সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নবীগঞ্জ প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার ‘ভুলে’ ইকবালের মাথায় হাত!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি::
নবীগঞ্জ উপজেলার দত্তগ্রামের একজন ছোট্ট খামারী মাহমুদ ইকবাল। খুব কষ্ট করে কিছু টাকা ধার করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে কিছু দিন আগে পাবনা থেকে নিয়ে আসেন দুটি গাভী। গাভী দুটি নিয়ে ছিল তার অনেক স্বপ্ন। কারন ইকবাল মাহমুদের ডেইরী ফার্মে গাভী থেকে ২৫/৩০ লিটার দুধ পাওয়া যেত। হঠাৎ যেন এক কাল বৈশাখী ঝড় এসে সব উড়িয়ে নিয়ে গেল। এর জন্য তিনি দায়ী করছেন নবীগঞ্জ পশু হাসপাতালের চিকিৎসকে। ঘটনা সর্ম্পকে খামারী মাহমুদ ইকবাল বলেন, “পাবনা থেকে দুটি গাভী কিনে ছিলাম, গাড়িতে অনেক সময় থাকার কারনে গাভী দুইটার জ্বর হয়ে গিয়ে ছিল। ১০৪/১০৫/ ডিগ্রী এর উপরে যায় নি। কিন্তু জ্বর ওটা নামা করত। সকালে কম বিকালে বেশি, বিকালে কম সকালে বেশি, এরকম অবস্থা। স্থানীয় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে বড় স্যারকে নিয়ে আসি চিকিৎসা করতে! উনি দেখে সাত দিনের এন্টিবায়োটিক ডউজ দিলেন। Babenil….10.mlকরে প্রতি দিন, যদিও এই ঔষধ টা সরকারি শিল দেয়া ছিল তার পর ও উনি আমার কাছ থেকে ১২০ টাকা করে নিয়েছেন। সাত দিনের জন্য ১৪ টা উনার কাছ থেকে নিলাম। কারন এটা নাকি বাহিরে পাওয়া যায় না। Keto-A vet.10.ml করে , Renamycin.20.ml করে, Asta vet.10 ml করে সাত দিন দিলাম। গাভী গুলো কিছুটা সুস্থ হল খাবার খেতে লাগল। আমি ও চিন্তা করলাম কিছু দিন গেলে সাভাবিক হয়ে যাবে এর দুদিন পর সকাল বেলা ঘুম থেকে ওটে দেখি একটি গাভির গলা ফুলে গেছে। জ্বর ও ১০৪+ ডিগ্রী ছিল পায়খানা নরমাল ছিল। কি করব বুজতে পারছিলাম না। ডাঃ মসুদ আহমেদ স্যার ও ডাঃ পবিত্র স্পর্শ ভাইকে ফোন দেই এবং ছবি তুলে দেই সবকিছু বলি। উনারা দুজনই বলে এটা গলা ফুলার লক্ষণ এবং দুইজন এন্টিবায়োটিক ঔষধের নাম ও লিখে দিলেন।
আমি বাজারে গিয়ে দেখি ঔষধের ফার্মেসি খোলে নি। চলে গেলাম প্রাণিসম্পদ অফিসে, বড় ডাঃ সাহেব কে বললাম স্যার একটা গাভির গলা ফুলে গেছে আপনি চলেন, একটু দেখে আসবেন, আমার বাড়ি যেতে সময় লাগে ৫/৬ মিনিট মাত্র। উনি বলছে অফিসে অনেক কাজ যাওয়া যাবে না, ‘কি রকম ফুলেছে? সবকিছু বলার পর বললাম স্যার ছবি তুলে নিয়ে আসছি। উনি ছবি দেখে বললেন এটা কলিজা কৃমি ভয়ের কারন নেই, Nitronex, দিয়ে দেন দুটাকেই ঠিক হয়ে যাবে।
আমি বলছিলাম, না স্যার এটা মনে হচ্ছে কলিজা কৃমি নয়, গলা ফুলা। কারন জ্বর ১০৪+। এই কথা বলতেই আমাকে এক ধমক দিয়ে বলছেন এত বেশী বুঝ কেন? যা বলছি তাই করেন। আবার বললাম স্যার ফুলাটা একটু বেশি একবার ভেবে দেখুন। আবার ধমক দিয়ে বললেন ডাঃ হতে চাও তাইনা। আমি যেটা বলি এটা করো নাইট্রোনেক্স চামরার নিচে পুশ করেন। আমি চলে এসে নাইট্টোনেক্স নিয়ে উনাকে দেখিয়ে চলে আসি বাড়িতে। আনুমানিক বারোটার সময় ইনজেকশন পুশ করে দেই। ঘন্টা খানেক পর দেখি গাভির শরীরের তাপমাত্রা বাড়তেছে। যে টা ভাল ছিল ওটার ও তাপমাত্রা ১০৪ হয়ে গেছে। কি করব বুঝতে পারছিলাম না, বিকেল চাঁর টার সময় এই স্যার কে ফোন দিয়ে বলি স্যার নাইট্রোনেক্সের সাথে কি তাপমাত্রার কোন সম্পর্ক আছে উনি বলছেন, না। আমি বললাম তাহলে তাপমাত্রা বাড়তে ছে কেন? উনি বলছেন গাভী কে গোসল করিয়ে দাও, মাথায় পানি দাও বলে ফোন রেখে দিলেন। উনার কথা মত গোসল করিয়ে মাথায় পানি দেই। সন্ধ্যার সময় অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায় দেখে উনাকে বার বার ফোন দিতে থাকি কিন্তু উনি ফোন ধরেননি। পরে মসুদ আহমেদ স্যার কে আবার ফোন করে অবস্থান জানাই। উনি বলেন ঐ ইনজেকশন টা দেয়া হয় নি? আমি বলি না স্যার। উনি বললেন গাভি টি আর বাঁচাতে পারবেন না। সাথে সাথে মসুদ আহমদ স্যারের কথায় ইনজেকশন টা নিয়ে এসে পুশ করার জন্য গোয়াল ঘরে যাই এবং রেডি করি পুশ করার জন্য এই সময় দেখি গাভির মাথা পুরো ফেলে দিছে। ইনজেকশন ফেলে দিয়ে গাভির মাথা টা আমার খুলে নিয়ে বসে যাই ছোট ভাই কে বলি তাড়াতাড়ি পানি দে মাথার পাশে পানি ছিল দেয়া শুরু করল। কিন্তু কাজ হয় নি এক মিনিটে গাভী মারা যায়। সারা রাত একটু ও ঘুমাই নি চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল কোন ভাবেই মনটাকে কে বুঝাতে পারি না এ আমি কি করলাম। কারন অনেক বাধা আপত্তি থাকার পর ও গাভী নিয়ে আসছিলাম। আজ দুদিন হয়ে গেল যখনি সেই ছোট্ট এক মাসের বকনা বাচ্চা টার কাছে যাই ওর গলায় ঝরিয়ে ধরে কান্না শুরু করি। এই লিখা টা লিখার সময় ও আমার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে ছিল যাই হউক। পরের দিন খুজ নিয়ে দেখলাম উনি আসলে ডাক্তার না। মোঃ সামছুল আলম,, বি. এস. সি. এ. এইচ.(বি. এ. ইউ), বি. সি. এস. (পশুসম্পদ) উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা।” উপরোক্ত কথা গুলো বলছিলেন খামারি মাহমুদ ইকবাল। ইতি এরখম ফেসবুকেও পোষ্ট করে আবেগ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই মাহমুদ ইকবালকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে মাহমুদ ইকবাল বলেছেন-” উনি ঋণ নিয়ে খামার গড়েছিলেন। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে তাকে সাহায্যের আহবান জানান সবাইকে।”
এদিকে উক্ত পশু হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইকবাল মাহমুদ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: