সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পাবলিক পরীক্ষায় ফের অভিন্ন প্রশ্নপত্র

হাসান শান্তনু ::

ফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চলতি বছর থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিন সকালে স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে ছাপানো হবে। এ বছর থেকে তা কার্যকর করতে না পারলেও আগামী বছর থেকে পদ্ধতিটি অনুসরণের ঘোষণা দেয় মন্ত্রণালয়। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটির এই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সব প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কারণ, আগামী বছর থেকে সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ দুটি পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়ার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। এটি হলে গত আট বছরের মধ্যে এ নিয়ে তিনবার প্রশ্নপত্র বদলের ঘটনা ঘটবে। এরআগে ২০০৯ সালে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়ার পর অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। পরপর চার বছর চালু থাকার পর ২০১৪ সালে সে পদ্ধতি বদলে নতুন করে চালু হয় বোর্ডভিত্তিক আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা।

বারবার প্রশ্নপত্র পদ্ধতি বদলের বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না শিক্ষাবিদরা। তাদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের একের পর এক পরীক্ষামূলক নতুন নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি প্রয়োগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাখাত। বারবার ছন্দপতন ঘটছে শিক্ষাক্ষেত্রে। তারা বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি চার বছর পর্যন্ত চালু রেখে মন্ত্রণালয় আরেকটি পদ্ধতি চালু করে। কয়েক বছর পর আবার আগের পদ্ধতিতে ফিরে যায়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়ছে। অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।

অথচ কিছুতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা যাচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর পেয়েও তা ঠেকাতে না পারার কথা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও বলেছেন। এ জন্য মন্ত্রী কিছু শিক্ষকের অসততাকে দায়ী করেছেন। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে উৎসাহিত করার পেছনে অভিভাবকদেরও দায়ী করেছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তার মতে, ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁসের অপেক্ষায় থাকেন অভিভাবকরা। অবশ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যুক্তি—এক বোর্ডের অধীনে প্রশ্ন ফাঁস হলে শুধু ওই বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা যায়। ভিন্ন প্রশ্ন হওয়ায় সব বোর্ডে তা ছড়িয়ে পড়ে না। এ অবস্থায়ও নতুন করে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীর ফলাফলের বৈষম্য দূর হবে। বোর্ডের আলাদা প্রশ্নপত্রের কারণে ফলাফলে কোনো তারতম্য থাকবে না। এসব দিক বিবেচনা করে অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

তবে সচিবের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হলে এত শিক্ষা বোর্ডের কী দরকার, এ প্রশ্নও আসে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণের বদলে আরো কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। একেক বোর্ড তাদের মতো করে পাঠ্যসূচি যেমন করতে পারে, তেমনি প্রশ্নপত্রও করতে পারে। যেকোনো পদ্ধতিই এত তাড়াতাড়ি পরিবর্তন করা উচিত নয়।

জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডে একটি চিঠি পাঠানো হয় অভিন্ন প্রশ্নপত্র পদ্ধতি চালুর বিষয়ে। এ পদ্ধতিতে ২০১৮ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। চিঠিতে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে তা কমানোর ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠির বিষয়টি আন্তঃবোর্ড সমন্বয় উপ-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে নিশ্চিত করেন।

সূূত্র জানায়, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতি আবার চালু করার বিষয়টির সমালোচনা করেছেন অনেক শিক্ষাবিদ। তারা মনে করেন, শিক্ষার্থী বিবেচনায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংখ্যাও বেড়েছে। আগামী বছর থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয় চিন্তা-ভাবনা না করেই অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু করছে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সঠিক পরিকল্পনা ও শিক্ষাবিদদের পরামর্শেই অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু হচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে ২০১৫ সালের ২৫ ও ২৬ নভেম্বর কক্সবাজারের হোটেল সি-প্যালেসে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ মোট ১৫ দফা সুপারিশ করেন শিক্ষাবিদরা। ওই পরামর্শেই অভিন্ন পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের পুরো প্রক্রিয়া ‘ডিজিটাল’ পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে এইচএসসির প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ২০১৪ সালের ২৯ জুন প্রস্তাব দেয় ওই তদন্ত কমিটি। প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব করে কমিটি। সেই সুপারিশ অনুযায়ী ‘ডিজিটাল’ ব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে পরীক্ষার দিন সকালে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ওই এলাকাতেই প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রিন্টার বসিয়ে কিংবা ওই এলাকার সুরক্ষিত কোনো স্থানে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে।

প্রস্তাবটি এতদিন বাস্তবায়ন না হলেও আগামী বছর থেকে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও জানান। এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গেলে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর কাছে জানতে চান আঞ্চলিকভাবে প্রশ্ন ছাপিয়ে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়ে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী বছর থেকে করতে পারব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগটি এখনো বাতিল হয়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের। এ পদ্ধতি চালুর জন্য মন্ত্রণালয়সহ সারাদেশে যে প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পরীক্ষামূলকভাবে চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিদ্যালয়গুলোর নির্বাচনী পরীক্ষা এ প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে। এর ফলাফল দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: