সর্বশেষ আপডেট : ২৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রসঙ্গ : বাংলাদেশ-ভারত তৃতীয় ঋণচুক্তি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সাড়ে ৪শ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণচুক্তি সই করেছে। টাকার হিসেবে তা প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে থার্ড লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) শীর্ষক এই ঋণচুক্তি সই হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে সাত বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে তৃতীয়বারের মতো বড় ধরনের ঋণ দিচ্ছে ভারত। এই ঋণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে, তবুও আশা করা হচ্ছে, পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার হলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই ঋণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তৃতীয় ঋণচুক্তির আওতায় প্রাথমিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন; পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ; বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত দ্বৈতগেজ রেলপথ নির্মাণ; বেনাপোল-যশোর-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা; চট্টগ্রামে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ; কাটিহার-পার্বতীপুর-বরনগর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন তৈরি; মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনসহ ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এ ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নিয়ে গত ছয় বছরে বাংলাদেশকে ভারতের দেওয়া মোট ক্রেডিট লাইন ঋণের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় আট বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। প্রথম দুটি এলওসির মতো এবারও এই ঋণের বিপরীতে ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ আগামী ২০ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। কোনো ঋণচুক্তির আওতায় এটিই হচ্ছে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বড় ঋণ। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সঙ্গে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ।

এই চুক্তি বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি দু’দেশের অর্থনীতি আরও সমন্বিত করবে বলে আশা করা যায়। তবে, কিছু প্রশ্নও আছে। প্রথমত, এ ঋণের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নসাপেক্ষ। সাধারণত বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয় ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য। কিন্তু আমাদের হাতে ৩২ থেকে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য আমাদের আপাতত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। সংগত কারণে এখন বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজনও নেই। যদিও এতে সুদের হার কম, কিন্তু ৭৫ ভাগ কনসালটেন্সি ভারত থেকে নিতে হবে এবং প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয় মালামালও ভারত থেকে নেয়ার শর্ত রয়েছে। এতে ভারতই বেশি লাভবান হবে। তাছাড়া ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে চুক্তি হওয়া দ্বিতীয় ঋণের ২০০ কোটি ডলার এখনও ছাড় হয়নি। আবার প্রথম ঋণের ১০০ কোটি ডলারের মধ্যে সাত বছরে ছাড় হয়েছে মাত্র ৩৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে, প্রথম একশ’ কোটি ডলার ঋণের প্রকল্পগুলোর কাজ এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি; ১৫ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও শেষ হয়েছে ৮টি। দ্বিতীয়বারের দু’শ কোটি ডলার ঋণের প্রকল্পগুলোতে তো হাত দেয়াই সম্ভব হয়নি, সেখানে তৃতীয়বারের মতো ৪৫০ কোটি ডলারের আরেকটি ঋণচুক্তি করে নিজেদের ঋণের বোঝা বাড়ানোর যুক্তি কি তা বোধগম্য নয়।

তবে, ভারত যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা চাই, ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে যে সব বাধা রয়েছে, তা দূর করে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি কমিয়ে আনতেও যুক্তিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হলেও দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যঘাটতি অনেক বেশি। দেশটিতে পণ্য রফতানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং, কাউন্টার ভেইলসহ নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের রফতানিকারকদের। এসব বাধা দূর করতে উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের কাক্সিক্ষত খাতে ভারত থেকে বিনিয়োগও নিয়ে আসতে হবে।

  • সম্পাদকীয়, দৈনিক পূর্বকোণ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: