সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখার মাছুমের চিকিৎসক হওয়া এখন কেবল দুঃস্বপ্ন

আবদুর রব, বড়লেখা:: বড়লেখা উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতো লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎস্বর্গ করবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ভর্তি পরীক্ষায় ভাল স্কোর করেও সরকারী মেডিকেল কলেজে সে ভর্তির চান্স পায়নি। অসম্ভব মেধাবী মামুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডি’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৬১তম স্থান অর্জন করে। বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার মত আর্থিক অবস্থা না থাকায় মামুনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে।

জানা গেছে, মৃত মুহিবুর রহমান ও রফিকুন নেছার দ্বিতীয় ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন। ১১ বছর আগে দিনমজুর বাবা মুহিবুর রহমান মারা গেলে মামুনের পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে। দারিদ্রতার সাথে যুদ্ধ করে বড়ভাই আব্দুল্লাহ আল মাছুম নানা প্রতিকুলতাকে ডিঙিয়ে টিউশনি ও মসজিদে ইমামতি করে নিজের লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের ভরনপোষন ও ভাইবোনের লেখাপড়া চালিয়ে যান। মামুন দোহালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে পঞ্চম শ্রেণীতে ও দক্ষিণভাগ এনসিএম হাইস্কুল থেকে অস্টম শ্রেণীতে সরকারী বৃত্তি অর্জন করে। ২০১৫ সালে একই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে। ২০১৭ সালে জুড়ী টিএন খানম ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৩৩ পেয়ে এইচএসসি পাশ করে। পরীক্ষা কালিন মারাত্মক অসুস্থ থাকার কারণে ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়। তারপরও ডাক্তার হওয়ার হাল ছাড়েনি। সরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তির যুদ্ধ চালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চান্স পায়নি। এখন বেসরকারী মেডিকেলই একমাত্র ভরসা। কিন্তু ব্যয়বহুল বেসরকারী মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার মত আর্থিক সচ্ছলতা নেই দরিদ্র মামুনের পরিবারের। অশ্র“সজল কন্ঠে সে জানায় অনেক স্বপ্ন দেখেছিল লেখাপড়া করে চিকিৎসক হবে। কিন্তু মনে হচ্ছে তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

মেধাবী মামুনের বড়ভাই হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মাছুম জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে। অনেক কষ্টে নিজে হাফিজী ও সাধারন শিক্ষায় এবং ভাইবোনদেরও লেখপড়া চালিয়ে যাই। দাখিলে ও আলিমে জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থ সংকটে ভাল কোন প্রতিষ্টানে লেখাপড়া করতে পারিনি। নিজের স্বপ্নভঙ্গের জন্য কোন আপসোস নেই। কিন্তু ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া ও ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় খুবই কষ্ট হচ্ছে।

বিত্তশালী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার উদ্দেশ্যে হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মাছুম আরো বলেন, কেউ কি আমার ছোটভাইয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিতে পারেন না। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপুরণের কান্ডারী হতে পারেন না।

 

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: