সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওয়ার্কশপে গিয়ে খোলা হচ্ছে হাইড্রোলিক হর্ন : নগরীতে বিশেষ অভিযানে ১৯৭টি মামলা

কাইয়ুম উল্লাস, অতিথি প্রতিবেদক ::
নিকোলিন চাকমা। মহানগরীর সড়কে বেপরোয়া গতির হাইড্রলিক হরনের মোটরসাইকেল আরোহীদের এক আতঙ্কের নাম। এ মাসের শুরু থেকে তাঁর নেতৃত্বে এসএমপির ট্রাফিক সার্জেন্টরা হাইড্রলিক হরনের বিরুদ্ধে সড়কে অভিযানে নেমেছেন। এ পর্যন্ত ৬টি বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেল পাকড়াও করে ১৯৭টি মামালা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। এসব মোটরসাইকেল থেকে খুলে নেওয়া হয়েছে হাইড্রলিক হরন।
এসএমপি পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়ার নির্দেশনায় সার্জেন্টদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করেন এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নিকোলিন চাকমা। গত ৪ অক্টোবর তাঁর নেতৃত্বে সার্জেন্ট আবু বক্কর শাওন, সার্জেন্ট হানিফ আহমদ ও স্বপন তালুকদার মাঠে নামেন। ওই দিন তারা হাইড্রলিক হরন লাগানোর কারণে মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা দায়ের করেন। বেশ কিছু মোটরসাইকেল জব্দ করে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কোতোয়ালি থানার মালখানায় পাঠায় পুলিশ। পরদিন ৫ অক্টোবরও অভিযানে নেমে পুলিশ ২৮টি মামলা করে। ওই দিন খুলে নেওয়া হয় হাইড্রলিক হরন। ৮ অক্টোবর অভিযানে ২৬টি মামলা করে হাইড্রলিক হরন জব্দ করা হয়। ১২ অক্টোবর অভিযানে ৩২টি মামলা, ১৫ অক্টোবর ৩০টি এবং গতকাল মঙ্গলবার আরো ২৯টি মামলা করে ট্রাফিক পুলিশ। প্রতিদিনি সকাল থেকে নিকোলিন চাকমা নিজে মোড়ে মোড়ে ঘুরে শব্দ দূষণকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে এই অভিযান মনিটরিং করে থাকেন। তাঁর নির্দেশনায় ট্রাফিক সার্জেন্টরা নগরীর সবক’টি পয়েন্টে অবস্থান নেন। কোনো মোটরসাইকেলে হাইড্রলিক হরন শোনামাত্রই ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ে। বেপরোয়া গতির মোটরাসাইকেল পাকড়াও করে প্রথমে হরন খোলা হয়। পরে মামলা দেন সার্জেন্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের অভিযানের আতঙ্কে অনেক তরুণ নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্কশপে গিয়ে স্বেচ্ছায় মোটরসাইকেল থেকে হাইড্রলিক হরন খুলে ফেলছেন। পুলিশও বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। পুলিশ মোটরসাইকেল আরোহীদের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে হাইড্রলিক হরন খোলার বারতা পৌঁছে দিচ্ছে হাইড্রলিক আসক্ত আরোহীদের কাছে। যে-কারণে নগরীতে এখন হাইড্রলিক হরনের মোটরসাইকেলের আধিক্য কমে এসেছে। তবে পুলিশ বলছে, যতদিন পর্যন্ত সিলেট নগরীতে একটিও হাইড্রলিক হরনের মোটরসাইকেল খুঁজে পাওয়া যাবে না, ততদিন তাদের অভিযান চলবে। উপরন্তু হাইড্রলিক হরনসহ উচ্চশব্দের সাইলেন্সারের ব্যাপারেও কোনো আপস না করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এসএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার নিকোলিন চাকমা বলেন,‘ হাইড্রলিক হরনের ব্যাপারে পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না। যতদিন হাইড্রলিক হরনের মোটরসাইকেল পাওয়া যাবে, ততদিন অভিযান চলবে। মূলত পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ট্রাফিক বিভাগ নগরীকে হরনের শব্দ দূষণমুক্ত করতে কাজ করছে।’
এ ব্যাপারে এসএমপির কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বলেন,‘সিলেট নগরের মানুষ যাতে হরনের উচ্চশব্দে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার না হন, তা বিবেচনায় নিয়ে আমার নিজস্ব চিন্তা থেকে এই অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিই। ট্রাফিক বিভাগ জোরালোভাবে কাজ করছে। এ অভিযান অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: