সর্বশেষ আপডেট : ৫৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নজরদারি বাড়াতে রোহিঙ্গা শিবিরে ৫ পুলিশ ক্যাম্প

নিউজ ডেস্ক:: রোহিঙ্গাদের ওপর নজর রাখার জন্য কক্সবাজারের কুতুপালং আশ্রয়কেন্দ্রে পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

রোববার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

শনিবার রামুতে এক যুবক খুন, উখিয়ায় ৪ বাংলাদেশিকে প্রহার ও ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের ডাকাতিকালে সশস্ত্র রোহিঙ্গা আটকসহ গত এক মাসে অসংখ্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে মানবিক আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গারা।

বাঙালিদের ওপর রোহিঙ্গাদের আক্রমণ করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে কি না জানতে চাইলে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘এসব জিনিস নজরে রেখেই আমরা আজকে এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। সেই আলোকেই ছড়িয়ে ছিটিতে থাকা রোহিঙ্গাদের একটি জায়গায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সে জন্যই আমরা তাদের কুতুপালংয়ে আনার ব্যবস্থা করছি। এদের ওপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজর রাখার জন্য এখানে আমরা (কুতুপালংয়ে) পুলিশকে পাঁচটি ক্যাম্প স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছি। একইসঙ্গে তাদের তৎপরতা আরও বৃদ্ধির জন্য বলেছি।’

কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা আশ্রয় কেন্দ্রের ২০টি ব্লকে মোট পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন হবে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অত্যন্ত তৎপর। সবাই অবিরাম পরিশ্রম করছেন। ২৬টি চেকপোস্ট করা হয়েছে। তারা যাতে এ এলাকা থেকে বেরিয়ে যেতে না পারে। তারপরও ছিদ্র দিয়ে ২/৪টি বের হয়ে যায়। তাদের ধরে আবার কুতুপালং ক্যাম্পে আনছি।’

‘আমরা সজাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর যেই হোক তাকে কিন্তু আইনের আওতায় আমরা আনবই। এ কথাটা আমরা পরিষ্কার বলতে পারি।’

মায়া বলেন, ‘সেখানে (কক্সবাজারে) স্থানীয় একজন মারা গেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর। ঘটনার পর পরই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এসে শাস্তি দেওয়া হবে।’

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশের ক্ষতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—জানতে চাইলে মায়া বলেন, ‘ভাই এই লোকগুলো যে আসছে থাকবে কোথায়? লোকগুলোর ঠাঁই তো দিতে হবে। পাহাড় কাটছে পাহাড় আবার হবে ইনশাআল্লাহ, মানুষ গেলে মানুষ কিন্তু পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সজাগ বলছি বনের যে সাড়ে ৫ হাজার একর জায়গা এর ৩ হাজার একর জায়গা তাদের জন্য ব্যবস্থা রেখেছি। আড়াই হাজার একর জায়গা কিন্তু রয়েছে সেখানে বন্য হাতি বলেন…পাহাড় কেটেছে এটা আমরা স্বীকার করি। আর যেন না কাটা হয়, এ জন্য সবার সহযোগিতা চাইছি।’

গত ২ মাসে নতুন করে ৬ লাখ ছাড়াও আগের আগে ৪ লাখ মিলিয়ে মোট ১০ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশে রয়েছে জানিয়ে মায়া বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এই বোঝা বহন করছি। (রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে) আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মিয়ানমার সরকার অনেকটা নতজানু আমরা বলতে পারি। এই চাপ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। বিশ্বের সবাইকে সাথে নিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে চাই।’

এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সবার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারব।’

কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য শেড, শৌচাগার, টিউবয়েল স্থাপন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতিও তুলে ধরেন মায়া।

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: