তাই টাস্কফোর্স অভিযান শুরুর একদিন আগে সংবাদ পৌঁছে যায় চক্রের কাছে। সংবাদ পাওয়ার পর যৌথ বোমা বাহিনী চক্র তাদের বোমা মেশিনগুলো নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে ফেলে। দু-একটি অকেজো মেশিন ব্যতীত গর্তগুলোতে পড়ে থাকে অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ। টাস্কফোর্স অভিযানে নেমে ফেলে যাওয়া যন্ত্রপাতিসমূহ ধ্বংস বা বিনষ্ট করে। ধ্বংস করা ও পুড়িয়ে ফেলা মেশিনগুলো ৩-৪ হাজার টাকা খরচ করে মেরামত করে তা আবার ব্যবহার করা হয়। অভিযান চলাকালে বোমা চক্রের বেশিরভাগ সদস্য পরিবেশবাদী হয়ে উঠেন। তাদের এই কার্যক্রম দূর থেকে দেখলে মনে হয়, জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় তারা অত্যন্ত সক্রিয়!

এলাকার সাধারণ মানুষ জানান, প্রশাসন লোক-দেখানো অভিযান করে থাকে। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা জানেন, জাফলংয়ে বোমা মেশিন কারা চালায়? বিভিন্ন নামে চাঁদা কারা আদায় করে? চাঁদার ভাগ বন্টন কারা কারা পায়? কখন কীভাবে অভিযান হবে কখন বোমা মেশিন সরিয়ে নিতে হবে? কখন কোথায় স্থাপন করতে হবে? সবই প্রশাসনের জানার মধ্যে। তারা জানান, ৮ বৎসরের বেশি সময় টাস্কফোর্স ২ শতাধিক অভিযানে করলেও এখন পর্যন্ত একটি ও মামলা হয়নি এই চক্রের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের কয়েকজন কর্তাব্যক্তি, সমাজসেবী-শিক্ষানুরাগীরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আইন যেমন, অভিযান তেমন।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি জাফলংকে সরকারঘোষিত ইকোলজিকেলি ক্রিটিকেল এরিয়া (ইসিএ) বাস্তবায়ন করতে হলে বোমা মেশিন চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে আগামী ২-১ বৎসরের মধ্যে সিলেটের প্রকৃতীকন্যা জাফলং হবে বিরানভূমি। খুঁজে পাওয়া যাবে না চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গ্রামগুলো। তাদের দাবি, বোমা মেশিন জব্দ করা। তাহলেই জাফলং ফিরে পাবে তার যৌবন, বাস্তবায়িত হবে সরকারঘোষিত ইকোলজিকেলি ক্রিটিকেল এরিয়া (ইসিএ)।

এ বিষয়ে জানতে টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ কুমার পাল বলেন, টাস্কফোর্সের নিয়ম মোতাবেক অভিযান পরিচালনা করে বোমা মেশিনসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস ও পুড়িয়ে ফেলা হয়। মামলার বিধান না থাকার কারণে চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হিল্লুল রায় জানান, এ পর্যন্ত বোমা মেশিন চক্রের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। কারণ টাস্কফোর্স অভিযানের আইনে শুধু বিনষ্ট ও ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: