সর্বশেষ আপডেট : ২৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কে নরক যন্ত্রণা : ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য

আব্দুর রব, বড়লেখা থেকে:: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা জনসাধারণের জন্য নরক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ভাঙাচুরা রাস্তায় কম গতিতে যানবাহন চলায় পৌর শহরে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। অন্যদিকে গাড়ির ঝাঁকুনিতে নাকাল চালক-যাত্রীরা। তার উপর ভাড়া আদায়ে চালকরা নৈরাজ্য চালালেও দেখার যেন কেউ নেই। বিশেষ করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের নিকট সাধারণ যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের চান্দগ্রাম-মাইজগ্রাম, খলাকান্দি, বড়লেখা পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী থেকে গাজিটেকা-যাত্রীছাউনি, ষাটমা স্কুল, ডাকবাংলা, মধ্যবাজার, লাইটেস স্ট্যান্ড, পাখিয়ালা, থানা এলাকা, উপজেলা, কাঁঠালতলী, দক্ষিণভাগ বাজারের উত্তর অংশ, ওয়াপদা, সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকার সমড়কের বেহাল অবস্থা। এসব স্থানে সড়ক ভেঙে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

যাত্রী, স্থানীয় ও পরিবহন শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের এই ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সফরপুর, হাতলিঘাট, কুয়াইয়াছড়ি এলাকা গত পাঁচ মাস কয়েক দফা বন্যা নিমজ্জিত ছিল। দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে থাকায় সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় এসব স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সওজ যানচলাচলের জন্য সামান্য ইট ও বালু দিয়েছে। তবে জোড়াতালির এ সংস্কারে কমেনি জনদুর্ভোগ। এছাড়া সড়কের অন্য অংশগুলো প্রায় একবছর ধরে একটু একটু করে ভাঙছে। সড়কের মধ্যে ছোট-বড় ফাটল ও ঢেউয়ের মতো অসমতল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বৃষ্টিপাতের সময় সড়কে ফাটল ও টেউয়ের মতো স্থান ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এসব গর্তের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। এই সড়ক দিয়ে বড়লেখা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাসহ আশাপাশের উপজেলার মানুষ জেলা সদরে আসা যাওয়া করেন।

সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক জায়েদ আহমদ বলেন, ‘ভাঙা রাস্তায় গাড়ি চালাইতে গিয়া কষ্ট হয়। প্যাসেঞ্জার বিরক্ত হয়। নিজে একবার গাড়ি চালাইয়া গেলে আর মনে চায় না গাড়ি চালাইতাম। খুব খারাপ লাগে। গাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট অয়। কোনদিন যে রাস্তা ঠিক অইবো? খালি ইট আর বালি দেওয়া অয় রাস্তাত।’

এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী চম্পা লাল দেব বলেন, ‘গত প্রায় পাঁচ মাস থেকে এই সড়কে দুর্ভোগ চলছে। সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। এখন এটাকে সড়ক মনে হয়না। সড়কটির ৩টি স্পট পুকুরের মত হয়ে গেছে। পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। গাড়ি গর্তে পড়ে ঝাঁকুনি দেয়। তখন ভয় হয়।’ চালকরা বন্যার সময় ৩-৪ গুন ভাড়া আদায় করলেও তেমন গায়ে লাগেনি। কিন্তু এখন রাস্তায় পানি নেই, তবুও ইচ্ছামত ভাড়া আদায় করছে। তাদের নৈরাজ্য যেন দেখার কেউ নেই।

সওজের বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ জানান, ‘সড়কটির বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের চেষ্টার কমতি নেই। মন্ত্রণালয় থেকে একটি টিম সরেজমিনে অবস্থা দেখে গেছেন। এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এই সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার পিরয়ডিক মেইনটেইনেন্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) আওতায় প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। সওজের সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দরপত্র আহবান করা হবে। এছাড়া উক্ত সড়কের বিভিন্ন অংশের ১৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক মজবুতিকরণসহ একটি ব্রিজের ডিপিপি পাশ হয়েছে।’

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: