সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শুভ জন্মদিন ড. তপন বাগচী

জাকির শাহ ::
পৃথিবিতে সকল মহিয়ান মানুষের পিছনের ইতিহাস সাধারণ মানুষ থেকে একটু ভিন্ন থাকে। মানুষ তার ভাগ্য নিয়ে জন্মে কিন্তু কর্মের মাধ্যমে তাঁর ভাগ্যের প্রসারতা ঘটিয়ে নিজেকে ইতিহাসে আদিষ্ট করতে পারে। যিনি সময়কে সুন্দর চিন্তা চেতনায় সাজিয়ে শ্রম বিনিয়োগ করেন তিনি একটা সময় সফলতার তুঙ্গে অবস্থান করেন। এগুলো কেবল কর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্রে। প্রত্যেক শিশু বড় হবার সাথে সাথে তাঁর বয়ঃ সুলভের ভেতরে একটা বোধ জন্ম নেয়। এই বোধটাই তাকে দুই ভাবে জাগিয়ে তোলে। এতে আবার পরিবেশগত প্রভাবও যেমন থাকে তেমনি আবার জীনগত প্রভাবও থাকে। ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠা আত্মপ্রত্যয়ী মানুষজন ছোটবেলাতেই বিজ্ঞজনের নজরে আসেন। তাদের চলা-বলা সবকিছুই অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রম হয়। কারণ তাদের ভেতরে একধরনের শিল্প কাজ করে। এটা মনন শিল্প যা উচুমার্গের দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনা সম্পন্ন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রত্যেক মানুষের মনের খাক্তি তার বোধের ভেতর দিয়ে জেগে ওঠে। মানুষ স্বপ্ন দেখে, চেষ্টা আর গন্তব্য নিয়ে, শুরু হয় দিন রাত পার করা। এটা কেবল জাগতিক চেতনা। যেখানে পরিবারেরও অবদান থাকে। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মগতভাবে একটা ভাবাতুর জগতের সাথে থেকেই থাকে। এটা কারও বহিঃ প্রকাশ হয় পরে আবার কারও হয় আগে। আর এই জগৎটাই আধ্যাত্মিক জগত। যেখানে কিছু মানুষ তার নিরবতার ভেতরে প্রস্ফুটিত হয় জগত সংসারে। তেমনি এক গুণী ব্যাক্তির সাথে আমার পরিচয় হয় ২০১২ সালে। যার নাম ড. তপন বাগচী। ড. তপন বাগচী ২৩ অক্টোবর ১৯৬৭ সালে মাদারীপুর জেলার কদমবাড়ী গ্রামে, মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা তুষ্টচরণ বাগচী এবং মা জ্যোতির্ময়ী বাগচী। পৈতৃক বাস বাহাদুরপুর, দত্তকেন্দুয়া, মাদারীপুর। ঢাকা কলেজের সহকারী অধ্যাপক কেয়া বালা তাঁর স্ত্রী এবং তূণীর ও ছুটি তার সন্তান। তপন বাগচী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এমএ এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় পিএইচডি উপাধি নিয়ে বর্তমানে বাংলা একাডেমিতে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাবার হাত ধরেই লেখালেখির শুরু করেন। বাবা তুষ্টচরণ বাগচী কবিতা লিখতেন। তিনি কবি জসীমউদ্দীনকে আদর্শ মানতেন।
তপন বাগচীর সাহিত্যজীবনের ৩০ বছরে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ৭০টি। এ ছাড়াও স্মারক, স্মরণিকা, সাহিত্যসাময়িকী, সম্পাদন ও সংকলনমূলক গ্রন্থসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থ রয়েছে। তিনটি গীতিগ্রন্থে লিখেছেন বারোমাসি, ভাওয়াইয়া, দেশের গানসহ নানা আঙ্গিকের গান।

তপন বাগচী অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন : এর মধ্যে মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, সংস্কৃতি সংসদ, ঢাকা, ১৯৯১, জসীমউদ্দীন গবেষণা পুরস্কার, ফরিদপুর, ১৯৯৬, পাক্ষিক ‘মুকসুদপুর সংবাদ’ সংবর্ধনা, গোপালগঞ্জ, ২০০৭, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ সংবর্ধনা, ফরিদপুর, ২০০৭, অভিযাত্রিক ১৫শ’ তম সাপ্তাহিক সাহিত্য আসর পূর্তি উৎসব সম্মাননা পদক, রংপুর, ২০০৭, জেমকন কথাসাহিত্য পুরস্কার (‘আজকের কাগজ’ তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার), ঢাকা, ২০০৮, মহাদিগন্ত সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতা, ভারত. ২০০৮, নটসম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতি পদক, ঢাকা, ২০০৮, এম নূরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ঢাকা, ২০০৮, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কথাসাহিত্য পুরস্কার, মাদারীপুর, ২০০৯, কদমাবাড়ী সুহৃদ পর্ষদ সম্মাননা, মাদারীপুর, ২০০৯, কবি বাবু ফরিদী সাহিত্য পুরস্কার, ফরিদপুর, ২০০৯, ছোটকাগজের মঞ্চ (মশাল, গোরাগাঙনি, নবদিগন্ত, দোলনা) সংবর্ধনা, বগুলা, নদীয়া ২০১০, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ রিসার্চ ফেলো, ঢাকা, ২০১০, সাংস্কৃতিক খবর সম্মাননা, কলকাতা, ঢাকা, ২০১২, ত্রৈলোক্যনাথ বাবাজী স্মৃতিপদক, গাইবান্ধা, ২০১২, অনুভব বহমুখী সমবায় সমিতি সাহিত্য পদক, ঢাকা, ২০১৩, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড দ্য ডেইলি স্টার সেলিব্রেটিং লাইফ গীতিকার পুরস্কার, ঢাকা, ২০১৩, জীবনানন্দ মেলা শুভেচ্ছা স্মারক, বরিশাল, ২০১৪, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড দ্য ডেইলি স্টার সেলিব্রেটিং লাইফ গীতিকার পুরস্কার, ঢাকা, ২০১৪, অদ্বৈত মেলা শুভেচ্ছা স্মারক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২০১৫, বাংলাদেশে কবি সংসদ সাহিত্য পুরস্কার, হবিগঞ্জ, ২০১৫, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড দ্য ডেইলি স্টার সেলিব্রেটিং লাইফ গীতিকার পুরস্কার, ঢাকা, ২০১৬, সুফিসাধক আরকুম শাহ স্মৃতি পদক, সিলেট, ২০১৭, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় সাহিত্য পুরস্কার, কলকাতা, ২০১৭।

ড. তপন বাগচী একাধারে কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, লোক-গবেষক এবং একজন ভাবতাত্বিক গীতিকবিও বটে। গীতিকবি হিশেবে যে পরিচিত দিয়েছেন তিনি এটা তার কাছ থেকে আমাদের বাড়তি একটা পাওয়া। তার অনেক গান বাংলাদেশ বেতারে এবং টেলিভিশনেও গাওয়া হয়েছে। অনেক বই লেখেছেন এবং তার যথাসম্মানও পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার লেখায় বাংলা সাহিত্য আরও সমবৃদ্ধ হোক। তিনি যেন আমাদের মাঝে তাঁর লিখনশৈলী নিয়ে যুগযুগ বেচে থাকেন। প্রত্যাশা অটুট থাকুক। ভালোবাসি তাই গেয়ে যাই- এক তপনে দমের শুমার আরেক তপন মনে/ সুর জেগেছে ঘোর লেগেছে পাথকী নয়নে॥ শুভ হোক আগামীর পথচলা। শুভ জন্মদিন।

লেখক : গীতিকার

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: