সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৮, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দেড় দশক ধরে আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ

আবদুর রব, বড়লেখা:: কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইন পুনঃচালু প্রকল্প দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শুধু উদ্বোধন আর আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। এ লাইনে চলাচলকারী ট্রেন ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের সস্তায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ‘লাতুর’ ট্রেনটি আদৌ কি চালু হবে ? রাত-বেরাত আর ভোরে ট্রেনের শব্দে আবার কি স্টেশন অঞ্চলের মানুষের ঘুম ভাঙবে ? এমন প্রশ্নই মুখে মুখে শুনা যাচ্ছে।

২০০২ সালের ৭ জুলাই ঘনঘন দুর্ঘটনার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইনটি বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় রেল লাইনটি সংস্কাপুর্বক চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু শুরু হয়নি কাজ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে একনেকের বৈঠকে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়া হয়। এ খবরে বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো জাগে। কিন্তু একনেকে বিল পাস হওয়ার প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি এ রেল লাইনটির সংস্কার কাজ শুরু হয়নি। এতে চার উপজেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষ চরম হতাশ।

এদিকে সংস্কারের অভাবে রেললাইনের ছয়টি স্টেশনের ভবন ভেঙ্গে পড়েছে। চুরি হচ্ছে ইট, পাত, টিন, গাছগাছলিসহ মূল্যমান জিনিসপত্র। অনেকগুলো স্টেশন ঘর ও মাস্টারের বাসভবন দখল করে দাগী অপরাধিরা গড়ে তুলেছে আস্তানা। প্রভাবশালীরা নানাভাবে দখল করে নিয়েছে রেলওয়ের জায়গা। বেহাত হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

এ সেকশনে পুণরায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে সরকার রেলওয়ের বেহাত হওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করার পাশাপাশি সচল হবে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর রেলস্টেশন। এছাড়া ২৪টি চা বাগানসহ বৃহত্তর বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি পণ্য আমদানী ও যাতায়াতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

স্থানীয় লোকজন ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ৭ জুলাই কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনটি কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দেয়। এতে তৎকালীন সময়ে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছয় থেকে সাত লাখ মানুষ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়েন। সড়কপথে ভাড়া বেশি হওয়ায় এলাকাবাসীর যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর এই ছয়টি রেলস্টেশন স্থবির হয়ে পড়ে। ট্রেন চালুর দাবিতে বিভিন্ন সময়ে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার মানুষ সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে মহাজোটের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন (বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ) অন্যতম প্রতিশ্র“তি ছিল বিজয়ী হলে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ট্রেনলাইন চালু করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী শাহাব উদ্দিন। এরপর ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন নামে একটি প্রকল্প পাস হয়। এই প্রকল্পে রেললাইন পুণঃনির্মাণ, রেলস্টেশনের ভবন সংস্কার, সংকেত ব্যবস্থার উন্নতিসহ ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ১১৭ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এটির পুনর্বাসন কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। এরপর ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়লেখায় সফরকালে স্থানীয় আ’লীগ আয়োজিত জনসভায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন রেল লাইন চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে রেল লাইন চালুর ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে কানেক্টিভিটির আওতায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনে (পুনর্বাসন প্রকল্প সংশোধিত) ফের ট্রেন চালুর লক্ষ্যে মে মাসের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে লক্ষ্যে ৬৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরের ৭ জুন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে এ প্রকল্পেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুলাউড়া-শাহবাজপুর ব্রডগেজ রেল লাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় ১ বৎসর পর ২০১৬ সালের ২৭ জুন ভারতের হাই কমিশনার শ্রী হর্ষবর্ধন শ্রিংলা কুলাউড়া জংশনে এসে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

এরপর একাধিকবার রেলওয়ের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলও পুরো রেললাইন এলাকা জরিপ করে গেছেন। এ সময় তারা রেল লাইনের সেতু, স্লিপার, প্ল্যাটফরম, স্টেশন ভবন, কর্মচারীসহ কোথায় কী লাগবে, তার তথ্যও সংগ্রহ করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ রেল লাইনটির সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এর ফলে বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ১০ লক্ষাধিক হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল লাইনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত আসাম-বেঙ্গল (এবি) রেলওয়ের অর্šÍভুক্ত ছিল। ১৯৬৫ সালে পাকিন্তান-ভারত যুদ্ধের সময় ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়। এরপর ট্রেন চলাচল সিলেট-কুলাউড়া-শাহবাজপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। যা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এলাকাবাসীর কাছে ‘লাতুর ট্রেন’ নামে পরিচিত ছিল।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের কুলাউড়া জংশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) আরফানুর রহমান জানান, ‘ট্রেনলাইন চালুর প্রক্রিয়া চলছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।’

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি বলেন, ‘রেললাইন চালুর অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছি। গত জুনে টেন্ডার ওপেন হয়েছে। শীঘ্র্রই কাজ শুরু হবে।

এ রেলপথটি চালু হলে জ্বলে উঠবে সিগনাল। সচল হবে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর রেলষ্টেশন। ‘লাতুর ট্রেনের’ শব্দে এলাকাবাসীর আবারও ঘুম ভাঙ্গবে। মানুষ চায় এসব ষ্টেশন আবার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠুক। নতুন করে চালু হোক বন্ধ হওয়া লাতুর ট্রেন। এমনটাই সকলের প্রত্যাশা।

 

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: