সর্বশেষ আপডেট : ১৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ আর হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ নগরবাসী

নিজস্ব সংবাদদাতা:: উঠতি বয়সি তরুণদের মোটরসাইকেলের বিকট শব্দ আর হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিলেট নগরবাসী। নগরীর প্রায় সবকটি সড়কেই দেখা মেলে এমন মোটরসাইকেল চালানো উঠতি বয়সীদের। তারা জনবহুল বিভিন্ন এলাকায়ও মোটরসাইকেলে সাইলেন্সারের বিকট শব্দ তৈরি করে বেপরোয়া গতিতে যাতায়াত করেন। ফলে শব্দদূষণের পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারী ও জনসাধারণকে।

এমন একটি এলাকা নগরীর কাজিরবাজার সেতু। বিকালে একটু বিনোদনের জন্য ছোট-বড় সবাই বেড়াতে আসেন এখানে। ছুটির দিন সেখানে ভিড় থাকে বেশি। এখানে মোটরসাইকেল আর এর হাইড্রোলিক হর্নের শব্দে বিরক্তিতে পড়েন বেড়াতে আসা মানুষ। মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এ কারণে শিশুরা ভয়ে কান্নাকাটিও করে। অনেক সময় শব্দের তীব্রতা নগরীর বাসাবাড়ি পর্যন্তও পৌঁছায়।

শুধু কাজিরবাজার সেতু এলাকাই নয়; নগরীর সবকটি সড়ক এবং জনবহুল বিভিন্ন এলাকায়ও উঠতি বয়সীরা মোটরসাইকেলে সাইলেন্সারের বিকট শব্দ তৈরি করে অতিরিক্ত গতিতে যাতায়াত করেন। সকাল-বিকাল যখন-তখন একা কিংবা দল বেঁধে এরা যাতায়াত করেন। এক্ষেত্রে হাসপাতাল, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস এলাকায়ও তারা নির্দেশনা না মেনে বিকট শব্দে মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়ান। এতে পথচারী ও জনসাধারণকে শব্দদূষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।

মোটরসাইকেলের পার্টস বিক্রয়কারী বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উঠতি বয়সী তরুণরা তাদের মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারে বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী এক ধরনের ডিভাইস সংযুক্ত করেন। তাছাড়া তারা হাইড্রোলিক হর্নও ব্যবহার করেন। সাইলেন্সারে সংযুক্ত এ ডিভাইসের কারণে বিকট শব্দ সৃষ্টি হয়, যা আধা কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।

নগরীর দরগামহল্লা এলাকার বাসিন্দা অধ্যাপক ফরিদ আহমদ জানান, তিনি উচ্চরক্তচাপের রোগী। নগরীতে চলাফেরা করার সময় যখন উচ্চস্বরে হর্ন বাজানো হয়, তখন তার মাথা ঘুরে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে মানুষের শ্রবণশক্তির সহ্য ক্ষমতায় চাপ পড়ে। এতে শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়। এছাড়া শব্দদূষণ মানুষের উচ্চরক্তচাপ, মানসিক অসুস্থতা, স্নায়ুবিক বৈকল্য, আত্মহত্যার প্রবণতা, আক্রমণাত্মক মনোভাবের উদ্রেক বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া শিশুদের মেধার বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল জানান, উচ্চৈঃস্বরে হর্ন বাজানো যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। এভাবে হর্ন বাজানোর কারণে বয়স্কদের হার্টের ক্ষতি হতে পারে। এ ব্যাপারে বিআরটিএ এবং পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এদিকে এসব মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুই দিন ধরে নগরীর ১৬টি পয়েন্টে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। অভিযানে দুই দিনে ৫২টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা (প্রসিকিউশন) করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিকট শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন খুলে ফেলা হয়েছে।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (ট্রাফিক) নিকোলিন চাকমা জানান, শখের বসে অনেকে হাইড্রোলিক হর্ন লাগিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। বিশেষ করে তরুণ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। শব্দদূষণ সৃষ্টিকারী এসব চালকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

গত ২৩ আগস্ট রাজধানী ঢাকায় চলাচলকারী যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৭ আগস্টের পর কোন গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হলে ওই পরিবহন জব্দেরও নির্দেশ দেন আদালত। ওই রিটে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোন যন্ত্র ব্যাবহার করা যাবে না যা শব্দ দূষণের সৃষ্টি করে। কিন্তু আইন ভঙ্গ করে বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিটে এসব হর্ন ব্যবহারকারী যানবাহন জব্দের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: