সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৃত্যুর ৯৩ বছর পরও যেমন আছে লেনিনের মমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান, বিপ্লবী নেতা  ভ্লাদিমির লেনিন আজ থেকে প্রায় ৯৪ বছর আগে মারা যান। মস্কোর রেড স্কয়ারের একটি জাদুঘরে লেনিনের মমি করা লাশ আজও প্রদর্শন করা হচ্ছে। যদিও লেনিনের লাশ নিয়ে কি করা হবে, তাকে সমাধিস্থ করা হবে কিনা এমন প্রশ্ন রাশিয়ায় নিয়মিতই শোনা যায়।
ভ্লাদিমির লেনিনের মমি করা লাশের বিষয়ে কিছু তথ্য দেয়া যেতে পারে। বলশেভিক বিপ্লবের নায়ক ভ্লাদিমির লেনিন ১৯২৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মারা যাওয়ার পর সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ চাইল তার জন্য একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করবে। দীর্ঘ ছয় বছরের চেষ্টায় ১৯৩০ সালে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শেষ করেন শ্যুসেভ। ঠিক ক্রেমলিন ওয়ালের পাশেই অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটির একটি অংশ ১৯৪৫ সালে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। যাতে রেড স্কয়ারের প্যারেডের সময় সোভিয়েত নেতারা সেখানে দাঁড়াতে পারেন।
শ্যুসেভের পরিকল্পনা অনুযায়ী লেনিনের স্মৃতিসৌধ বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই গত ৯৩ বছর ধরে টিকে আছে। এটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত অন্যতম স্মৃতিসৌধ হিসেবে স্বীকৃত। রেড স্কয়ারের এ সমাধিতে গত শতকের বিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শায়িত অবস্থায় রয়েছে লেনিনের মমি করা লাশ।
প্রথমদিকে তার লাশ আসলে অস্থায়ীভাবে প্রদর্শনের কথা ছিল। কারণ মৃত্যুর আগে লেনিন নিজেই তার লাশ সমাধিস্থ করার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু সোভিয়েত নেতারা তার লাশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার স্মৃতিসৌধকে একটি বৃহৎ সোভিয়েত প্রতীকে পরিণত করেন।
৯০ বছর ধরে লেনিনের লাশের সংরক্ষণ ছিল রাশিয়ার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে দেশটির কয়েক প্রজন্মের গবেষক ও বিজ্ঞানীরা নিয়োজিত রয়েছেন। লাশের সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে মস্কোর ইন্সটিটিউট অব মেডিসিনাল অ্যান্ড অ্যারোমেটিক প্লান্টসের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
প্রত্যেক সপ্তাহেই বিজ্ঞানীরা লেনিনের লাশটিকে পরীক্ষা করে দেখেন। স্মৃতিসৌধের ভেতর একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আদ্রতায় এটা সংরক্ষণ করা আছে। মমিটি বিশেষ একটি কাচের ঘরে রাখা হয়েছে, যেটা লাশটিকে ব্যাকটেরিয়া ও পচে যাওয়া ও শুকিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
লেনিনের লাশকে মমি করার প্রযুক্তিটি রাশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয়। কোনো বিজ্ঞানীই এ গোপনীয়তা নিয়ে মুখ খোলেন না। তবে ওই বিজ্ঞানী দলের একজন পাভেল ফোমেঙ্কো ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইল সাংয়ের মৃত্যুর পর মমি করার প্রক্রিয়া ফাঁস করে দেন।
মমি করার প্রক্রিয়ার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, মমি করার জন্য প্রথমে আমরা লাশের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফেলে দিই। এরপর এক ধরনের দ্রবণ দিয়ে শিরা-উপশিরাগুলো পূর্ণ করি এবং মাংস থেকে সব রক্ত বের করে ফেলি।’ তিনি বলেন, ‘তারপর লাশটি সাদা কাপড়ের ফাল দিয়ে জড়িয়ে মলমের মতো দ্রবণপূর্ণ একটি গ্লাসের বাথটাবে রাখা হয়। কক্ষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আদ্রতা রক্ষা করা হয়। এরপর শরীরের ভেতরে থাকা পানির জায়গায় ওই দ্রবণ পূর্ণ হয়। এ প্রক্রিয়া চলে ছয় মাস ধরে।’
গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই লেনিনের লাশ কবর দেয়া নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনের পর বলশেভিক নেতার লাশ সংরক্ষণ করা বা শেষকৃত্য না করে জনসমক্ষে প্রদর্শন কোনো কাজের কথা নয়। আবার যারা মুসোলিয়ামের পক্ষে, তারা বলেন, মুসোলিয়ামের যে জায়গায় দেহ রাখা হয়েছে, সেই জায়গাটি মাটির নিচেই। খবর এআরওয়াই।
নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: